আসামে সরকারি রেকর্ডে ঘাটতি, দুর্ভোগে এনআরসি আবেদনকারীরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আসামে এনআরসিতে তালিকাভুক্তির জন্য যারা তাদের শরণার্থী নিবন্ধন সনদ দাখিল করেছিলেন, তাদের প্রতি ১০০ জনের মধ্যে ৬০ জনের আবেদন বাতিল হওয়ায় এই আবেদনকারীরা এখন বড় ধরনের বিপদের মধ্যে আছেন। সরকারের রেকর্ডে এই নিবন্ধন সনদের সংশ্লিষ্ট নথি না থাকায় এ সব সার্টিফিকেট বাতিল করে দেয়া হচ্ছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।

এনআরসি আপডেট করার কাজে নিযুক্ত এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এই হিসাবটাও একটা মোটামুটি অনুমানভিত্তিক। আসল সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।’

বাঙালি, কোচ, গারো, হাজং এবং দালু সম্প্রদায়ের শরণার্থীদের উত্তরসূরীরা মূলত শরণার্থী নিবন্ধন সার্টিফিকেট জমা দিয়েছিল, যারা এখন পুরো রাজ্য জুড়েই ছড়িয়ে আছে। এনআরসি নিয়ম অনুসারে, যে ১৫ ধরনের দলিল ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে ভারতে প্রবেশের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে, তার মধ্যে শরণার্থী রেজিস্ট্রেশান সার্টিফিকেট অন্যতম। অবৈধ অভিবাসী নির্ধারণের জন্য এই সময়সীমার ভিত্তিতে যাচাই বাছাই হচ্ছে, যেটার উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৮৫ সালের আসাম অ্যাকোর্ডে।

বন্ডার এলাকার বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী ডোরেন সাংমা বলেন, ‘বন্ডা, চন্দ্রপুর এবং পাশের কামরূপ জেলার অন্তত আড়াইশ পরিবারের এক হাজারের বেশি মানুষ এনআরসিতে অন্তর্ভুক্তির জন্য তাদের শরণার্থী নিবন্ধন সার্টিফিকেট জমা দিয়েছে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে তাদের বা তাদের পূর্বসূরীদের ভারতে অবস্থানের প্রমাণ হিসেবে এই একটা দলিলই তাদের কাছে আছে। এদের অনেকের নামই খসড়া এনআরসিতে আসেনি। আমি জানিনা চুড়ান্ত এনআরসিতে কি আছে, আর তিন দিন পরে এটা প্রকাশ করা হবে।’

গারো সম্প্রদায়ের সদস্য সাংমা বলেন, ‘সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার কারণে ১৯৬৪ সালে তার বাবা জয়রাম মারাক ময়মনসিংহ ছেড়ে এসেছিলেন, যেটা এখন বাংলাদেশের অংশ। আসামে তিনি শরণার্থী হিসেবে প্রবেশ করেছিলেন, ছেলে হিসেবে যার সার্টিফিকেটটি তার কাছে এখনও আছে। কিন্তু সাংমা খসড়া এনআরসিতে জায়গা পাননি।’

কিছু হিসেব অনুসারে ষাটের দশক পর্যন্ত পাঁচ লাখের মতো হিন্দু শরণার্থী পূর্ব পাকিস্তান ছেড়ে আসামে বসত গড়েছে। এদের মধ্যে ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগ পরবর্তী অভিবাসীরাও রয়েছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এই মানুষগুলোর মধ্যে বড় একটা অংশ খসড়া এনআরসিতে জায়গা পায়নি কারণ তারা যে শরণার্থী সনদ দাখিল করেছে, সেটার রেকর্ড সরকারি নথিতে নেই। তাছাড়া, অনেকগুলো সনদ নষ্ট হয়ে গেছে, এবং সেগুলো ঠিকমতো বোঝাও যাচ্ছে না, সে কারণে সেগুলো গ্রহণ করা যায়নি।’

আগের সংবাদএনআরসি থেকে বাদ পড়া দরিদ্রদের বিনা খরচে আইনি সাহায্য দেবে আসাম সরকার
পরবর্তি সংবাদজাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ