
আবুল ফাতাহ মুহাম্মদ ইয়াহইয়া :
‘জেগে উঠো হে ঘুমন্ত শতাব্দী!
জেগে উঠো আরেকবার;
আতঙ্কে ঘেরা ভয়াল রজনীর শামিয়ানা ফেঁড়ে,
দিয়ে হায়দারী হুঙ্কার,
মুছে নিদ্রালো চোখ তব,
জেগে উঠো না আরেকবার!
কুয়াশার রজনী শেষ হবে,
পিছনে অসংখ্য বালুচর পড়ে রবে,
বিরান বসতি আর মৃত জনপদগুলো
তোমার পদধ্বনি শুনে জেগে উঠার প্রেরণা পাবে।
নিশ্ছিদ্র অমানিশার নিস্তদ্ধ রজনীতে.
পশ্চিমা ঝড়ের পূর্বাভাস দেখে;
শঙ্কিত চিত্তে আমি উঠে দাঁড়ালাম।
ঘূমন্ত মানুষের বস্তিগুলো ঘুরে ঘুরে,
তাদের জাগাবার প্রাণান্ত প্রয়াস নিলাম।
তবুও তারা জাগল না।
দুর্যোগের কালমেঘে ছেয়ে থাকা আকাশে,
ডুবন্ত সৌভাগ্য-সূর্যের শেষ রশ্মিটুকু দেখে
আহত পাখির মত আমি বিমর্ষ বেদনায় ভেঙ্গে পড়লাম।
শ্বাপদ সঙ্কুল প্রান্তরে দেশ-দেশান্তরে ঘুরে ঘুরে,
আগত রজনীর ভয়াবহ ছবি এঁকে তাদেরে দেখালাম।
তবুও তারা জাগল না।
কালের নৃশংস থাবায় বিধ্বস্ত সমাজের,
অসহ্য গতিহীন স্থবিরতা আর অচঞ্চল চিত্ত দেখে;
প্রতিটি মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটে বেড়ালাম,
আমার সকল আবেগ উজাড় করে দিয়ে
হৃদয়ের আহত কান্নাগুলো তাদেরে শুনালাম।
তবুও তারা জাগল না।
আত্মবিস্মৃত জাতির পলায়নপর গতিবিধি
আর ভীত-শঙ্কিত জড়োসড়ো ভাব দেখে,
আমি আক্ষেপে ফেটে পড়লাম;
ইতিহাসের পুরানো পাাতাগুলো চষে চষে,
দিগি¦জয়ী কাফেলার বিজয়গাথা তাদেরে শুনালাম।
তবুও তারা জাগল না।
বিশ্বাসহীনতার রোগে ক্ষয়ে যাওয়া এই সমাজের
হীনমন্যতা ও স্থিতিশীলতার অভাব দেখে
আমি তাদেরে প্রত্যয়ী চেতনার গান শুনালাম।
বহু পরাজিত সর্বস্বহারা রাজ-রাজড়াদের
হারানো রাজ্য পুনঃ বিজয়ের কাহিনী শুনালাম।
তবুও তারা জাগল না।
ভয়াবহ ধ্বংসের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েও,
তাদের নির্জীব প্রাণে চেতনা জাগলা না দেখে,
আমি পাগলের ন্যায় ব্যাকুল হয়ে ছুটাছুটি করলাম,
একটি বারের তরে জেগে উঠতে অনুরোধ করলাম।
তবু তারা জাগল না।
তবু তাদের ঘুম ভাঙ্গল না।
এক দুই করে নামবে মিছিলের ঢল,
ঘন হবে আলোর সন্ধানী মানুষের কোলাহল,
পৃথিবী আবার ফিরে পাবে ভরা যৌবনে,
আলোকিত সভ্যতার সন্ধানে।
