
ফাতেহ ডেস্ক:
রাজধানী ঢাকাসহ দেশজুড়ে টিকাদান কর্মসূচির তৃতীয় দিনে আজ (মঙ্গলবার) ১ লাখ ১ হাজার ৮২ জন করোনা ভাইরাসের টিকা নিয়েছেন। এদের মধ্যে ৯৪ জনের সামান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া (যেমন: জ্বর, টিকা দেওয়া স্থানে লাল হাওয়া ইত্যাদি) দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত মোট টিকা নিয়েছেন ১ লাখ ৭৯ হাজার ৩১৮ জন। মোট পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে ২০৭ জনের। আজ মঙ্গলবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআই এস) অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।
এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মোট টিকা নিয়েছেন এক লাখ এক হাজার ৮২ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ৭৪ হাজার ৫৮৬ জন এবং নারী ২৬ হাজার ৪৯৬ জন। ঢাকা বিভাগে ২৫ হাজার ২২০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪ হাজার ৮৫৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ২৩ হাজার ৫৪৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩ হাজার ১১৪ জন, রংপুর বিভাগে ১০ হাজার ২৩৭ জন, খুলনা বিভাগে ১১ হাজার ৩৭২ জন, বরিশাল বিভাগে ৪ হাজার ১৮১ জন ও সিলেট বিভাগে ৮ হাজার ৫৫৯ জন রয়েছেন।
কর্মসূচির তৃতীয় দিনে ভিড় বেড়েছে কেন্দ্রগুলোতে। টিকা নেয়ার পদ্ধতি সহজ করতে বেশ কয়েকটি সিদ্ধান্তে পরিবর্তন এনেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। টিকার জন্য আবেদনের বয়সসীমা ৫৫ থেকে কমিয়ে ৪০ বছর করা হয়েছে। সম্মুখসারির যোদ্ধাদের পাশাপাশি টিকা নিতে পারছেন নিবন্ধিত সাধারণ নাগরিকরাও। টিকা নিয়ে যাতে কোন ধরনের গুজব বা ব্যবসা করার সুযোগ সৃষ্টি না হয় সেব্যাপারে সতর্ক থাকার আহবান জানান বিশিষ্টজনরা।
দেশজুড়ে করোনার টিকাদান কর্মসূচির তৃতীয় দিনে ভিড় বাড়ছে কেন্দ্রগুলোতে। আজ মঙ্গলবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) সকাল আটটা থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে এক হাজারেরও বেশি কেন্দ্রে চলছে টিকা দেয়া।
কর্মসূচির শুরুতে সম্মুখসারির যোদ্ধাদের পাশাপাশি ৫৫ বছরের উর্ধ্বে ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা দেয়ার কথা ছিলো। তবে, করোনার টিকা নেয়ার পদ্ধতি সহজ করতে আবেদনকারীদের বয়সসীমা ৫৫ থেকে কমিয়ে ৪০ বছর করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তৃতীয় দিনে রাজধানীর কেন্দ্রগুলোতে বেড়েছে টিকা প্রত্যাশীদের ভীড়। স্বাচ্ছন্দে টিকা নিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।
রাজধানীর নিউরোসাইন্স হাসপাতালে মঙ্গলবার টিকা নিয়েছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, সিপিবি’র সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম। আরো উৎস থেকে টিকা সংগ্রহ করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান তিনি।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া সামান্য হওয়ায় টিকা নেয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এছাড়া, প্রতিটি কেন্দ্রে রাখা হয়েছে জরুরি চিকিৎসা সেবা। চিকিৎসক ও নার্সের পাশাপাশি মেডিকেল টিম কাজ করছে টিকা কেন্দ্রগুলোতে।
এদিকে ঢাকার বাইরেও টিকা নিচ্ছেন সংসদ সদস্যসহ নাগরিকরা। দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলায় চলছে করোনা টিকাদান কার্যক্রম।
