
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটো মসজিদে ১৫ মার্চ শুক্রবার খ্রিষ্ট উগ্রবাদীদের হামলার ঘটনায় শাহাদতবরণকারী মুসল্লিদের অধিকাংশের নাম-তালিকা প্রকাশ করেছে ডেইলি মেইল। তালিকায় তাঁদের ছবিও দেয়া হয়েছে। নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডও প্রকাশ করেছে এমন একটি তালিকা। তালিকায় দেখা গেছে শাহাদতবরণকারীদের বেশিরভাগই অভিবাসী।
বিবিসি অনলাইন জানিয়েছে, তাঁদের মধ্যে অনেকেই পরিবার নিয়ে কোলাহলমুক্ত ও বিশুদ্ধ পরিবেশে একটু শান্তিতে জীবনযাপন করতে নিউজিল্যান্ডে বসবাস করছিলেন।
তালিকায় প্রকাশিত শহিদদের মধ্যে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত, আফগানিস্তান, সিরিয়া, মিসর, জর্ডান, ফিজি, ইন্দোনেশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও সোমালিয়ার নাগরিক রয়েছেন।
নানা বয়েসের মানুশের সাথে ২ শিশু ও ২ কিশোরেরও নাম রয়েছে এ তালিকায়। তারা হলো- মুকাদ ইব্রাহীম (৩), আবদুল্লাহ দিরিয়া (৪), সায়দ মিলনে (১৪) ও হামজা (১৬)। ছোট্ট শিশু মুকাদ বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে ওই দিন আল-নুর মসজিদে গিয়েছিল। বাবা ও ভাই সেদিন পালিয়ে জীবন রক্ষা করতে পারলেও শিশু মুকাদ জঙ্গি ব্রেনটন টেরেন্টের হাত থেকে রেহাই পায়নি। পৃথিবীর ঝগড়া-ফাসাদ বোঝার আগেই খ্রিষ্ট হিংস্রতার বলি হয়ে জীবন দিতে হলো সে ও বাকি তিন শিশু-কিশোরকে।
তালিকায় প্রকাশিত শহিদদের অন্যান্যরা হলেন, ওসামা আদনান আবু কাইক (৩৭), মহসিন আল হারবি (৬৩), জিহান রাজা (৩৮), লিন্ডা আর্মস্ট্রং (৬৫), কামাল দারিশ (৩৯), মাহবুব খন্দকার (৬৫), খালেদ মুস্তফা (৪৫), ড. হারুন মাহমুদ (৪০), মোহাম্মদ আবদুস সামাদ (৬৬), নাঈম রশিদ ও তার ছেলে তালহা (২১), হুসনে আরা পারভিন (৪২), আলি ইলমাদানী (৬৬), তরিক রহমান (২৪), সৈয়দ জাহানদাদ আলি (৪৩), মনির সোলায়মান (৬৮) ওজায়ের কাদের (২৪), মোহাম্মদ ইমরান খান (৪৭), আমাদ জামালুদ্দিন আবদুল গনি (৬৮), সৈয়দ আরীব আহমেদ (২৬). মাতুল্লাহ সাফি (৬৫), হুসাইন মোস্তফা (৭০), রমিজ ভোরা (২৮), লিলিক আবদুল হামিদ (৫৮), হাজি দাউদ নবী (৭১), ফরহাজ আহসান (৩০), মোহাম্মদ আলি ভোরা (৫৮), মোজাম্মেল হক (৩০), গোলাম হুসেইন ( ৬০), আত্তা ইলায়ান (৩৩), করম বিবি (৬০), হুসেইন আল উমারি (৩৬), মুসা ওয়ালি সুলেমান প্যাটেল (৬০), মোহাম্মদ ওমর ফারুক (৩৬), আবদেল ফাত্তাহ কাসেম (৬০), জুনায়েদ ইসমাইল (৩৬) এবং আশরাফ আলী (৬১)।

এ ছাড়া জাকারিয়া ভূঁইয়া নামে এক অভিবাসী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে ডেইলি মেইল।
এ হামলায় শহিদ ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচ বাংলাদেশি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশের অনারারি কনসাল শফিকুর রহমান ভূঁইয়া।
তন্মধ্যে দুই বাংলাদেশি হলেন স্থানীয় লিংকন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আবদুস সামাদ এবং গৃহবধূ হোসনে আরা ফরিদ।
হোসনে আরা স্বামীকে খুঁজতে গিয়ে শহিদ হন বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার।
পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদ থেকে আসা নাইম রশিদ (৫০) অনেকটা সময় বেঁচে ছিলেন। ভিডিও ফুটেজে বন্দুকধারীকে মোকাবেলা করার চেষ্টা করতেও দেখা গেছে তাঁকে। তবে উদ্ধারের পর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানেই মৃত্যু হয় এই বীরের।
শহিদ হয়েছেন নাইম রশিদের ছেলে তালহা রশিদও। পরিবার সূত্রে জানা গেছে বিয়েও ঠিক হয়ে গিয়েছিল তাঁর।
সাত মাস বয়সী ও তিন বছর বয়সী দুই শিশুসন্তান রেখে না ফেরার দেশে চলে গেছেন ভারতের হায়দরাবাদ থেকে আসা ফারহাজ আহসান।
নিহত হয়েছেন সিরিয়া যুদ্ধের শরণার্থী খালেদ মোস্তফা। যুদ্ধে অস্ত্রের ঝনঝনানি আর বুলেটের আওয়াজকে ত্যাগ করে শান্তিতে বাঁচতে নিউজিল্যান্ড এসেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই অস্ত্র থেকে রেহাই পায়নি তাঁর জীবন। এ ঘটনায় তাঁর এক ছেলে এখনও নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে।
এইচআর/
