উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়

ফাতেহ ডেস্ক

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগ যেন পিছু ছাড়ছে না বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইমামুল হকের।

২০১৭ সালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক হয়ে ভিসিকে অপসারণে রাজপথে নেমেছিলেন বরিশালের সুধী সমাজ। এর দুই বছরের মাথায় ফের ভিসির পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রতি বছর স্বাধীনতা দিবসে পছন্দের মানুষদের সঙ্গে নিয়ে খাওয়া-দাওয়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইমামুল হক। কিন্তু বরাবরই সেই পছন্দের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীরা।

কিন্তু, এ বছরের আয়োজনে তাদের সাথে রাখার দাবিতে বিক্ষোভ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। আর এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বিক্ষোভকারীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে কটূক্তি করেন উপাচার্য। এর প্রতিবাদে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে উপাচার্যের ক্ষমা চাওয়াসহ পাঁচ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা তাদের নানা ক্ষোভের কথা তুলে ধরে জানান, ‘এখনও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একটা আইডি কার্ড আমাদের নামে ইস্যু করতে পারেনি। আবার অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, উপাচার্য নাকি ১১ লাখ টাকার শুধু চা খেয়েছেন সে হিসাবও আমাদের হাতে এসেছে।’

তবে, শিক্ষার্থীদের নয়, স্বাধীনতা বিরোধীদের উদ্দেশ্য করে একথা বলেছেন বলে জানান ইমামুল হক।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমামুল হক বলেন, ‘যারা স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান হতে দিতে চায়না তাদের আমি কি বলে আখ্যায়িত করতে পারি? তারা কি স্বাধীনতার পক্ষে না তারা রাজাকারের পক্ষে। এটাই ছিল আমার বক্তব্য।’

পরে বুধবার মধ্যরাত থেকে ক্যাম্পাস বন্ধ ঘোষণা করে বৃহস্পতিবারের মধ্যে শিক্ষার্থীদের হল ত্যাগের নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে, এই আদেশ উপেক্ষা করে হলেই অবস্থান নিয়ে উপাচার্যকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে তার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘ভিসি স্যারকে আমরা এই ক্যাম্পাসে অবাঞ্চিত ঘোষণা করেছি, তিনি ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে পারবেন না। এই অবৈধ এবং স্বৈরচার ভিসিকে আমরা মানিনা।’

ভিসির অপসারণ সম্পর্কে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেন, তিনি আমাদের সঙ্গে স্বৈরাচারী ব্যবহার করেছেন তাই আমরা তার অপসারণ চাই।’

সবশেষ শুক্রবার রাতে, রাজাকার বলায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য।

এর আগে, ২০১৭ সালে তার বিরুদ্ধে নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ এনে আন্দোলন করে জেলার সুধী সমাজ। এ বিষয়ে, বরিশাল আইনজীবি সমিতির সাবেক সভাপতি এস এম ইকবাল বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ছিল।’

এদিকে, ২০১৭-১৮ এবং ১৮-১৯ অর্থবছরে উপাচার্য ও তৎকালীন ট্রেজারারের বিরুদ্ধে ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও ২৫ লাখ টাকা ক্ষতিসাধনের দাবি করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অডিট কমিটি।

তবে, এসব অভিযোগ ষড়যন্ত্র বলে দাবি করেছেন উপাচার্য ড. ইমামুল হক।

আগের সংবাদচকলেটের লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ, যৌনাঙ্গে মিলল লোহার নাট
পরবর্তি সংবাদ১ জুলাই থেকে কার্যকর হতে যাচ্ছে নতুন ভ্যাট আইন