
ফাতেহ ডেস্ক
তার নাম বন্দর আলী। বয়স পেরিয়েছে ১২৮ বছর। বয়সের ভারে ন্যুব্জ। দুই চোখে পানি টলমল। সোনারগাঁও থানার চরভবনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা তিনি। এ বৃদ্ধ গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গুটিগুটি পায়ে লাঠি ভর দিয়ে এসেছেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও থানায়। থানায় এসে খুঁজতে থাকেন দারোগা আবুল কালাম আজাদকে।
তাকে পেয়ে আবেগাপ্লুত প্রবীণ বন্দর আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বাবা, তুমি আমাকে বাঁচাও। আমার ছেলে ও ছেলেদের বউরা আমাকে খাবার দেয় না এবং কোনো খোঁজখবরও রাখে না। উল্টো আমাকে ওরা নির্যাতন করে। মারে। আমাকে খেতে দেয় না।
অভিযোগ পেয়ে দারোগা আজাদ তাকে সাথে নিয়ে চরভবনাথপুর গ্রামে গিয়ে দেখেন প্রবীণ বন্দর আলীর জীবনের করুণ দৈন্যদশা। তিনি বলেন, চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন হবে ১২৮ বছরের একজন প্রবীণ মানুষের শেষ জীবনের নিদারুণ কষ্টের দৃশ্য। একটি গোয়ালঘরের মতো ঘরে থাকেন বৃদ্ধ বন্দর আলী। পলিথিন দিয়ে ঘেরা ওই ঘরে তার কাটে দিনরাত।
বন্দর আলীর চার ছেলে ও দুই মেয়ে। এর মধ্যে এক ছেলে মানসিকভাবে অসুস্থ। বাকি তিন ছেলে কর্মঠ। মধ্যবিত্ত বলা চলে। কিন্তু তারা তাদের বৃদ্ধ বাবা বন্দর আলীকে কোনো খাবার দেয় না। ছেলের বউরা তাকে মারধর করে এমন অভিযোগ বন্দর আলীর।
বৃদ্ধের অভিযোগ পেয়ে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। আমি ফোর্সসহ বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আশপাশের লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। ঘটনার সত্যতাও মিলে, কিন্তু তার ছেলেদের বাড়িতে না পাওয়ায় তাদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান চলছে।
দারোগা আজাদ আরও বলেন, বন্দর আলীর ছেলে ও ছেলের বউদের কাছে বৃদ্ধ বাবা বোঝা হয়ে গেছেন। তবে আমিই বৃদ্ধ বাবাটির দায়িত্ব নিবো, যত দিন আল্লাহ তাকে বাঁচিয়ে রাখেন। একবার ভাবুনতো, আমরা কতটা অমানুষ হলে এমন বৃদ্ধ বাবাকে কষ্ট দিতে পারি?
