আসামে নাগরিকত্ব হারিয়ে আত্মহত্যা করছেন অভিবাসীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মে মাসে তখন রমজান। আশরাফ আলী (৮৮) তার পরিবারের সদস্যদের বলেন, রোজা ভাঙার জন্য খাবার সংগ্রহ করতে যাচ্ছেন তিনি। এই বলে বেরিয়ে গেলেন। আর ফেরেননি। বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। এর আগে নভেম্বরে বারপেতা জেলার সামসুল হক (৪৬) আত্মহত্যা করেন। মার্চে উদলগিরি জেলার দিনমজুর ভাবেন দাস (৪৯) আত্মহত্যা করেন।

আসামে ধীরে ধীরে বাড়ছে অত্মহত্যার এই প্রবণতা। কারণ আসামে ৪০ লাখ মানুষের ভারতীয় নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হয়েছে। রাজ্যটিকে অবৈধ অভিবাসীমুক্ত করার কর্মসূচির আওতায় এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ফলে প্রত্যাবাসনের মুখে পড়ার ভয়ে অনেকেই আত্মহত্যা করেছেন।

দ্য ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেনস (এনআরসি) নামে পরিচিত তালিকাটি ১৯১৫ সালে তৈরি করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল, কারা জন্মসূত্রে ভারতীয় এবং কারা প্রতিবেশী মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব পাকিস্তান থেকে এসেছে তা জানা। গত জুলাইয়ে চূড়ান্ত খসড়া অনুযায়ী আসামের প্রায় ৪০ লাখ মানুষের নাম বাদ পড়ে। চলতি সপ্তাহে কর্তৃপক্ষ জানায়, এনআরসি তালিকা থেকে আরও এক লাখ বাসিন্দা বাদ পড়বেন।

অ্যাক্টিভিস্টরা বলছেন, ২০১৫ সালে নাগরিকত্ব তালিকা হালনাগাদ শুরুর পর নাগরিকত্ব হারিয়ে আটক হওয়ার ভয়ে আত্মহত্যা করেছে বহু বাঙালি মুসলিম ও হিন্দু।

সিটিজেন ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস সংস্থার জমশের আলী এ ধরনের ৫১টি আত্মহত্যার তালিকা দিয়েছেন। ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে হালনাগাদ তালিকার প্রথম খসড়া প্রকাশিত হওয়ার পর সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে।

স্বজনরা বলছেন, এসব মৃত্যুর জন্য এনআরসি কর্তৃপক্ষ দায়ী।

আর এইচ

আগের সংবাদবিজেপি নেত্রী বললেন ‘হিন্দুদের উচিত মুসলিম মেয়েদের গণধর্ষণ করা’
পরবর্তি সংবাদইসলাম গ্রহণ করলেন ৬ অমুসলিম নাইজেরিয়ান কয়েদি