
ফাতেহ ডেস্ক :
নরওয়ে’র ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড শহরে থারসন নামের এক ইসলাম-বিদ্বেষী কর্তৃক কুরআন পোড়ানোর হীনচেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ। একই সঙ্গে তিনি থারসনকে কুরআন পুড়ানো থেকে প্রতিহতকারী মুসলিম যুবক ইলিয়াসের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন এবং তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
আজ রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজতে ইসলামের জেষ্ঠ এ নেতা বলেন, নরওয়েতে যে ইসলাম-বিদ্বেষী লোক কুরআন পুড়ানোর অপচেষ্টা চালিয়েছে, এ ঘটনায় বিশ্বের প্রতিটা মুসলমান ক্ষুব্ধ, ক্রুদ্ধ এবং মর্মাহত।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি, যুগে যুগে দেশে দেশে কুরআন পুড়িয়ে কুরআন নিশ্চিহ্ন করার যে দিবাস্বপ্ন দেখছে ইসলামের বিরুদ্ধবাদীরা, তা কখনোই বাস্তবায়িত হবে না। তারা লক্ষ-কোটি কুরআন জ্বালাতে পারবে, যেভাবে ব্রিটিশরা ভারত উপমহাদেশে তাদের উপনিবেশের সময় জ্বালিয়েছিল, কিন্তু কুরআনের একটি হরফও তারা মেটাতে পারবে না। কারণ, এ কুরআন কোটি কোটি মুসলমানের সিনায় সংরক্ষিত আছে। কিন্তু কুরআনের প্রতি মুসলমানদের সীমাহীন ভালোবাসা থাকবার কারণে কুরআনের কপি কেউ আগুনে পুড়ালে তাদের কলিজায় আঘাত লাগে। কুরআনের জন্য তখন তারা নিজেদের জীবন কুরবান করে দিতেও পরোয়া করে না। নরওয়ের ঘটনায় উগ্র লোকটিকে যে মুসলিম যুবক প্রতিহত করল দুর্দান্ত সাহসিকতার সাথে, এটা সেই কুরবানিরই জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত।
মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, আমরা অসীম সাহসী সেই মুসলিম যুবক, যিনি ইতিমধ্যেই বিশ্ব মুসলিমের কাছ থেকে ‘হিরো অব দ্যা মুসলিম’ খেতাবে ভূষিত হয়েছেন, তাঁর সাহসের প্রশংসা করছি এবং তাঁর কৃতজ্ঞতা আদায় করছি। দোআ করি তাঁর সাহস ও শক্তিতে আল্লাহ আরও বরকত দান করুন। একই সঙ্গে থারসন নামক ওই নরাধমকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছি নরওয়ে সরকারের কাছে। পাশাপাশি পশ্চিমা বিশ্বে যে হারে ইসলাম-বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে তা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি। অন্যথায় মুসলমানরা সহ্যের সীমা অতিক্রম করে ফেললে পরিণতি ভয়াবহতার দিকে যেতে পারে।
মুফতী ফয়জুল্লাহ আরও বলেন, নরওয়েতে কুরআন পুড়ানোর অপচেষ্টার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জোর দাবি থাকবে, সরকারিভাবে যেন এই ঘটনার নিন্দা জানানো হয়।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে দায়িত্বরত নরওয়ের রাষ্ট্রদূতকে ডেকে এনে যেন এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং ভবিষ্যতে দেশটিতে যেন এমন ঘটনা আর কেউ না ঘটাতে পারে সে ব্যাপারে নরওয়ে সরকারকে জোর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
