‘কালেমা পড়, তোকে এনকাউন্টার দেওয়া হবে’

ফাতেহ ডেস্ক

মধ্যরাতে ধরে এনে কারাদণ্ড দেওয়া কুড়িগ্রামের সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগ্যান জামিন পাওয়ার পর বর্ণনা করেছেন তার ওপর চলা রোমহর্ষক নির্যাতনের। রোববার দুপুরে জামিন পান নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন ও ঢাকা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করা এই সাংবাদিক। নির্যাতনের এক পর্যায়ে তাকে বলে হয়, ‘কালেমা পড়ে নে, কারণ একটু পরেই তোকে এনকাউন্টারে (বন্দুকযুদ্ধ) দেওয়া হবে।’

কী ঘটেছিল শুক্রবার মধ্যরাতে, হাসপাতালের বিছানায় কাতরাতে কাতরাতে জানান আরিফুল, ‘রাত একটার সময় হঠাৎ দরজায় ধাক্কার শব্দ শুনতে পাই। পরিচয় জানতে চাইলেও কিছু বলা হচ্ছে না দেখে আমি ওসিকে ফোন দিই। কিন্তু ততক্ষণে দরজা ভেঙে ঢুকে পড়ে আরডিসি (সহকারি কমিশনার, রাজস্ব) নাজিমুদ্দিনসহ তার দলবল। টেনে-হেঁচড়ে আমাকে মাইক্রোবাসে তোলার পর শুরু হয় অকথ্য গালিগালাজ আর কিল-ঘুষি। আমার হাত-পা আর চোখ বেঁধে ফেলা হয়।’

ভয়াবহ সেই ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম আরও বলেন, ‘মারতে মারতে আমাকে একটি ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়, চোখ খুলে দেওয়ার পর বুঝতে পারি, এটা ডিসি অফিস। সেখানে বিবস্ত্র করে আরেক দফা পেটানো হয়। এর মধ্যেই তারা বলতে থাকে, তুই আমাদেরকে অনেক জ্বালিয়েছিস, তোকে সাংবাদিকতা শেখাচ্ছি। কালেমা পড়ে নে, একটু পরেই তোকে এনকাউন্টারে দেওয়া হবে।’

এদিকে, এই ঘটনায় কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুলতানা পারভীনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

উল্লেখ্য, কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের একাধিক অনিয়ম নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম। এসব নিয়ে তার ওপর ক্ষুব্দ ছিলেন ডিসি।

-এ

আগের সংবাদবাংলাদেশের রোগী না থাকায় সংকটে কলকাতার হাসপাতাল
পরবর্তি সংবাদকরোনাভাইরাসে বন্ধ বার্তা সংস্থা এপির অফিস