আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
নারীকর্মী না পাঠালে পুরুষকর্মী নেয়া হবে না- সৌদি আরবের এমন অলিখিত শর্তের কারণে রাতারাতি রিক্রুটিং এজেন্সি নারীকর্মী পাঠাতে মরিয়া হয়ে ওঠে বলে জানিয়েছে অভিবাসন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এতে নারীদের সুরক্ষার বিভিন্ন দিক যেমন উপেক্ষিত থাকছে, তেমনি বাড়ছে বিদেশে নারী নির্যাতনের সংখ্যাও।
সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেয়া বন্ধ রাখে সৌদি আরব। কয়েক বছর ধরে সৌদির শ্রমবাজারে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে আলোচনা চললেও তা খুলছিল না। এরই মধ্যে নির্যাতনের অভিযোগ এনে ফিলিপাইন সৌদিতে নারীকর্মী পাঠানো বন্ধ করে দেয়। তখন সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে একজন পুরুষকর্মীর সঙ্গে একজন নারীকর্মী দেয়ার শর্ত জুড়ে দেয়। বাংলাদেশ অন্যতম বৃহৎ এ শ্রমবাজার উন্মুক্ত করতে মাত্র ৯০০ রিয়াল বেতনের বিনিময়ে নারীকর্মী পাঠাতে রাজি হয় সরকার।
মূলত ১৯৯১ সাল থেকে বিদেশে নারীকর্মী পাঠাতে শুরু করে বাংলাদেশ। পরবর্তী ২৪ বছর পর্যন্ত শুধুমাত্র ১৫ রিক্রুটিং এজেন্সি বিদেশে নারীকর্মী পাঠানোর অনুমতি পায়। কিন্তু গত চার বছরে রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা ৬০০ ছাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে এখন ৬২১ রিক্রুটিং এজেন্সির বিদেশে নারীকর্মী পাঠানোর অনুমতি রয়েছে। সর্বশেষ গত ৯ অক্টোবর ৫৮ রিক্রুটিং এজেন্সি নারীকর্মী পাঠানোর অনুমতি পায়। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মোহাম্মদ শাহীন স্বাক্ষরিত আদেশে এ অনুমতি দেয়া হয়।
অভিযোগ উঠেছে, সৌদি দূতাবাস নারীকর্মী পাঠানোর লাইসেন্স করতে এজেন্সিগুলোকে বাধ্য করছে। নারীকর্মী পাঠানোর লাইসেন্স না থাকলে সেসব রিক্রুটিং এজিন্সর কোনো বই তারা জমা নিচ্ছে না।
অভিবাসন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাতারাতি এত এজেন্সিকে নারীকর্মী পাঠানোর অনুমতি দেয়ায় এ খাতে কল্যাণ বয়ে আনেনি। কোনো ধরনের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই নারীকর্মী পাঠাচ্ছে এসব এজেন্সি। ফলে নারীদের সুরক্ষার বিভিন্ন দিক উপেক্ষিত থাকছে। বাড়ছে বিদেশে নারী নির্যাতনের সংখ্যাও।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রধান শরিফুল হাসান এ প্রসঙ্গে গণমাধ্যমকে বলেন, বিদেশে নারীকর্মী পাঠানো বেশ স্পর্শকাতর বিষয়। অনেক কিছু জানতে হয়। তাদের নিরাপত্তাসহ নানা বিষয় দেখভাল করতে হয়। অথচ রাতারাতি ছয় শতাধিক এজেন্সি সেই অনুমতি পেল, যাদের অনেকেরই অভিজ্ঞতা নেই। যারা এসব সংবেদনশীলতা বা নিরাপত্তার বিষয়গুলোও বোঝে না। যে কারণে নারীনির্যাতন বাড়ছে।
উল্লেখ্য, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) সূত্রে জানা গেছে, গত বছর সৌদি যায় ৭৩ হাজার ৭১৩ নারীকর্মী। ২০১৭ সালে ছিল ৮৩ হাজার ৩৫৪। চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত সৌদি গেছেন ৪৪ হাজার ৭১৩ নারীকর্মী।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে প্রতি মাসে গড়ে ২০০ নারী শ্রমিক দেশে ফিরেছেন। একই সঙ্গে সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দায় সেফহোমে গড়ে ২০০ নারী শ্রমিক আশ্রয় নিয়েছেন। গত দু-তিন বছরে অন্তত পাঁচ হাজার নারী সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। এসব নারীর একটি বড় অংশ নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার।
