ঈদে ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ যাত্রা

ফাতেহ ডেস্ক

ঈদকে সামনে রেখে কেরানীগঞ্জের ডকইয়ার্ডগুলোতে চলছে লঞ্চ মেরামতের মহাযজ্ঞ। জোড়াতালি দিয়ে ধারণক্ষমতার বাইরে নির্দিষ্ট আকার থেকেও বড় করা হচ্ছে পুরনো লঞ্চগুলো। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব নৌযান ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে ঈদযাত্রা। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ফিটনেসবিহীন লঞ্চ চলাচল এবং অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন তারা।

ঈদুল ফিতর সামনে রেখে কেরানীগঞ্জের ডকইয়ার্ডগুলোর শ্রমিকদের এখন দম ফেলার ফুরসত নেই। ৩৩টি ডকইয়ার্ডের প্রতিটিতেই চলছে পুরনো লঞ্চ মেরামতের কাজ। লঞ্চমালিকরা বলছেন, নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবেই এসব মেরামত করা হচ্ছে। তাছাড়া ফিটনেস আছে কিনা তা দেখার জন্য সরকারের সংস্থা রয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সার্ভেয়ারের সংখ্যা কম থাকায় সব নৌযান সময়মত সার্টিফিকেট পাচ্ছে না। আর এই সুযোগে অনেক লঞ্চমালিক সুযোগ নেন বলে মনে করেন তারা। আসন্ন ঈদ মৌসুমে দুর্ঘটনার শঙ্কার কথা তুলে ধরে এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কার্যকরী ভূমিকা চান তারা।

বুয়েটের প্রভাষক মো. ইমরান উদ্দিন বলেন, সার্ভেয়ার সংখা বাড়াতে হবে। এছাড়াও, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।

অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ বলছে, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে যে কোনো অনিয়মের বিপরীতে জিরো টলারেন্সে আছেন তারা।

বিআইডব্লিউটিএ-এর চেয়ারম্যান মাহবুল-উল ইসলাম বলেন, “ফিটনেস ছাড়া আমরা কোনো লঞ্চ চলাচল করতে দেবো না। ফিটনেসবিহীন নৌযানগুলোর প্রতি আমরা সর্বোচ্চ কঠোরতা অবলম্বন করব। সার্ভে সনদ ছাড়া এবার কোনো লঞ্চকে ঘাটে ভিড়তে দেয়া হবে না। যে মাস্টাররা লঞ্চ চালাবেন, তাদের সার্টিফিকেটও চেক করে দেখা হবে। সবকিছু তদারকির জন্য সার্বক্ষণিক নৌ-পুলিশের পাশাপাশি কোস্ট গার্ড দায়িত্ব পালন করবে।”

ঈদের সময় তাড়াহুড়ো করে অতিরিক্ত যাত্রী হয়ে লঞ্চে না ওঠার পাশাপাশি সকলকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। এছাড়া এবার যাত্রীবাহী লঞ্চে কোনো ধরনের মটর সাইকেল এবং কোনো ভারী মালামাল বহন করা যাবেনা।

আগের সংবাদঈদের পর আন্দোলনের প্রস্তুতি নেয়ার আহ্বান ডা. জাফরুল্লাহর
পরবর্তি সংবাদআবারও বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত