
ফাতেহ ডেস্ক
যুব মহিলা লীগের সদ্য বহিষ্কৃত নেতা শামীমা নূর পাপিয়ার কাছে ভয়াবহ নির্যাতনের বর্ণনা দিলেন তিন ভুক্তভোগী।
এদের সকলকে নরসিংদীতে আটকে রেখে নির্যাতন করে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে পাপিয়ার বিরুদ্ধে। সোমবার সকালে, বিমানবন্দর থানা থেকে এসব তথ্য জানান তারা।
এক ভুক্তভোগী বলেন, আমার বস টিটু মিয়া, উনার সঙ্গে গেছি। উনি টাকা পাবে ঐখানে, যাওয়ার পর তাকে ব্ল্যাকমেইল করে ব্লক করে দেয়। নারী পাচারসহ অনেক কিছু বলে তাকে, যাতে নড়ার মত কোন শক্তি নাই। এটা বলার মত কোন কাহিনী! যা এই বয়সে আমি দেখি নাই।
আরেক ভুক্তভোগী জানান, এই পাপিয়া চারজনকে আটকে টর্চার করে বলে, টাকা দিবি ১০ লাখ। সঙ্গে সাব্বির ছিলো, আর সুমন পরে আসছে। পরে, ২ লক্ষ ২৬ হাজার টাকা আমি ব্যাংকের মাধ্যমে দিয়েছি।
এছাড়া আরও ভুক্তভোগী বলেন, এক শনিবার দিন বিকেলবেলা ছাদের ওপর নিয়ে মাইর কাকে বলে। ওরা কি জানি খাইয়া লয়, তারপর মারা শুরু করে। মারসে বেশি সাব্বির, সে জঘন্য মারা মারসে, আর ওই মহিলার ব্যাপরে কি বলমু। ওই মহিলারে আমাদের কাছে দজ্জাল মহিলা লাগে।
প্রসঙ্গত, গত শনিবার দুপুরে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে দেশত্যাগের সময় শামিমা নূর পাপিয়া ওরফে পিউসহ চারজনকে আটক করে র্যাব-১। আটক অন্যরা হলেন: পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী ওরফে মতি সুমন (৩৮), সাব্বির খন্দকার (২৯) ও শেখ তায়্যিবা (২২)।
হোটেল ওয়েস্টিনে অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অঢেল অর্থ ব্যয় ও নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে, পাপিয়ার বাসা ও পাঁচতারকা একটি হোটেল থেকে পাঁচটি পাসপোর্ট, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, একটি বিদেশি পিস্তল, দুইটি ম্যাগজিন, ২০ রাউন্ড গুলি, বিদেশি মুদ্রা ও কয়েক বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করে র্যাব। আর, পাপিয়া এবং তার স্বামী মফিজুর রহমানের মালিকানায় ইন্দিরা রোডে বিলাসবহুল দুটি ফ্ল্যাট, নরসিংদীতে দুটি ফ্ল্যাট ও দুই কোটি টাকা দামের দুটি প্লট, তেজগাঁওয়ে এফডিসি ফটকের কাছে কার এক্সচেঞ্জ নামের গাড়ির শো রুমে এক কোটি টাকার বিনিয়োগ ও নরসিংদী জেলায় ‘কেএমসি কার ওয়াশ অ্যান্ড অটো সলিউশন’ নামের প্রতিষ্ঠানে ৪০ লাখ টাকা বিনিয়োগের হদিসও পাওয়া গেছে। আজ সোমবার নিম্ন আদালতে তোলা হচ্ছে তাকে।
-এ
