একজন আলেম ওয়েব ডেভলপারের ক্যারিয়ারের গল্প

আরিফুর রহমান। পড়াশোনা করেছেন কওমি মাদরাসায়। প্রত্যয়ী একজন তরুণ আলেম। মাদরাসাপড়ুয়াদের জন্য অনিবার্য ও নির্দিষ্ট পেশার বাইরে এসে একজন ওয়েব ডেভলপার হিসেবে ইতিমধ্যেই সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ফাতেহ টোয়েন্টি ফোর ও ইসলাম টাইমসের ওয়েব ডেভলাপমেন্টের কাজ করেছেন, করছেন। বন্ধুদের নিয়ে গড়ে তুলেছেন শাবাকা আইটি নামের একটি ওয়েব ডেভলপমেন্ট প্রতিষ্ঠান। এইসব সফলতা, স্বপ্ন এবং ক্যারিয়ারের গল্প জানতেই তাঁর সঙ্গে ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরের বিশেষ আলাপ। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রাগিব রব্বানি।

একজন ওয়েব ডেভলপার হিসেবে ইতিমধ্যেই নিজেকে বেশ প্রতিষ্ঠিত করে নিয়েছেন। এই পেশায় জড়ালেন কীভাবে? পেছনের গল্পটা বলবেন?

আমার পড়াশোনা মূলত কওমি মাদরাসায়। ছোটবেলা থেকেই কম্পিউটার, প্রযুক্তির প্রতি একরকম টান ছিল। এরপর ধীরে ধীরে এটা নেশায় পরিণত হয়। কিন্তু মাদরাসায় পড়াশোনার কারণে ঐরকম কোন সাপোর্ট বা সাহস পাচ্ছিলাম না। অনেক বাধা-বিপত্তি সামনে আসতে থাকে। ২০০৬-এ জামিয়া রাহমানিয়ায় ভর্তি হই। ২০০৮-এ আমার স্বপ্নদ্রষ্টা মাওলানা মামুনুল হক দা.বা.-এর একটি আলোচনা আমাকে অনুপ্রাণিত করে, সাহস যোগায়। ২০১০-এ মাওলানা ইউসুফ সুলতান দা.বা.-এর ‘তথ্যপ্রযুক্তি ও যুব আলেম সমাজ’ শীর্ষক আইটি সেমিনার আমাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগিতা করে। মূলত এরপর থেকেই প্রচণ্ড আগ্রহ নিয়ে আইটি ইঞ্জিনিয়ারিং শেখা শুরু করি। মাদারাসার লেখাপড়ার পাশাপাশি ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন টিউটোরিয়াল ও বিভিন্ন ফোরামে বড় ভাইদের সহযোগিতা নিয়ে ওয়েব ডেভলপমেন্টের বিষয়গুলো শিখতে থাকি। ২০১৬-তে এসে প্রফেশনালি ওয়েব ডেভলপমেন্টের কাজ শুরু করি। আর ২০১৮-তে আমরা কয়েকজন তরুণ আলেম মিলে শাবাকা আইটি নামে একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলি।

আইটি সেক্টরে কাজের গুরুত্ব নিয়ে কিছু শুনতে চাই।

বর্তমান যুগটা হলো প্রযুক্তিনির্ভর যুগ। এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে আইটির ছোঁয়া লাগেনি। প্রায় সব প্রতিষ্ঠান এখন কম্পিউটারাইজড। প্রতিটি সেক্টরে ভালো-খারাপ দুটোই থাকে। কিন্তু খারাপের প্রভাব যখন বেশি থাকে তখন সবার সামনে খারাপটাই পরিলক্ষিত হয়। আলেমদের এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমকা পালন করতে হবে। এই সেক্টরে আলেমদের অনুপস্থিতি খারাপটাকে আরো সামনে নিয়ে আসবে। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে হলে আইটিকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখা যাবে না।

ইসলামের সেবার্থে এখানে কীভাবে কাজ করা যায়?

ইসলাম সম্পর্কে জানা, ইসলামের প্রচারের ক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার অনস্বীকার্য। এবং সবচেয়ে ইফেক্টিভ একটি পদ্ধতি। কুরআনের তাফসির, হাদিসের ব্যখ্যা, যে কোনো মাসআলা সম্পর্ক–এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাউসের কয়েকটি ক্লিকের মাধ্যমেই আমরা এখন জানতে পারছি। কিছু ভাই এই ধরনের কাজ করে রেখেছেন, যার দরুণ আমরা উপকৃত হচ্ছি। সিরাত বিষয়েও কাজ হচ্ছে বাংলায়, nobijee.com-এর কথাই ধরুন, প্রতি মাসে কয়েক লাখ মানুষ এই ওয়েবসাইটের কন্টেন্ট দেখছেন, পড়ছেন ও শেয়ার করছেন। যদিও বাংলায় খুব কম কনটেন্ট আছে। এই ধরনের কাজ আরও হওয়া দরকার। ইসলাম প্রচারের অত্যন্ত উর্বর একটা ক্ষেত্র বর্তামানে ইন্টারনেট। তাই আলেমদেরকে ব্যাপকভাবে এখানে এগিয়ে আসতে হবে।

ফাতেহ টোয়েন্টি ফোর ডটকমের আইটির দিকটা দেখেন আপনি, পাশাপাশি এধরনের আরও কিছু ইসলামি গণমাধ্যমেরও কাজ করেন, তো এই জায়গাটায় আপনার অভিজ্ঞতা কী?

আলহামদুলিল্লাহ, fateh24.com এবং আরো কিছু ইসলামি গণমাধ্যমের সাথে কাজ করতে পারাটা আমার জন্য সৌভাগ্যের বিষয়। খুব আনন্দ সহকারেই আমি তাঁদের সাথে কাজ করছি। ইসলামের দাওয়াহর ক্ষেত্রে আমার দ্বারাও কিছু ফায়দা হচ্ছে এজন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জ্ঞাপন করি। পাশাপাশি fateh24.com-কেও অসংখ্য ধন্যবাদ, তাঁরা আমাকে এই কাজের সুযোগ করে দিয়েছেন বলে।

অনেক তরুণ এই পেশায় জড়িত হচ্ছেন বর্তমানে, এবং অনেকে আগ্রহ দেখাচ্ছেন জড়ানোর ব্যাপারে, তাঁদের উদ্দেশে কিছু বলবেন?

শেখার কোনো বিকল্প নেই। ধৈর্য সহকারে শিখতে থাকুন। প্রচুর পড়া এবং টিউটোরিয়াল দেখার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পরিশ্রম এবং পরিশ্রম! পরিশ্রম ছাড়া কোনো কিছু অর্জন সম্ভব নয়। এই সেক্টরে শর্ট-কাট বলতে কিছু নেই। ধৈর্য আর সাহস নিয়ে লেগে থাকুন। ইনশাআল্লাহ, একদিন সফল হবেন।

আপনার ভবিষ্যৎপরিকল্পনা কী?

আমার ভবিষ্যৎপরিকল্পনা আমাদের প্রতিষ্ঠান শাবাকা আইটিকে ঘিরেই। আমরা এখন ডোমেইন, হোস্টিং ও ওয়েব ডেভলপমেন্টের সার্ভিস দিচ্ছি। আগামীতে এন্ড্রোয়েড অ্যাপস নিয়ে কাজ করব। বাংলাদেশে ডোমেইন ও হোস্টিং সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে শীর্ষে পৌঁছানো আমাদের আগামীর লক্ষ্য।

ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরকে সময় দেওয়ার জন্য অনেক অনেক শোকরিয়া।

আপনাদেরকেও অনেক ধন্যবাদ।

আগের সংবাদচরম পানি-সংকটে দিন পার করছে ইয়েমেনের মুসলমান
পরবর্তি সংবাদআলোচিত সেই বিমান ছিনতাই, মাসউদ আজহার যেভাবে মুক্তি পান ভারতীয় কারাগার থেকে