
উবায়দুর রহমান খান নদভি:
“কমান্ডো” নামের একটি সিনেমা বাংলাদেশের জন্য তৈরি হয়েছে। ইন্ডিয়ান অভিনেতা দেব আছেন এর অন্যতম প্রধান ভূমিকায়।
ছবিটিতে দেখানো হয়েছে যে, বাংলাদেশ ভরে গেছে সশস্ত্র মৌলবাদী যোদ্ধায়। তারা ভারি সব অস্ত্র ব্যবহার করে। তারা নাকি বাংলাদেশের আলেম উলামা পীর মাশায়েখ এবং ধর্মপ্রাণ মুসলমান। তাদের লম্বা দাড়ি, ছোট মোচ, চোখে সুরমা, কপালে সাজদার চিহ্ন। তাদের পতাকায় কালেমায়ে তাইয়েবা,” লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ”। নিচে একে ফোরটি সেভেন আর কালাশনিকভ মেশিনগান। আরেক পতাকায় মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সিল মোহর অংকিত আংটি মোবারকের ছাপ। যেখানে লেখা আছে ” মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সা.”। ব্যানারে লেখা ” আল জিহাদ”। সাম্প্রদায়িক মনোভাবের লোকেরা কোনো বিদেশী শক্তির ইশারায় মহান ইসলামের প্রতি নতুন জেনারেশনের মনে কুধারণা সৃষ্টির জন্য এমন একটি শয়তানী করেছে।
ইসলামী ঐতিহ্য, স্থাপত্য, সুন্নতি পোষাক, পাগড়ি, দাড়ি, টুপি পরিহিত এসব অভিনেতা দেশে সন্ত্রাস করছে। আর ভালো মানুষেরা ইন্ডিয়া থেকে এসে বাংলাদেশ রক্ষা করছে। ৯০ ভাগ মুসলমানকে সন্ত্রাসী দেখিয়ে, তাদের নবীর সুন্নত, ধর্মীয় নিদর্শন, প্রতীক ও নেতৃবৃন্দের অবমাননা করে বাংলাদেশকে রক্ষা করছে। বঙ্গবন্ধুর নীতি আদর্শের পাশাপাশি তাঁর মান সম্মানেরও হেফাজত করছে।
ভারতের মুসলমানদের ওপর পরিচালিত রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক বাস্তব সন্ত্রাস তুলে ধরার চেষ্টা করা উচিৎ ছিল এই মুভি নির্মাতার। সেকি পারবে, হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় পরিচয় ও নিদর্শন লাগিয়ে এমন একটি ফিল্ম বানাতে আর ভারতে তা চালাতে? তো বাংলাদেশকে সে কেন বেছে নিল, এমন মিথ্যা কাল্পনিক ছবি তৈরি ও প্রদর্শনের জন্য? যে দেশে আলেমদের কিংবা ধর্মপ্রাণ মুসলমানের হাতে একটি হালকা অস্ত্র বা প্রতিরোধের লাঠি পর্যন্ত নেই, সেখানে এমন একটি অপবাদ ও বদনামে পরিপূর্ণ গালগল্প আর সুপরিকল্পিত সিনেমা কেন?
বাংলাদেশে আসলেই কোনো সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নেই বলে? তাদের অপকর্মের বিরুদ্ধে ভারতে আরএসএস, সংঘ ও বিজেপির সমর্থকের মতো এ দেশে কোনো সংগঠনের লোকেদের হামলার সম্ভাবনাও নেই বলে?
সরকারের সর্বোচ্চ মহলের কাছে বিনীত অনুরোধ ও আবেদন, এ উদ্দেশ্যমূলক মুভিটির ছাড়পত্র দেবেন না। আগে মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর “হোলি আর্টিজান” যেমন আটকে দিয়েছেন, এবারকার “কমান্ডো” ছবিটিও আটকে দিন। না হয় বাংলাদেশের সম্মিলিত দেশপ্রেমিক শক্তি ও বঙ্গবন্ধুর ধার্মিক প্যাট্রিয়টিক আদর্শের অনুসারীরা এসব কুকীর্তি প্রতিহত করবে ইনশাআল্লাহ।
বাংলাদেশে জাতীয় ঐক্য, সামাজিক সম্প্রীতি, স্বাধীনতা, শান্তি, উন্নয়ন, ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি হুমকি স্বরূপ। এই মুভি যারা জোর করে চালাতে চায়, তারা রাষ্ট্র ও সরকারের ইমেজের ক্ষতি করতে চায়। এরা ধর্মীয় নামধারী কোনো উগ্র গ্রুপের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়ে বাংলাদেশের সর্বনাশ করতেও দ্বিধা করবে না। এরা বাংলাদেশকে সন্ত্রাসের লীলাভূমি বানিয়ে রাষ্ট্রকে অকার্যকর ঘোষণা করতেও দ্বিধা করবে না। প্রধানমন্ত্রীকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। এরা মানুষের মনে ঘৃণা বিদ্বেষ তৈরি করে দেশ ও জাতির জন্য বড় কোনো বিপর্যয় ডেকে আনতে চায়। এসব অপচেষ্টা আলেম উলামা পীর মাশায়েখ এবং দেশপ্রেমিক জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকারকেই রুখে দিতে হবে।
(ফেসবুক থেকে নেয়া)
