ইয়াসিনই ছিল বিধবা মা ও প্রতিবন্ধী ভাইদের শেষ আশা

ফাতেহ ডেস্ক :

রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও বেগুনবাড়ী জামিয়া ইসলামিয়া মাদরাসার বাস দুর্ঘটনায় নিহত চার ছাত্রের একজন ইয়াসিন আরাফাত। বয়স আনুমানিক ২২ বা ২৩। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শরহে বেকায়া জামাতের ছাত্র ছিল সে। তার পরিবার চূড়ান্ত পর্যায়ের দরিদ্রতায় বসবাস করছে। তার মৃত্যুতে পরিবারের শেষ আশাটুকুও হারিয়ে গেল। ফাতেহ টুয়েন্টি ফোরের বিশেষ অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এসব তথ্য ।

‘অন্যের বাড়ি কাজ করে তার বয়স্ক মা যে সামান্য পয়সাটুকু পেতেন, তা দিয়েই চলত ইয়াসিনের পড়ালেখা, প্রতিবন্ধী দুই ভাই আর ছোট্ট বোনের জীবনের চাকা। বাবা আগেই মারা গেছেন। বিরাট স্বপ্নের শক্তিতেই তার মা এই চাকা ঘুরিয়ে যাচ্ছেন বহুদিন ধরে—ইয়াসিন একদিন বড় হয়ে মুমূর্ষ পরিবারের হাল টেনে ধরবে। কিন্তু মায়ের সেই আশা আর পূরণ হলো না।সে চলে গেলো অনেক দূরে।’ বলছিলেন তার গ্রামের আত্মীয় ও ক্যান্টনমেন্ট আহমদিয়া মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা ইয়াকুব আলী।

তিনি ফাতেহকে আরও জানান , ‘তার বাবা অনেক আগেই ইন্তেকাল করেছেন। প্রতিবন্ধী দুই ভাই কাজ করতে অক্ষম। সবসময় ঘরেই পরে থাকতে হয় তাদের। আর মাদরাসায় পড়ুয়া ছোট বোনটির বয়স আনুমানিক ৯ । ঘর বলতে আছে তাদের মোটে একটি ছোট চালাঘর। চারপাশে টিন দাঁড় করিয়ে একরকম মাথা গোঁজার ঠাই। আর ঘরের ছোট্ট এক চিলতে জায়গাটাও শশুরের। নিজেদের কেনা নয়।’

তার মায়ের বুকে এখন পাহাড় চেপে বসেছে, কী করবেন তিনি? তার আশা আর স্বপ্নের আলো চিরতরে নিভে গেলো। ইয়াসিন একসময় এই অসহায় পরিবারের হাল ধরবেন, প্রতিবন্ধী ভাই ও বোনের দায়িত্বগ্রহণ করবেন, এই ছিল তার আশা। প্রাপ্তবয়স্ক সন্তান ইয়াসিনকে হারিয়ে বিধমা মা ভেঙ্গে পড়েছেন। এখন কার হাতে তুলে দিবেন এই দুর্দশাগ্রস্থ সংসারের হাল, তার কাছে এই প্রশ্নের কোন উত্তর নেই।

আগের সংবাদঐক্যবদ্ধ হয়ে করোনা মোকাবেলা করবো: সার্ক ভিডিও কনফারেন্সে শেখ হাসিনা
পরবর্তি সংবাদকরোনা ভাইরাস : আত্মঘাতী হামলা বন্ধসহ ইসলামিক স্টেটের বিশেষ নির্দেশনা