জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে: বিভাগীয় কমিশনার

ফাতেহ ডেস্ক:

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে কোরআন অবমাননার অভিযোগ তুলে শহীদুন্নবী জুয়েল নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা এবং লাশ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনায় কারও ইন্ধন থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের রংপুর রেঞ্জর ডিআইজি দেবদাশ ভট্টাচার্য্য। তবে এ ঘটনায় জঙ্গি সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা তদন্ত সাপেক্ষে বলে যাবে বলে জানান রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভুঞা।

এ ছাড়া এ ঘটনায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। নিহতের পরিবার, বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদ ও পুলিশ বাদী হয়ে গতকাল শুক্রবার রাতে পৃথক মামলা তিনটি দায়ের করে।

আজ শনিবার লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে গিয়ে শহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রংপুর রেঞ্জর ডিআইজি ও বিভাগীয় কমিশনার। পরিদর্শন শেষে পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদের শহীদ আফজাল হোসেন মিলনায়তনে আলেম সমাজের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তারা।

রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আবদুল ওয়াহাব ভুঞা বলেন, ‘শহিদুন্নবী জুয়েলকে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক এবং দুঃখজনক। উত্তেজিত উশৃঙ্খল জনতাই এ ঘটনা ঘটিয়েছে। পুলিশ ফাঁকা গুলি ছুঁড়েও তাদের থামাতে পারেনি। এ ঘটনায় যারা জড়িত তাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।’

এ ঘটনায় জঙ্গির সম্পৃক্ততা আছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনেই কিছু বলা যাবে না। বিষয়টি তদন্ত করে বলতে হবে। তবে আমার মনে হচ্ছে এ ঘটনায় জঙ্গি সম্পৃক্ততা নেই।’

তদন্ত প্রক্রিয়া কতদূর সম্পন্ন হয়েছে জানতে চাইলে পুলিশের রংপুর রেঞ্জর ডিআইজি দেবদাশ ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘তদন্ত প্রক্রিয়া অনেক দূর এগিয়েছে। এ ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের হয়েছে। এ সব মামলায় যাদের আমরা এরই মধ্যে শনাক্ত করতে পেরেছি, তাদের আসামি করা হয়েছে। বাকি আসামিদের আমরা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’

ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড মনে করছেন কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি বলেন, ‘আমরা মনে করি এ ঘটনায় কারও না কারও ইন্ধন রয়েছে। না হলে এমন একটা তুচ্ছ ঘটনা, যেটা কিনা ঘটনাই নয়, সেটা নিয়ে এমন বড় কিছু হওয়ার কথাই নয়। যারাই থাকুক ঘটনার সামনে কিংবা পেছনে, তাদের খুঁজে বের করা হবে।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের আগে বুড়িমারী ইউনিয়ন পরিষদের দরজা ভেঙে শহিদুন্নবী জুয়েলকে বের করে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরে লাশ নিয়ে বুড়িমারী বাঁশকল এলাকায় লালমনিরহাট-বুড়িমারী জাতীয় মহাসড়কের ওপর কাঠখড়ি ও পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।

আগের সংবাদলালমনিরহাটের গণধোলাইয়ে জঙ্গি সম্পৃক্ততা ছিল না
পরবর্তি সংবাদদু-চার দিনের মধ্যে ভ্যাকসিন আনার চুক্তি : স্বাস্থ্যমন্ত্রী