
ফাতেহ ডেস্ক
ছেলে ধরা সন্দেহে দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে মো. মিরু মিয়া (৫০) নামে এক ব্যক্তি গণপিটুনির শিকার হয়েছেন। রবিবার দুপুর ১২টার দিকে চিরিরবন্দর উপজেলার ভিয়াইল ইউনিয়নের নানিয়াটিকর গ্রামের মুহুরীপাড়ায় এ ঘটনাটি ঘটেছে। আটক মিরু মিয়া কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালীর আব্দুল হাইয়ের ছেলে বলে জানা যায়।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানায়, রবিবার দুপুর ১২টার দিকে মিরু মিয়া একটি পুরাতন চটের বস্তা নিয়ে এলাকায় ঘোরাফেরা করছিল। এতে এলাকার লোকজনের ছেলে ধরা সন্দেহ হলে তাকে আটক করে গণপিটুনি দিতে থাকে। এসময় স্থানীয় ইউপি মেম্বার মাবিয়া বেগম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশের এস আই আব্দুল জলিল ঘটনাস্থলে এসে মিরু মিয়াকে থানায় নিয়ে যায়। পরে লোকটি পাগল বলেই ছেড়ে দেয় বলে জানান স্থানীয় ইউপি মেম্বার কমলেস কুমার রায়।
চিরিরবন্দর থানার ওসি মো. হারেসুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটককৃত মিরু একজন অর্ধ-পাগল ব্যক্তি। তাই তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। ছেলে ধরা সন্দেহে পাগলদেরকে মারপিট না করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
এদিকে কুমিল্লায় ছেলে ধরা সন্দেহে মহিলাসহ আরও ৩ জনকে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয়রা। রোববার সকাল সাড়ে ১০টার সময় জেলার কোতয়ালী মডেল থানা এলাকার আমড়াতলী ইউনিয়নের ধুতিয়া দিঘীর পাড় এলাকায় এই গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করেন। আহতরা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বেজোড়া গ্রামের বাসিন্দা। তাদের মধ্যে একজন নারী এবং দুইজন পুরুষ। নারীর বয়স আনুমানিক ৫০। দুই পুরুষের বয়স আনুমানিক ৬০ বছর হবে। তবে তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
আমড়াতলী ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হোসেন জানান, রবিবার সকালে ওই তিন ব্যক্তি জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বেজোড়া গ্রাম থেকে আমড়াতলী স্কুলের সামনে আসেন। পাশের একটি বাড়ির সামনে গিয়ে একটি ছোট শিশুকে ডাক দিলে তাদেরকে আটক করে এলাকাবাসী। পরে একযোগে চলে পিটুনি। খবর পেয়ে দ্রত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আহত অবস্থায় তাদেরকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়।
কুমিল্লার ঘটনা নিয়ে কোতয়ালি মডেল থানার ছত্রখিল পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক তপন কুমার বাকচী বলেন, ‘ছেলেধরা সন্দেহে মহিলাসহ তিন ব্যক্তিকে গণপিটুনি দিয়ে আহত করা হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করেছি। চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।’
