
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
এনআরসি-র চূড়ান্ত তালিকায় যেসব দরিদ্র মানুষের নাম বাদ পড়বে, তাদের বিনা খরচে আইনি সাহায্য দেবার সবরকম ব্যবস্থা করবে আসাম সরকার। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন আসাম সরকারের অতিরিক্ত মুখ্য সচিব (স্বরাষ্ট্র ও রাজনৈতিক দফতর) কুমার সঞ্জয় কৃষ্ণ।
বিবৃতিতে বলা হয়, যাদের নাম এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়বে, বিদেশি ট্রাইবুনাল তাদের বিদেশি ঘোষণা না করা পর্যন্ত কোনও অবস্থাতেই তাদের আটক করা হবে না। জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষকে সাহায্য করার মাধ্যমে এনআরসি তালিকায় নাম-না-থাকা দরিদ্র মানুষদের আইনি সহায়তার বিষয়ে সবরকম সাহায্য করবে রাজ্য সরকার।’
১৯৪৬ সালের বিদেশি আইনের আওতায় এবং ১৯৬৪ সালের বিদেশি (ট্রাইবুনাল) নির্দেশিকা মোতাবেক কেবলমাত্র বিদেশি ট্রাইবুনালই কোনও ব্যক্তিকে বিদেশি ঘোষণা করতে পারে। ফলে এনআরসি-তে কোনও ব্যক্তির নাম না থাকার কারণে তিনি বিদেশি বলে ঘোষিত হচ্ছেন না। যাদের নাম চূড়ান্ত এনআরসি তালিকায় উঠবে না, তারা ২০০৩ সালের নাগরিকত্ব বিধির ৮ নং তফশিল অনুসারে আবেদন করতে পারবেন। কেন্দ্র ইতিমধ্যেই আবেদনের সময়সীমা ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন করেছে এবং এ সম্পর্কিত সংশোধনীও পাশ হয়ে গেছে।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, বিদেশি ট্রাইবুনালে যাতে আবেদন জানানো যায়, সে কারণে ২০০ বিদেশি ট্রাইবুনাল স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশিকা খুব তাড়াতাড়ি জারি করবে রাজ্য সরকার।এনআরসি আপডেটের কাজ চালাচ্ছে ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেলের অফিস এবং সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ার তত্ত্বাবধান করছে সুপ্রিম কোর্ট।
একমাত্র আসামের জন্য যে এনআরসি প্রক্রিয়া চলছে, তার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে ৩১ অগাস্ট। এর আগের এনআরসি প্রকাশিত হয়েছিল ১৯৫১ সালে। ৩০ জুলাই ২০১৮-য় যে খসড়া এনআরসি তালিকা প্রকাশিত হয়, তাতে ৪০ লক্ষের বেশি আবেদনকারীর নাম বাদ পড়েছিল।
২০১৯ সালের জুলাই মাসে যে তালিকা প্রকাশিত হয়, তাতে বাদ পড়েন এক লক্ষের বেশি।
