উদীয়মান পাঁচ তরুণ লেখককে নিয়ে নবধ্বনির বিশেষ সান্ধ্যভোজ অনুষ্ঠিত

মুসান্না মেহবুব 

তরুণদের মাসিক কাগজ নবধ্বনি আজ (৬ মার্চ) বুধবার রাজধানীর পল্টন এলাকায় বার্ডস আই চায়নিজ রেস্টুরেন্টে বাছাইকৃত উদীয়মান পাঁচ তরুণ লেখককে নিয়ে এক সান্ধ্যভোজের আয়োজন করে।

সান্ধ্যভোজে আমন্ত্রিত পাঁচ তরুণ লেখক—কাউসার মাহমুদ, হাসান ইনাম, সালমান সাদ, হাসিব ইমতিয়াজ, যিয়াদ বিন সাঈদ—এর সঙ্গে এ সময় বিশেষ মতবিনিময় করেন নবধ্বনির নির্বাহী সম্পাদক ও কথাসাহিত্যিক সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর, সহকারী সম্পাদক হামমাদ রাগিব এবং অপর সহকারী সম্পাদক নাজমুস সাকিব।

কথাসাহিত্যিক সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর আমন্ত্রিত পাঁচ তরুণকে উদ্দেশ করে বলেন, নবধ্বনি ভিন্নমাত্রার মাসিক কাগজ, এবং তা কেবল তরুণদের জন্যই। আপনারা নিয়মিত লিখছেন নবধ্বনিতে এবং চমৎকার লিখছেন, নবধ্বনি কর্তৃপক্ষের মনে হয়েছে আপনাদের ভেতর স্বপ্ন ও সৃজনশীলতা খলবল করছে, এবং জাতিকে আপনারা সুন্দর কিছু উপহার দিতে চাচ্ছেন শিল্প-সাহিত্যের এই কণ্টকাকীর্ণ পথে হেঁটে, তাই দুর্গম পথে আপনাদের সুন্দর এ অভিযাত্রায় নবধ্বনি সাহস যোগাতে চায় এবং বেড়ে ওঠার এই সময়টায় সর্বাত্মকভাবে আপনাদের সহযোগিতা করতে আগ্রহী—আপনাদেরকে এই আশ্বাস ও প্রতিজ্ঞাটুকু দেবার জন্যই মূলত আজকের এ আয়োজন।

এ সময় পাঁচ তরুণই উচ্ছ্বসিত হন নবধ্বনির এ উদ্যোগ ও আন্তরিকতায়। গল্পকার ও কবি কাউসার মাহমুদ বলেন, আমার বেড়ে ওঠার পুরো সময়টায় আমি যেখানে পড়াশোনা করেছি–আমার মাদরাসা ছাড়া এমন প্রেরণা ইতিপূর্বে কোথাও কখনও পাইনি। আমাদের অঙ্গনে কত নবীন লেখালেখি করছেন, বেড়ে উঠছেন, কিন্তু আনুষ্ঠানিক কিংবা প্রাতিষ্ঠানিকভাবে তাদের পেছনে কেউ কখনও এমন উদ্যোগ নিয়েছে বলে আমার জানা নেই। নবধ্বনিই বোধহয় প্রথম এবং ব্যতিক্রম। নবধ্বনির এ উদ্যোগে আমি আপ্লুত। লেখালেখিতে আমার আজীবনের কৃতজ্ঞতা নবধ্বনির জন্য সমর্পিত রইল।

গল্পকার হাসান ইনাম বলেন, নবধ্বনি আজ যে সম্মানে আমাদের বিশেষত আমাকে ভূষিত করল, আদৌ আমি এ সম্মানের যোগ্য ছিলাম না। আমি গর্ববোধ করছি নবধ্বনির ব্যতিক্রমী এ আয়োজনে আমাকে সম্মানিত করায়।

গল্পকার সালমান সাদ বলেন, নবধ্বনিতে আমি লিখতে পেরে এম্নিতেই গর্ববোধ করি, তার উপর আজকের এই সম্মান—আমি খুবই সম্মানিত ও প্রাণিতবোধ করছি। ব্যক্তিগতভাবে আমার লেখালেখিতে নবধ্বনির অবদান অনেক, কারণ এখন পর্যন্ত আমি যে গল্পগুলো লিখেছি প্রায় সবগুলোই নবধ্বনিকে উপলক্ষ করে। আর এজন্য গল্পে এমন কোনো সংলাপ, চরিত্রায়ন কিংবা শব্দের অবতারণা আমি করতে পারি না, যেগুলো ইসলামি শরিয়াহ বা আমাদের শেকড়ের সঙ্গে যায় না। নবধ্বনি আমাকে শেকড়ের সঙ্গে আঁকড়ে থাকতে প্রতিনিয়ত অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছে।

ভোজনপর্ব শেষে আমন্ত্রিত এ পাঁচ তরুণকে নবধ্বনিতে লেখালেখির জন্য বিশেষ সম্মানী এবং নবধ্বনির অঙ্গপ্রতিষ্ঠান নবপ্রকাশের সৌজন্যে বই ও উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়। উপহারসামগ্রী তাঁদের হাতে তুলে দেন নির্বাহী সম্পাদক সালাহউদ্দীন জাহাঙ্গীর, সহকারী সম্পাদক নাজমুস সাকিব এবং হামমাদ রাগিব।

আগের সংবাদমাওলানা মাসুদ আজহারের ভাই ও ছেলেসহ আটক ৪৪
পরবর্তি সংবাদসিরিয়া থেকে ৫০ টন স্বর্ণ নিজ দেশে পাচার করল মার্কিন সেনাবাহিনী