
(ইসলামি অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ আলেম, জামিয়া শারইয়্যাহ মালিবাগের সাবেক সহকারী মুফতি, ইথিস ভেঞ্জার্স-এর চিফ অপারেটিং অফিসার ও হেড অব শরিয়াহ মাওলানা ইউসুফ সুলতান। হজরত আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ ইয়াহইয়া রহ.-এর একান্ত স্নেহধন্য ছাত্র ছিলেন। ফাতেহ সাপ্তাহিকী’র বিশেষ আয়োজনে ফাতেহ টিমের কাছে উসতাদকে নিয়ে নিজের স্মৃতির ঢালি খুলে বসেছিলেন। স্মৃতিমাখা সেই আলাপচারিতাকে ফাতেহের পাঠকদের জন্য লেখ্যরূপ দিয়েছেন হামমাদ রাগিব।)
হজরত মাওলানা আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ ইয়াহইয়া রাহিমাহুল্লাহ আমার উসতাদ। শিক্ষাজীবনে আমি যাঁদের দ্বারা অনেক বেশি প্রভাবিত হয়েছি, তিনি তাঁদের অন্যতম। হুজুরের কাছে মুসলিম শরিফসহ আরও বেশকিছু কিতাব পড়েছি। শিক্ষাদানের জায়গাটা থেকে যদি বলি, একজন শিক্ষক হিসেবে কেমন ছিলেন তিনি, তাহলে বেশ কয়েকটা বিষয়ে আলোকপাত করতে হয়।
সর্বপ্রথম অর্থনীতির বিষয়ে যদি বলি, ইসলামি অর্থনীতির প্রেরণা আসলে আমি পেয়েছি হুজুরের কাছ থেকে। যেই সময়টায় মাদরাসার পরিমণ্ডলে অর্থনীতি নিয়ে বেশ একটা আলোচনা হতো না, সেই সময়ে আধুনিক ইসলামি অর্থনীতি বিষয়ে বই লিখেছেন, তাও বাংলা ভাষায়। এটা একটা যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল। যদিও আমরা বইটি হুজুরের কাছ থেকে সরাসরি পড়িনি, কিন্তু তাঁর কাছে অন্য কিতাব পড়ার সময় বিভিন্ন প্রসঙ্গে হুজুরের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিগুলো আমরা জেনে নিতে পারতাম।
হুজুর অনেক সময়ই সমসাময়িক অন্যান্য উলামায়ে কেরাম, যেমন ইউসুফ আল কারজাভি, মুফতি তকি উসমানি—উনাদের মতকে খণ্ডন করতেন, তাদের সঙ্গে দ্বিমত করতেন, তবে সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা বজায় রেখে এবং দলিলিকভাবে। তাঁর এসব আলোচনা আমাদের চিন্তার জগতকে যথেষ্ট সমৃদ্ধ ও উৎসাহিত করেছে।
একটা স্মৃতি বলি। হুজুর একদিন ক্লাসে আলোচনার ফাঁকে বললেন, তোরা জামায়াতকে গালি দিস, কিন্তু জামায়াত না থাকলে বা জামায়াত কর্মতৎপরতা শুরু না করলে ইসলামের রাজনীতির দিকটা ওভাবে আলোচিত হতো না আমাদের কাছে। একইভাবে বিদআতিদেরকে তোরা গালি দিস, কিন্তু বিদআতিরা না থাকলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লামের প্রতি মহব্বতের বিষয়টা ওভাবে আলোচিত হতো না। নবিজির প্রতি ভালোবাসার মূল স্প্রিরিটটা তারা আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয়।
এভাবে একে একে তিনি বাতিল যারা, যাদেরকে আমরা বাতিল মনে করি, তাদের কথা উল্লেখ করে বলেন, সমাজে তাদের উপস্থিতিরও একটা সুফল আছে।
মৌলিকভাবে এই কথার ভেতরে হুজুর উনাদের কনসেপ্ট বা আকিদাগুলোকে ধারণ করতে হবে এমনকিছু আমাদের বুঝাননি, বরং যেই জিনিসটা করেছেন, সেটা হচ্ছে আমাদের চিন্তার জায়গাটাকে, আজকে এই সময়ে এসে আমরা যেটাকে মাইন্ডসেট বলে জানি, সেই জিনিসটাকে তিনি বড় করেছেন। উদার করেছেন। উপর থেকে কোনো জিনিসকে দেখা, বা এখন আমরা যেটাকে হেলিকপ্টার ভিউ বলি, মানে একটা বিষয়কে সামগ্রিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা, থ্রি সিক্সটি ডিগ্রি থেকে দেখা, এই জিনিসটা যেন আমরা শিখে নিতে পারি, হুজুর এই চেষ্টা করেছেন।
এটা একটা উদাহরণ মাত্র। কোনো জিনিসকে গণ্ডির বাইরে থেকে ভাবা, বিশ্লেষণ করা, এই শিক্ষাটা আমরা হুজুরের কাছ থেকে পেয়েছি। সমসাময়িক অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে মাদরাসাগুলো যদি দেখি, নানাভাবে অনেকে, অনেক জায়গায় একীভূত বা এককেন্দ্রিক হয়ে আছে। সেটা হতে পারে রাজনৈতিক, হতে পারে বিভিন্ন গোষ্ঠীকেন্দ্রিক। বা আরও যে কোনোভাবে। আমি সে দিকে যাব না। যেটা বলতে চাই, এই এককেন্দ্রিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে আমাদের এ ধরনের আরও উসতাদের দরকার, যাঁরা আমাদের মাইন্ডসেটকে বড় করবেন এবং বাক্সের বাইরে ভাবতে শেখাবেন।
অর্থনীতির আলাপে ছিলাম। ওদিকেই ফিরে যাই। সম্ভবত আমাদের শরহে বেকায়ার বছরের কথা। বার্ষিক পরীক্ষা শেষে আমি হুজুরের কাছে গিয়ে বলেছিলাম যে, হুজুর আমি আপনার কাছে অর্থনীতি পড়তে চাই। হুজুর বললেন, ওটা তো একদম সহজ বিষয়, তোর জন্য বেশি সময় লাগবে না। তুই দাওরা শেষ করার পর ওগুলো পড়িস। এখন শুধু যে কিতাবগুলো এ বছর পড়া হয়েছে, সেগুলো আবার নতুন করে একবার দেখ। এগুলো বাদ দিয়ে অর্থনীতি বিষয়ে এখনই মাথা ঘামানোর দরকার নাই, ওগুলো তুই এম্নিতেই পারবি।
হুজুরের এই কথা তাৎক্ষণিকভাবে আমাকে একটু নিরাশ করেছিল তখন, কারণ আমার খুব ইচ্ছা ছিল হুজুরের কাছে অর্থনীতি পড়ব। এবং বাস্তব কথা যেটা, আমি এর আগে অর্থনীতির বইটা বেশ কয়েকবার উল্টেপাল্টে দেখেছি, কিন্তু কনসেপ্টগুলো বুঝতে বেশ অসুবিধা হচ্ছিল, সেজন্যই হুজুরের কাছে যাওয়া। কিন্তু একই সাথে হুজুরের কথা আমাকে যথেষ্ট অনুপ্রাণিত করেছে এই জায়গা থেকে যে, আসলে বিষয়টা আমাদের জন্য খুব একটা কঠিন হবার কথা না। কারণ, আধুনিক রূপায়নে ইসলামি অর্থনীতি বলতে আমরা যেটাকে বুঝি, সেটার মূল কনসেপ্টগুলো আমাদেরই কিতাবগুলোতে দিয়ে দেওয়া আছে। শুধুমাত্র আধুনিক বিষয়াবলির সাথে তা মিলিয়ে দেখতে হবে, এই যা। এর জন্য খুব বেশি মাথা ঘামানোর দরকার নেই। শুধু প্রয়োজন জানা ও গবেষণার আগ্রহ বা ইচ্ছা।
এই প্রসঙ্গে আরেকটা স্মৃতি মনে পড়ে গেল। একদিন ক্লাসে কথার ফাঁকে হুজুর বললেন, তোদেরকে মানতেক পড়ানো হয় এমনভাবে যে, তোদের কাছে হয়তো মনে হয়, এটার সাথে দুনিয়ার কোনো সম্পর্ক নাই। কিন্তু আসলে মানতেকের সাথে আধুনিক যুক্তিবিদ্যা বা আধুনিক বাজারের যথেষ্ট মিল আছে। মানতেক পড়াতে হবে বাজারের কথার সাথে মিলিয়ে। যেন মনে হয় যে, না, এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
হুজুরের এই কথাটাকে আমি আমার আজকের জায়গাটা থেকে যখন উপলব্ধি করি, বুঝি, হুজুরের কথাটা কতটা তাৎপর্যপূর্ণ ছিল। হুজুর মূলত যেটা বলতে চেয়েছেন, সেটা হলো—আমরা যে বিষয়টাই পড়াই না কেন, সেটার ব্যবহারিক রূপটা যেন অবশ্যই সামনে আসে। সেটা যদি সামনে না আসে, তাহলে এই বিষয় পড়ানোটা ছাত্রদের কাছে একটা অবাস্তব বিষয় মনে হবে এবং তারা এটাতে কোনো আগ্রহবোধ করবে না৷ একই সাথে বিষয়টাকে তারা প্রয়োগ করতে পারবে না।
আরেকটা স্মৃতি মনে পড়ছে হুজুরের। হুমায়ূন আহমেদ সাহেব, আল্লাহ উনাকে রহমত করুন, তিনি একটা লেখা লিখেছিলেন ‘কাবা শরিফে মাদার মেরির ছবি’ এই ধরনের শিরোনাম দিয়ে। লেখাটা যখন প্রকাশিত হয়, সম্ভবত আমি তখন ইফতা পড়ছি। লেখাটা পড়ে আমার মনে দাগ কাটে। আমি বিষয়টাকে আরও গভীরভাবে তলিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিই। ফলে আট-দশ পৃষ্ঠার একটা লেখা তৈরি হয়ে যায়। লেখাটা হুজুরের কাছে নিয়ে যাই। এটাই ছিল আমার জীবনের প্রথম লেখা। এর আগে, আমাকে যে লিখতে হবে, এই বিষয়টা ভাবনায় আসেনি।
হুজুর সময় করে লেখাটা পড়েন এবং মন্তব্য করে বলেন, তোর মাঝে একটা জিনিস আছে, তুই যেকোনো বিষয়ের গভীরে ঢুকে যেতে পারিস। তারপর হুজুর আমাকে যথেষ্ট সাহস দেন। যদিও লেখাটা পরে দৈনিক ইনকিলাবে অনেক সংক্ষিপ্তভাবে প্রকাশিত হয়, কিন্তু হুজুরের মন্তব্যের কারণে লেখাটা আমার জন্য যথেষ্ট অনুপ্রেরণাদায়ক ছিল।
অনুপ্রেরণার সেই জায়গা থেকে হুজুরের আরেকটা বিষয় আমি বুঝতে পারি, যে, হুজুর নিজেও গভীরতাকে পছন্দ করতেন। ভাসাভাসা কোনো জিনিসকে পছন্দ করতেন না। এবং এজন্য হুজুর যখন কোনো বিষয়ে আলোচনা করতেন, বিষয়টাকে গভীর থেকে তুলে আনতেন। আমি আগেই যেটা বলেছি, আউট অব দা বক্স, বাক্সের বাইরে থেকে চিন্তা করা, হুজুর সেটা ছাত্রদেরকে শেখাতেন, এবং নিজেও এভাবে চিন্তা করতেন। হুজুর যখন কোনো বিষয়ে এরকম আমাদের কাছে বলতেন, আমাদের কাছে মনে হতো, বিষয়টা এভাবেও ভাবা যায়!
বর্তমান সময়ে এসে আমি যখন চিন্তা করি যে, আমি ইসলামি অর্থনীতির দিকটায় কেন এসেছি, তখন হুজুরের এসব কথা, হুজুরের ক্লাস, হুজুরের বই, মুসলিম শরিফের দরসে হুজুরের প্রাজ্ঞতাপূর্ণ আলোচনা থেকে যে অনুপ্রেরণা পেয়েছি, সেটাই ভেসে ওঠে চোখের সামনে।
আমার খুব ইচ্ছা ছিল, হুজুরের সঙ্গে আমার বর্তমান সময়ের কর্মতৎপরতাগুলো শেয়ার করব, কিন্তু আমার অত্যন্ত বদনসিব, শেষবার যখন আমি শুনেছি হুজুর অসুস্থ, তখন পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে একটু দৌড়াদৌড়িতে ছিলাম, হুজুরের সঙ্গে দেখা করতে পারিনি। আমার তখন কল্পনায়ও আসে নাই যে, এটাই শেষ সময় হুজুরের সঙ্গে দেখা করার। তারপরেই দুঃসংবাদ পেলাম।
হুজুরের সঙ্গে শেষ দেখা করতে না পারার আফসোস আমার সারা জীবন থাকবে।
অবশ্যি বাইরে যখন আসছি, হুজুরকে এটা জানিয়েছি। কিন্তু পরবর্তী সময়ে হুজুরের সাথে বিভিন্ন কনসেপ্ট নিয়ে আপডেটের আলোচনা করার ইচ্ছে ছিল, হুজুর এতে বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে কীভাবে এটাকে বাংলাদেশের মানুষের কাছে আমরা তুলে ধরতে পারব, সে ব্যাপারে নিশ্চয় অনেক দিকনির্দেশনা দিতে পারতেন আমাদের। কারণ, এ বিষয়ে হুজুরের অভিজ্ঞতা ভরপুর ছিল। কিন্তু সে সুযোগ আমার হয়নি।
হুজুরের ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন আমার খুব বেশি দেখা হয়নি৷ সে বিষয়গুলো অন্যরা নিশ্চয় বলতে পারবেন। তবে দেখেছি, অন্য দশজন বাবার মতো হুজুর একজন দরদী বাবা ছিলেন। পরিবারের দরদী অভিভাবক ছিলেন। হুজুরের ছোটভাই হজরত মাওলানা নজরুল ইসলাম হাফিজাহুল্লাহ, তিনিও আমার শিক্ষক। তাঁর কাছ থেকেও আমরা তাঁর বড়ভাইয়ের সম্পর্কে অনেক কথা শুনেছি।
সবদিক মিলিয়ে হুজুর যথেষ্ট কর্মতৎপর এবং সচেতন একজন মানুষ ছিলেন। আমি যখন মালিবাগ জামিয়ায় ভর্তি হই, তখন হুজুর ভাইস প্রিন্সিপাল ছিলেন। সেই জায়গা থেকে দেখেছি, হুজুরের কর্মতৎপরতার বিভিন্ন দিক। আমার মনে হয়, আমরা হুজুরকে হারানোর মাধ্যমে বাংলাদেশের অপূরণীয় একটা ক্ষতি হয়েছে, একটা আসন শূন্য হয়েছে, যেটা অন্য কেউ পূরণ করবার মতো নয়।
বাংলাভাষাকে মাদরাসায় প্রতিষ্ঠা করার জন্য হুজুর কাজ করে গেছেন, যেটা সবারই মোটামুটি জানা। মাদরাসার ছাত্ররা যেন বাংলাভাষায় লিখতে পারে, পরীক্ষা দিতে পারে, এই বিষয়েও হুজুর যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছেন।
আরেকটা বিষয়। বেফাকে হুজুরের সংশ্লিষ্টতা ছিল, সকলেই জানেন। হুজুর বিভিন্নসময় বেফাক সংশ্লিষ্ট বিষয়-আশয়ও আমাদের সঙ্গে শেয়ার করতেন। বেফাককে কীভাবে আর্থিকভাবে এটাকে লাভবান করা যায়, এটা নিয়ে হুজুরের সুদূরপ্রসারী চিন্তা ও স্বপ্ন ছিল। স্বপ্নটা যে অবাস্তব ছিল এমন নয়, সম্পূর্ণ বাস্তবতার নিরিখে ছিল। কারণ হুজুর যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে বেফাকের সাথে সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাঁর জানা ছিল যে আমরা এভাবে এভাবে প্রতিষ্ঠানটাকে লাভজনক করে তুলতে পারি। প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে টেকসই করা যায়, সে নিয়ে হুজুরের বিস্তর ভাবনা ছিল। এবং ভাবনাগুলো বাস্তবসম্মত ছিল।
হুজুর সে ভাবনাগুলোর হয়তো কিছু বাস্তবতায় রূপদান করতে পেরেছেন, কিছু পারেননি। তার আগেই চলে গেছেন পরকালের ঠিকানায়। তাঁর জায়গায় বর্তমানে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁদের কাছে আমাদের আশা থাকবে, হুজুরের যে স্বপ্ন ছিল, সেই স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নে তাঁরা যেন কাজ করেন। বা আরও ভালোভাবে কাজ করার চেষ্টা করেন। সবাই মিলেই যেন আমরা আমাদের এই দেশকে, সমাজকে, আমাদের মাদরাসাগুলোকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে উন্নত করার চেষ্টা করি।
হুজুরের বিভিন্ন সেমিনারে আমার যাওয়া হয়েছে৷ আমি দেখেছি, আধুনিক বিষয়গুলোকে হুজুর যেভাবে উপস্থাপন করতেন, সেটা ছিল অনন্য৷ অন্যসকল বক্তা কোনো কোনো সময় নির্ধারিত বিষয়ের বাইরে অনেক বিষয় আলোচনা করেন, কিন্তু হুজুরের আলোচনাগুলো থাকত নির্ধারিত বিষয়ের ভেতরে এবং তাৎপর্যপূর্ণ ও গবেষণালব্ধ। উপস্থিত সকলেই তাঁর আলোচনাগুলো শুনে যথেষ্ট উপকৃত হতেন। এবং এজন্যই অধিকাংশ ক্ষেত্রে হুজুরকে সবার শেষে বা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আলোচনায় দেওয়া হতো, যেন সব শ্রোতা তাঁর আলোচনা শুনতে পারেন।
হুজুরকে নিয়ে আমাদের অনেক স্মৃতি, যেহেতু তাঁর মাদরাসায় তাঁর ভাইস প্রিন্সিপাল থাকাকালে আমরা পড়েছি, তাঁর শিক্ষকতার জমানা পেয়েছি। এর মধ্য থেকে খুব সামান্য কিছু স্মৃতি শেয়ার করলাম। হুজুরের সঙ্গে আমাদের এই স্মৃতিগুলো নিয়ে বাকি জীবন পার করতে চাই। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা হুজুরকে জান্নাতুল ফিরদাউস দান করুন।
