
খালিদ সাইফুল্লাহ
ওরিয়েন্টালিজমের পরিচয়
ওরিয়েন্টালিজম শব্দটি মূলত ইংরেজি। আরবিতে বলা হয় ‘আল-ইসতেশরাক’। বাংলায় প্রাচ্যবাদ। ল্যাটিন ভাষায় orient শব্দটি কোন কিছু খোঁজা বা জানার অর্থে ব্যবহৃত হয়। জার্মান ভাষায় sich orentierent এর অর্থ কোন বিষয় সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা। আর ফরাসি ভাষায় orienter শব্দটি পথপ্রদর্শনের অর্থে ব্যবহার হয়।
এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাঈদ তার বিখ্যাত গ্রন্থ orientalism ‘ওরিয়েন্টালিজমে’ প্রাচ্যবিদের পরিচয় বিবৃত করেছেন এভাবে– ‘যিনি সামগ্রিকভাবে প্রাচ্য সম্পর্কে অথবা এর বিশেষায়িত কোনো অংশ সম্পর্কে শিক্ষা দেন, লেখালেখি করেন বা গবেষণা করেন তিনি –নৃতাত্ত্বিক, সমাজতাত্ত্বিক, ইতিহাসবিদ, ভাষাবিজ্ঞানী যেই হোন না কেন, তিনি ওরিয়েন্টালিস্ট বা প্রাচ্যতাত্ত্বিক। এবং তিনি যা করছেন তা-ই অরিয়েন্টালিজম বা প্রাচ্যতত্ত্ব।’
ওরিয়েন্টালিজমের উক্ত সংজ্ঞা থেকে প্রতিভাত হয় যে, প্রাচ্যবিদ মানেই ইউরোপীয়, এমন নয়। তিনি প্রাচ্যেরও একজন হতে পারেন। বস্তত মুসলিম নন কিন্ত মুসলিমদের জ্ঞান-রাজ্যে কর্তৃত্ব ফলাবার কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি মাত্র-ই ওরিয়েন্টালিষ্ট বা প্রাচ্যবিদ। আর তার কর্মটিই ওরিয়েন্টালিজম বা প্রাচ্যবাদ নামে খ্যাত।
ওরিয়েন্টালিজমের ক্রমবিকাশ
ইউরোপীয় সভ্যতার আকাশে তখন কালো মেঘ ছেয়ে গিয়েছিল। তমসাচ্ছন্ন পৃথিবীতে সভ্যতা, আদর্শের অনুপস্থিতি ছিল ঢের। ইউরোপে সেসময় dark age (অন্ধকার যুগ ) চলছিল। মূর্খতা, শঠতা, দূর্বৃত্তপনা সে সমাজে সর্বসমাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। তথ্য-প্রযুক্তি, সাহিত্য -দর্শন, ও ধর্ম -সামাজিকতার অবক্ষয় ছিল এমন, পৃথিবীর ইতিহাসে যা বিরল।অন্যদিকে,আরববিশ্বে ইসলামের জয়যাত্রা সমগ্র বিশ্বকে বিস্ময়াবিষ্ট করেছিল। সভ্যতা বিবর্জিত সাম্রাজ্যগুলিতে দলিতদের আর্তনাদ থেমে গিয়ে মুক্তির জয়গান ধ্বনিত হচ্ছিল। ইসলামে কে আগে দীক্ষিত হবে, এ নিয়ে রীতিমতো চলছিল প্রতিযোগিতা।
ইসলামের কৃষ্টি- কালচারগত বিজয়ে সর্বপ্রথম টনক- নড়ে চার্চের। নিদারুণ বিহ্বলতা ও উদ্বেগ নিয়ে কিছু পাদ্রী হাজির হয় স্পেনে, সভ্যতার সংস্পর্শে।
কারো কারো মতে, এসময় থেকেই শুরু হয় ওরিয়েন্টালিজম বা প্রাচ্যবিদ্যার যাত্রা। অন্য অনেকে অবশ্য উমাইয়া শাসনকালকে সূচনাকাল ধরেছেন। সেসময়, হিজরী ২য় শতাব্দীতে ‘পাদ্রী ইউহোন্না দিমাশকী’ দুটি বই লেখেন —
- হায়াতে মুহাম্মদ (মুহাম্মদ সা.এর জীবনী)
- হিওয়ার বাইনা মাসিহিয়্যিন ও মুসলিমিন (মুসলিম- খৃষ্টান সংলাপ )। এতে তার উদ্দেশ্য ছিল, মুসলিমদের সাথে ধর্মীয় বিতর্কে খৃষ্টানদের দিকনির্দেশনা করা।
বাস্তবিকপক্ষে প্রাচ্যবিদ্যার চর্চা উমাইয়া শাসনকালে হয়ে থাকলেও একাডেমিক বা গতানুগতিক ধারায় এর চর্চা শুরু হয় আরো পরে; স্পেনে মুসলিম শাসনামলে। পাদ্রীরা এসময় দর্শন, চিকিৎসা, ও গনিতশাস্ত্র শিখতে মুসলমানদের সংস্পর্শে আসে।
ওরিয়েন্টালিজম বা প্রাচ্যবিদ্যার এ ধারার ক্রমবিকাশ তিনটি স্তরে পূর্ণতায় পৌঁছে —-
১ম স্তর
এসময়ে কতিপয় পাদ্রী স্পেনে আসেন এবং ইসলামী সভ্যতা থেকে দীক্ষা নেন, তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন —
১. জার্বার্ট (jerbert) যে ৯৯৯ সালে রোম চার্চের পোপ হয়েছিল।
২. পিয়েরেল এ্যানার (pierele aenere) মৃত্যু ১১৫৬ সালে। তার পৃষ্ঠপোষকতায় ১১৪৩ সালে কুরআনের ল্যাটিন অনুবাদ হয়।
৩. জেরার্ড ডি গ্রেমন (gerard de gremone)। মৃত্যু ১১৮৭ সালে। ইতালিয় এ পাদ্রী দর্শন, চিকিৎসা ও জ্যোতির্বিজ্ঞান বিষয়ে ৮৭ উর্ধ্ব গ্রন্থ অনুবাদ করেন।
এ স্তরে তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল, ইসলামি সভ্যতার সাথে পরিচিত হওয়া ও তার থেকে উপকৃত হওয়া।
২য় স্তর
এসময় প্রাচ্যবিদ্যা ভিন্নরুপ পরিগ্রহ করে, উপনিবেশীয় পটভূমি রচনা করে। ইসলাম-ধর্ম ও ইতিহাস বিষয়ক গবেষণা ব্যাপকতা লাভ করে। ইসলামি মূল্যবোধ, প্রত্যাহিক-জীবনে মুসলমানদের আচার-ব্যবহার নিয়ে প্রাচ্যবিদদের গবেষণা ভিন্ন-খাতে সঞ্চারিত হয়। এসময় ইউরোপের নানা-অঞ্চলে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার প্রতিষ্ঠা লাভ করে। এতে করে তাদের উদ্দেশ্য অতি-প্রগাঢ় হতে থাকে।
এসময় জার্মান প্রাচ্যবিদ ‘খৃষ্টম্যান জ্যাকব’ (christmann, jacob ) আরবী ভাষা শিক্ষালাভ করেন এবং ১৫৮৫ সালে তিনি হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর হন। সেসময়ে তিনি আরবি গ্রন্থাদি থেকে দর্শন ও চিকিৎসা নিয়ে অধ্যায়ন করতে থাকেন।
৩য় স্তর
এ স্তরে এসে প্রাচ্যবিদ্যা তার চূড়ান্ত লক্ষে উপনীত হয়। এসময় প্রাচ্যবিদরা মুসলমানদের শরণাপন্ন হওয়াটাকে প্রয়োজন মনে করে না। কারণ, ইসলামী জ্ঞানে গবেষণা করার মতো পারদর্শিতা, দক্ষতা তাদের অর্জন হয়ে গিয়েছিল। প্রাচ্যবিদ্যার ধারা এখানেই সমাপ্ত হতে পারতো। কিন্ত সেটি হয়নি। বরং এর চর্চা ক্রমশঃ বিস্তৃত হয়। ইসলামের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও আকিদা-বিশ্বাসের উপর তাদের অপব্যখ্যা ও আক্রমণাত্মক মনোভাব প্রগাঢ় গতিময়তা পায়।
এসময়ের প্রাচ্যবিদ ‘Reiske, johann jakob’ (জোহান জ্যাকব রেইস্ক)। মৃত্যু ১৭৭৪ সালে। তাকে জার্মান প্রাচ্যবিদ্যার প্রতিষ্ঠাতাও বলা হয়। তিনি সারা-জীবন ব্যয় করেন আরবী ভাষা ও ইতিহাস বিষয়ে। তিনি ‘দেওয়ানে মুতানাব্বি’র অংশবিশেষ ছেপেছিলেন। তাছাড়াও ‘ইবনে নুহাশের’ শরাহের ব্যাখ্যা ও অনুবাদসহ ল্যাটিন ভাষায় প্রকাশ করেছিলেন। পাশাপাশি বুহতরী ও আবু তাম্মামের “হামাসা ” নিয়েও তুলনামূলক আলোচনা করেছেন।
সমকালীন কিছু প্রাচ্যবিদ :
১. এ জে আরবেরি ( a.j. arberry )। ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ। মৃত্যু ২ অক্টোবর ১৯৬৯ সাল। তার পান্ডিত্য ছিল তাসাওফ ও ফার্সী সাহিত্যে।
২. আলফ্রেড গেয়ম ( alfred geom) l ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ। মৃত্যু ৩০ নভেম্বর ১৯৬৫ সাল। আরবী ভাষায় পারদর্শী ছিলেন। তার ধ্যান-ধারনায় মিশনারী চিন্তা প্রবল ছিল।
৩. এইচ এ আর গিব ( H. A. R. Gibb ) ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ। মৃত্যু: ২২ অক্টোবর ১৯৭১ সাল।
৪. গোল্ড জিহার ( Gold zihar )। পুরো নাম “ইগনাজ আইজেক ইহুদা”। একজন হাঙ্গেরিয়ান ইহুদী প্রাচ্যবিদ। মৃত্যু: ১৩ নভেম্বর ১৯২১ সাল। ইসলামের প্রতি তার বৈরী মনোভাব সর্ব-স্বীকৃত।
৫. ফিলিপ খুরি হিত্তি ( philip khuri hitti )।লেবাননি বংশোদ্ভুত আরব ও ইসলামী সভ্যতার ইতিহাসবিদ। মৃত্যু: ২৪ ডিসেম্বর ১৯৭৮ সাল।
৬. এ জে ওয়েঞ্জিক ( arent jan wensinck ) একজন ডাচ প্রাচ্যবিদ,সেমেটিক ভাষার অধ্যাপক। মৃত্যু: ১৯ সেপ্টেম্বর ১৯৩৯ সাল।
৭. লুইস মাসিনন ( louis massignon )। একজন ফরাসী প্রাচ্যবিদ। মৃত্যু : ৩১ অক্টোবর ১৯৬২ সাল।
৮. ডি. এস. মার্গোলইউথ (David Samuel Margoliouth)। একজন ব্রিটিশ প্রাচ্যবিদ। অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখা করেছেন। ইসলাম ও ইসলামী সংস্কৃতি সম্পর্কে ভাল জ্ঞান রাখতেন।
৯. জোসেফ শাখত (Joseph Schacht)। জার্মান প্রাচ্যবিদ। চরম পর্যায়ের ইসলাম ও মুসলিম বিদ্বেষী ছিলেন। মৃত্যু: ১ আগস্ট ১৯৬৯ সাল।
প্রাচ্যতত্ত্বের লক্ষ্য উদ্দেশ্য
ক) ধর্মীয় উদ্দেশ্য
- রিসালাতের ব্যপারে সংশয় সৃষ্টি। এক্ষেত্রে সবচে’ ভয়ানক প্রচেষ্টা চালিয়েছে হেনরি লামেন্স এবং মার্গোলইউথ। লামেন্স আরবিতে বই লিখেছে ‘ফাতেমা ওয়া বানাতু মুহাম্মদ’ নামে। তাতে রাসুলের রিসালাত নিয়ে সে কাল্পনিক চিত্রপট দাঁড় করিয়েছে।
- কোরানের শুদ্ধতার ব্যপারে সংশয় সৃষ্টি। এক্ষেত্রে ইহুদি প্রাচ্যবিদ গোল্ড যিহার লিখেছে, ‘কোরানে বিকৃতি সাধন করা হয়েছে।’ উদাহরণস্বরূপ সে বলে, কোরানে সূরা সাফে যে স্থানে নবীজির নাম আহমদ বলা হয়েছে, সেটি মূলত ‘ফাসামা’ ছিল। তবে নূূন্যতম দলিল প্রদানে সে ছিল অক্ষম।
- ইসলামী ফিকহের অবমূল্যায়ন করা। এক্ষেত্রে শাখত বলেছে, ‘ইসলামী আইন রোমান আইন হতে গৃহিত।’ অন্য এক স্থানে গিব ও নিকলসন লিখেছে, ‘আরবীয় সভ্যতা মূলত ইউনানী সভ্যতা হতে উৎসারিত।’
- ধর্মান্তকরণ প্রক্রিয়া। আবুল হাসান আলি নদবী পশ্চিমা সভ্যতা নিয়ে তার রচিত গ্রন্থ ‘ইসলামি মামালিকিউ মে মাগরিবিয়াত কি কাশমাকাশ’-এ লিখেছেন, ‘প্রাচ্যবিদদের বড় উদ্দেশ্য হল, খ্রিস্টধর্মের প্রচার প্রসার, ইসলামের এমন চিত্র অঙ্কন করা যাতে খ্রিস্টধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব ও প্রাধান্য আপনা-আপনিই প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়।’
খ) প্রাচ্যতত্ত্বের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য
এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাইদ তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ওরিয়েন্টালিজমে’ লিখেছেন, ‘প্রাচ্যতত্ত্বে যে প্রাচ্যের দেখা মেলে তা হলো পশ্চিমা জ্ঞানচর্চা, পশ্চিমা চৈতন্য এবং পরে পশ্চিমা সাম্রাজ্যে প্রাচ্যকে টেনে আনা একরাশ শক্তির দ্বারা শাসিত নির্দিষ্ট উপস্থাপন পদ্ধতি। প্রাচ্যতত্ত্বের এ সংজ্ঞা যদি খুব বেশি রাজনৈতিক হয়ে থাকে, তাহলে তা এজন্য যে আমি মনে করি প্রাচ্যতত্ত্ব নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক শক্তি ও তৎপরতার সৃষ্টি।’
তাদের রাজনৈতিক তৎপরতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি হল, মুসলমানদের চিন্তাজগতে আঞ্চলিক উগ্র জাতীয়তাবাদের বীজ অঙ্কুরিত করা। এ বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝতে হলে আমাদেরকে মিস্টার ওয়েলফার্ড বেলেন্টির ‘future of islam’ নামক রহস্যপূর্ণ বইটি অবশ্যপাঠ্য। সেখানে তিনি আরব জাতীয়তাবাদের বিষক্রিয়া সুশোভিত মোড়কে আরবদের হাতে তুলে দেবার চেষ্টা করেছেন। বইটির একস্থানে তিনি লিখেছেন, ‘মুসলিম জাতির আধ্যাত্মিক রাজধানী কুস্তুনতুনিয়া থেকে মক্কায় স্থানান্তরের বিষয়টি খুব সহজ ও স্বাভাবিক একটি পদক্ষেপ, যা মানুষের চিন্তা বিশ্বাসে তেমন কোন আলোড়ন বা পরিবর্তন সৃষ্টি করবে না। এমনকি তা আলেমসমাজের চিন্তাধারা ও মতামতের সঙ্গেও সঙ্গতিপূর্ণ। বস্তুত যারা উম্মাহর কর্ণধার তাদের জন্য মক্কা মদিনাই হচ্ছে শরিয়ত নির্দেশিত আধ্যাত্মিক নিরাপদ আশ্রয়স্থান এবং অতিসত্বর এদুটি শহরই হবে আধ্যাত্মিক শক্তির কেন্দ্রভূমি। এ বিষয়ে যার সঙ্গেই আমি কথা বলেছি, তুর্কি বন্ধুরা ছাড়া, সবাই একমত পোষণ করেছে। তবে ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, মক্কাই হওয়া উচিত খেলাফতের প্রধান কেন্দ্র।’
এ বাক্যগুলোই আমাদের জানান দেয় যে, কতটা বুদ্ধিবৃত্তিক কুশলতা ও রাজনৈতিক ধূর্ততার মাধ্যমে আরবদের মাঝে জাতীয়তাবাদের বিষক্রিয়া ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে; যার ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া উসমানী খেলাফতের বিরুদ্ধে আরব জাতীয়তাবাদীদের পক্ষ থেকে প্রকাশিত হয়েছিল।
উপসংহার
ব্যপকভাবে প্রাচ্যবিদদের মাঝে যদিও আগ্রাসী তৎপরতা দৃশ্যমান ছিল, তথাপি যে কথাটা স্বীকার্য, তাদের মাঝে কতক প্রাচ্যবিদ এমনও ছিলেন যারা ইসলামের জ্ঞান বিজ্ঞানে নিরলস সাধনা করেছেন। যারা ছিলেন রাজনৈতিক উপনিবেশীয় ও ধর্মীয় আগ্রাসী মনোবৃত্তি হতে ছিলেন সম্পূর্ণ নিষ্কলুষ। তাদের জ্ঞানসাধনা যুগের পর যুগ ইসলামী ঐতিহ্যের সমৃদ্ধ জ্ঞানজগতে স্মরিত ও বরিত থাকবে। এমন উল্লেখযোগ্য কয়েকজনের নাম উল্লেখ না করলে দায়বদ্ধতা হতে মুক্ত হবনা।
১. টি. ডব্লিউ. আরনল্ড। তার বিখ্যাত রচনা হলো ‘The preaching of islam’
২. স্টানলি লেন পোল। তার বিখ্যাত রচনা ‘Saladin’
৩. ড. এলোজ স্প্রেনজার। যিনি ইবনে হাজার আসকালানি বিরচিত ‘আল ইসাবা ফি তামঈযিস সাহাবা’ গ্রন্থের অত্যন্ত মূল্যবান ইংরেজি ভূমিকা লিখেছেন।
৪. এডওয়ার্ড উইলিয়াম লেম। তিনি রচনা করেছেন, ‘Arabic-English lexicon’।
৫. জি. বি. স্ট্রেন্জ। তার রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ ‘Lands of the Eastern Caliphate’।
আরো অনেকেই মধ্যপন্থি প্রাচ্যবিদ রয়েছেন যাদের কথা এখানে আনা সম্ভব হলো না। বর্তমানে মৌখিকভাবে প্রাচ্যবিদ্যার নাম ধারণ করা হয়না ঠিক, কিন্তু অভ্যন্তরস্থ কুশলতায় তারা এখনো সক্রিয়। তাদের তৎপরতা সম্পর্কে উদাসিন থাকা আমাদের ভবিতব্য কালে দুঃসংবাদ বহন করতে বাধ্য।
তথ্যপঞ্জি;
১. এডওয়ার্ড ডব্লিউ সাঈদ, ওরিয়েন্টালিজম
২. ড. মুহাম্মদ আওনি আবদুর রাউফ, জুহুদুল মুশতাশরিকিন ফিত তুরাছিল আরাবী : বাইনাত তাহকিকি ওয়াত তারজামা
৩. ড. মুস্তফা সিবাঈ, আল ইসতিশরাক ওয়াল মুসতাশরিকুন
৪. ড. আবদুল আজিম আদ্দীব, আল মুসতাশরিকুন ওয়াত তারিখ
৫. আবুল হাসান নদবি, আল ইসলাম ওয়াল মুসতাশরিকুন
৬. ঐ, ইসলামী মামালিকিউ মে মাগরিয়াত কি কাশমাকাশ
৭. ঐ, মাজা খাসিরাল আলাম বিনহিতাতিল মুসলিমিন
