
ফাতেহ ডেস্ক :
ইসলামবিরোধী শক্তিকে রুখতে উলামায়ে কেরামকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী। ১৯ অক্টোবর শনিবার কামরাঙ্গীরচর জামিয়া নূরিয়া ইসলামিয়া মিলনায়তনে ‘চলমান সংকট নিরসনে জাতীয় ঐক্য গঠন শীর্ষক সংলাপে’ সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। উক্ত সংলাপে দেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম উপস্থিত ছিলেন।
আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জী বলেন, বাংলাদেশে হঠাৎ করে কাদিয়ানি, ইস্কন প্রভৃতি সংগঠনগুলো তাদের ইসলামবিরোধী তৎপরতা বাড়িয়েছে। দীনের প্রচার-প্রসার করতে গিয়ে উলামায়ে কেরাম নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এমনকি গুমেরও শিকার হচ্ছেন। ওয়াজ মাহফিলের জন্য অনুমতির নামে তাদের উপর তদারকি ও হয়রানি চলছে। মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে এমন পরিস্থিতি মেনে নেয়া যায় না। ইসলামবিরোধীদের এ অতৎপরতারোধ এবং মুসলমানদের ঈমান-আমল হেফাজতে উলামায়ে কেরামকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
সেইসাথে তিনি বিশ্বব্যাপী ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এবং দেশে দেশে মুসলিম নির্যাতনের কথাও বলেন।
আ ফ ম আকরাম হুসাইন সঞ্চালিত সংলাপে বক্তব্য রাখেন মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়া, মুফতি শায়খ উসমান গণী, মাওলানা মোখলেছুর রহমান কাসেমী, মাওলানা আতাউর রহমান আতিকী, মাওলানা রজীবুল হক, মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা এনামুল হক মূসা, মুফতি আফজাল হুসাইন, মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী, মুফতি আ ফ ম আকরাম হুসাইন, মুফতি যুবায়ের গণী, মাওলানা আমীর আহমাদ, মুফতি ওযায়ের আমীন, মুফতি সুলতান আহমাদ, মুফতি ওমর ফারুক যুক্তিবাদী, মুফতি শামসুদ্দীন বড়াইলী, মাওলানা আব্দুল হাফিজ মারূফ, মুফতি আখতারুজ্জামান আশরাফী, মাওলানা ইসমাঈল হুসাইন সিরাজী প্রমুখ।
সংলাপে আলোচকগণ সন্দেহজনকভাবে ইমাম-খতিব, আলেম-উলামাকে আটক ও গ্রেফতারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, সমাজে প্রতিষ্ঠিত কোনো আলেম বা ইমামকে এইভাবে আটক ও গ্রেফতার আলেমসমাজকে অপমান করার শামিল। কারণ উলামায়ে কেরাম জাতির আদর্শ নাগরিক, উম্মতের পথপ্রদর্শক। দেশ ও মানবতাবিরোধী কোনো অন্যায়ের সাথে তারা জড়িত হন না। সুনির্দিষ্ট অপরাধ নিশ্চিত না করে তাদেরকে এমন হয়রানি করা থেকে বিরত থাকার জন্য প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের প্রতি আহবান জানান তারা।
সংলাপে সকলের মতামতের প্রেক্ষিতে চলমান সংকট নিরসন, ইসলাম, ঈমান ও উলামায়ে কেরামের মর্যাদা রক্ষায় জাতীয় ঐক্য প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আল্লামা আতাউল্লাহ হাফেজ্জীকে চেয়ারম্যান ও মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহইয়াকে মহাসচিব করে ‘বাংলাদেশ ইত্তেফাকুল মুসলিমীন’ নামে একটি অরাজনৈতিক সংগঠন গঠিত হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটি চূড়ান্ত করার জন্য ১০ সদস্য বিশিষ্ট সাব কমিটি গঠন করা হয়। উক্ত সাব কামিটি শীঘ্রই ৭১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করবেন।
সংলাপে অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন, মুফতি মুজীবুর রহমান, মুফতি মোরশেদ আলম কাসেমী, মুফতি হাফেজ আবু মূসা, মাওলানা আব্দুল্লাহ ইদরীস, মুফতি আব্দুর রহমান সারওয়ার, মুফতি ফয়জুল্লাহ সাদী, মুফতি শাহাদাত হুসাইন, মাওলানা মামুন চৌধুরী আরজে, মুফতি ওয়াসিফুর রহমান, মাওলানা তাসলীমুল হাসান, মাওলানা আবু সাঈদ, মাওলানা আব্দুর রহমান ফরিদাবাদী, মুফতি কারি সিদ্দীকুর রহমান, মাওলানা কামাল উদ্দীন নোমানী, মাওলানা আহমাদ ঈসা, মুফতি শহীদুল ইসলাম, মুফতি আবু সাঈদ, মাওলানা মুনির হুসাইন, মাওলানা শোয়াইব মাহমুদ, মুফতি মোবারক হুসাইন, মুফতি তামীম ইকবাল, মুফতি আরিফ বিল্লাহ, মাওলানা মাহবূবুুর রহমান, মুফতি আল আমিন, মাওলানা মুতাসিম বিল্লাহ, মাওলানা মামুন বিল্লাহ, মাওলানা সালাহুদ্দীন, মাওলানা আসাদুজ্জামান, মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস, মুফতি জামালুদ্দীন, মুফতি আল মামুন নূর, কারি সাদ সাইফুল্লাহ মাদানী, সৈয়দ আহমাদ শফী আশরাফী প্রমুখ।
