
ফাতেহ ডেস্ক
নোয়াখালীতে চাকরিপ্রার্থী এক তরুণীকে মুঠোফোনে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে একটি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মানববন্ধন-সমাবেশ করেছে এলাকাবাসী। গতকাল মঙ্গলবার জেলা শহর মাইজদীর টাউন হল মোড়ে আবদুল মালেক উকিল সড়কে বেলা ১১টার দিকে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। নোয়াখালীর তরুণ সমাজের ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
মানববন্ধন ও সমাবেশে সমবেত তরুণেরা অভিযুক্ত অধ্যক্ষ আফতাব উদ্দিনের বিচার এবং তাঁর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন। তাঁরা এ সময় দাবি–সংবলিত ব্যানার এবং নানা স্লোগান লেখা পোস্টার বহন করেন। মানববন্ধন-সমাবেশে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক–শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার নাগরিকগণ অংশগ্রহণ করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রায় আধা ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে শিক্ষক, উন্নয়নকর্মী ও শিক্ষার্থীরা বক্তব্য দেন।
বক্তারা কলেজের অধ্যক্ষ আফতাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। না হলে আরও কঠোর আন্দোলন করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
মানববন্ধনে অভিযোগ করা হয়, শহরের বাসিন্দা চাকরিপ্রার্থী এক তরুণী গত ১৩ জানুয়ারি অধ্যক্ষ আফতাব উদ্দিনের কলেজে গেলে তিনি তরুণীর পারিবারিক নানা তথ্য জানতে চান। পরবর্তীতে গত ৪ ফেব্রুয়ারি আফতাব উদ্দিন ওই তরুণীর মুঠোফোনে ফোন করে চাকরি পাইয়ের দেওয়ার বিষয়ে নানা কথা বলেন। এ সময় তিনি একাধিকার ওই তরুণীকে যৌন হয়রানিমূলক আপত্তিকর নানা কথা বলেন।
এ ঘটনায় ওই তরুণী প্রথমে আফতাব উদ্দিনকে চিঠি দিয়ে তাঁর আচরণের জন্য ক্ষমা চাইতে বলেন। কিন্তু তিনি তাতে কোনো সাড়া না দেওয়ায় ওই তরুণী আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়ার মাধ্যমে একটি আইনি নোটিশ পাঠান। তাতেও কাজ না হওয়ায় তরুণী ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের দিনে লাইভ ভিডিওর মাধ্যমে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরেন—যা ইতিমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। অনেক মানুষ ভিডিওটি দেখেন এবং এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করে মন্তব্য করেছেন।
তরুণীর অভিযোগের বিষয়ে জানার জন্য গতকাল বিকেলে একাধিকবার অধ্যক্ষ আফতাব উদ্দিনের মুঠোফোনে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
তবে গত সোমবার আফতাব উদ্দিন তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘নোয়াখালী সায়েন্স অ্যান্ড কমার্স কলেজটি ধ্বংসের জন্য এবার এক নারীকে ব্যবহার করে কুৎসা রটানো হচ্ছে।’
