
ফাতেহ ডেস্ক
ভারত থেকে গরু আমদানি স্বাভাবিক না হলে আসন্ন কোরবানির ঈদে দেশে গবাদিপশুর মারাত্মক সংকট দেখা দেবে বলে মনে করছেন গবাদিপশু ব্যবসায়ীরা। কারণ সীমান্তবর্তী বৈধ-অবৈধ খাটালগুলোতে কিছু গরু আসলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। সীমান্ত কড়াকড়ি বন্ধ না হলে বাজারে গবাদিপশুর সংকট হবে এবং চড়া দামে পশু কিনতে হবে।
বাংলাদেশ গবাদিপশু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজি মজিবুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গবাদিপশুর যে পরিমাণ চাহিদা তাতে দেশীয় উৎস থেকে মেটানো প্রায় অসম্ভব। হাটে দর ওঠানামা করে ভারতীয় গরু আমদানির ওপর। ভারত থেকে গরু আনা সম্ভব না হলে চড়া দামে কিনতে হবে এবং গরুর দাম অনেক বেশি হবে।’
তবে প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দেশীয় উৎস থেকেই কোরবানির জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক গরু-ছাগল পাওয়া যাবে।
এ বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. হীরেশ রঞ্জন ভৌমিক বলেন, ‘গত তিন বছর থেকেই ভারত থেকে গরু আমদানি কম হয়। আমাদের দেশীয় উৎস থেকেই কোরবানির পশু ও দৈনন্দিন মাংসের চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে। বাজারে দেশীয় গরুর চাহিদা বেড়েছে। এবারও দেশীয় ছাগল ও গরু উৎপাদনে ছোট-বড় প্রকল্পের মাধ্যমে কাজ করা হয়েছে। এতে ব্যক্তি উদ্যোগে বিপুলসংখ্যক খামারি গড়ে উঠেছে। আশা করছি, কোরবানিতে গবাদিপশুর সংকট হবে না।’
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কেউ কেউ মনে করেন, দাপ্তরিক হিসাব যাই হোক, ভারত থেকে আনা না গেলে কোরবানির হাটে গরুর জোগান দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি বলেন, কোরবানিতে প্রায় ৫০ লাখ গরু-মহিষ ও ৭০ লাখ ছাগল-ভেড়ার চাহিদা রয়েছে। দেশীয় উৎস থেকে তার ৬০ ভাগ পর্যন্ত জোগান দেওয়া সম্ভব। বাকি ৪০ ভাগ আসে ভারতীয় গরু থেকে। এবার ভারতীয় গরু আসার সংখ্যা খুবই কম জানিয়ে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, গত বছর শেষদিকে ভারত থেকে বিপুলসংখ্যক গরু আসায় সংকট কাটে ও বাজারে দামও কিছুটা সহনীয় হয়।
উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা, যশোর, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, জয়পুরহাট, লালমনিরহাট এবং কুড়িগ্রামসহ সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে শতাধিক বিট/খাটাল (সীমান্ত/করিডোর এলাকায় বিভিন্নভাবে আসা গবাদিপশুর বিপণন, পরিবহন, সংরক্ষণসহ ব্যবস্থাপনা ও রাজস্ব আদায়ের জন্য অস্থায়ী অপেক্ষমাণ আবাসস্থল) রয়েছে। মৌসুমের এই সময় সেগুলো রমরমা থাকার কথা। কিন্তু এখনো সেভাবে গরু আসা শুরু হয়নি।
আরএইচ/
