কতদূর এগিয়েছে ‘জাতীয় ফতোয়া বোর্ড’ গঠনের উদ্যোগ?

কতদূর এগিয়েছে ‘জাতীয় ফতোয়া বোর্ড’ গঠনের উদ্যোগ?

রাগিব রব্বানি :

বছর দুয়েক আগে দেশের শীর্ষস্থানীয় মুফতিয়ানের সমন্বয় ‘জাতীয় ইফতা বোর্ড’ গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন নেতৃস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম। বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষাবোর্ড বেফাকের এক জরুরি বৈঠকে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু দু বছরেও এখনও আলোর মুখ দেখেনি সেই উদ্যোগ।

বেফাক ও হাইআতুল উলয়ার একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘জাতীয় ইফতা বোর্ড’ গঠনে প্রথম দিকে বেফাকে ব্যাপকভাবে আলোচনা হলেও পরবর্তীতে হাইআতুল উলয়ার অধীনে ফতোয়া বিষয়ক একটি কমিটি গঠিত হওয়ায় এই উদ্যোগ আলাপ-আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকে যায়। তাঁরা জানান, ‘জাতীয় ইফতা বোর্ড’ গঠনের তাৎক্ষণিক যে প্রয়োজন ছিল, তা হাইআতুল উলয়ার ওই কমিটি কর্তৃক পূরণ হয়ে যাওয়ায় এ উদ্যোগ আপাত কার্যত স্থগিত রয়েছে।’

হাইআতুল উলয়ার ওই কমিটি মাওলানা আশরাফ আলী সাহেবকে আহ্বায়ক করে এবং হাইআতুল উলয়ার আরও বেশ কিছু সদস্য আলেম নিয়ে গঠিত। হাইআর বাইরে এই কমিটিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় তিন মুফতী, মুফতী দিলওয়ার হোসাইন, মুফতী মীযানুর রহমান সাঈদ এবং মুফতী আবদুল মালেক সাহেবকে রাখা হয়েছে।

সূত্র জানায়, হাইআর এই ফতোয়া কমিটি আল্লামা শাহ আহমদ শফীসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামের সমর্থনে গঠিত হয়েছে। কমিটি বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যমান বহুল আলোচিত ধর্মীয় সমস্যাগুলোর ব্যাপারে ফতোয়া প্রদান করবে। সাদপন্থী তাবলিগিদের ব্যাপারে একটি ফতোয়ার কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। হাইআতুল উলয়ার কেন্দ্রীয় কোনো বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ফতোয়া প্রকাশিত হবে।

এ ছাড়া হেজবুত তাওহীদ নিয়েও একটি ফতোয়ার কাজ চলছে বলে জানা গেছে। তবে এর আগে সম্প্রতি আলোচনায় আসা ‘হিউম্যান মিল্ক ব্যাংক’-এর ওপর বাংলাদেশের ওলামায়ে কেরামের অবস্থান পরিস্কার করতে একটি ফতোয়া আসবে এই কমিটির পক্ষ থেকে। এ ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত মুফতীগণ শায়খুল ইসলাম আল্লামা তকি উসমানির সঙ্গে মতবিনিময় করছেন বলেও জানিয়েছে সূত্রটি।

হাইআতুল উলয়ার ওই ফতোয়া কমিটিতে থাকা দেশের শীর্ষস্থানীয় মুফতী মাওলানা মীযানুর রহমান সাঈদের সঙ্গে কথা হয় ফাতেহ টুয়েন্টি ফোর থেকে। তিনি ফতোয়া কমিটির কার্যক্রমের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সাদপন্থীদের ব্যাপারে ফতোয়ার কাজ প্রায় সম্পন্ন। আনুষ্ঠানিকভাবে হাইআতুল উলয়ার আগামী কোনো মিটিংয়ে তা প্রকাশিত হবে।

মাওলানা মীযানুর রহমান সাঈদও ‘জাতীয় ফতোয়া বোর্ড’ গঠনের কার্যক্রম অঘোষিতভাবে আপাতত স্থগিত রয়েছে বলে জানান। তিনি বলেন, হাইআতুল উলয়ার এই কমিটি গঠনের কারণে সবার মনোযোগ এখন এই দিকে রয়েছে। আগামীতে এই কমিটিই ‘জাতীয় ফতোয়া বোর্ড’-এর রূপ নিতে পারে বলে জানান তিনি।

হাইআর এ কমিটিকে সিদ্ধান্তদানের মর্যাদা দিয়ে দেশের শীর্ষ স্থানীয় মুফতীয়ানে কেরামকে নিয়ে আরও একটি বোর্ড গঠনের পরিকল্পনার কথা জানান মুফতী মীযানুর রহমান সাঈদ। তিনি বলেন, হাইআর ফতোয়া বিষয়ক ওই কমিটি আপন জায়গায় ঠিক থাকবে, অর্থাৎ এখান থেকে জাতীয় সব মাসআলায় ফতোয়া প্রদান করা হবে কেবল। আর মুফতীয়ানে কেরামের মধ্যে পারস্পরিক মতবিনিময় ও গবেষণার লক্ষ্যে আরও একটি বোর্ড গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি আমরা। এই বোর্ডে কেবল শীর্ষস্থানীয় মুফতীয়ানে কেরামই থাকবেন। ইতিমধ্যেই মুফতী দেলওয়ার হোসাইন, মুফতী আবদুল মালেকসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় মুফতীরা এ বিষয়ে ঘরোয়াভাবে আলাপ করেছেন। অল্পকিছু দিনের মধ্যে বৈঠক করে এই উদ্যোগটাকে হয়তো সামনে নিয়ে আসা হবে।

তবে তিনি বলেন, এই বোর্ড কেবল মুফতীয়ানে কেরামের মধ্যে সমন্বয় সাধন ও পারস্পরিক গবেষণার জন্য গঠন করা হবে। জাতীয়ভাবে সিদ্ধান্তমূলক ফতোয়া আসবে হাইআতুল উলয়ার ওই কমিটি থেকেই। তবে কমিটির ফতোয়া তৈরি ক্ষেত্রে কাজ করতে পারে মুফতীদের এই বোর্ড।

আগের সংবাদডিজিটাল ফতোয়া ও ধর্মীয় ক্ষমতা কাঠামোর রূপান্তর
পরবর্তি সংবাদফতোয়া আন্দোলন : নীরব বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াই