
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
‘ধর্মনিরপেক্ষ’ ফরাসী সমাজকে রক্ষা করতে নতুন আইন আনার কথা ঘোষণা করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। শুক্রবার প্যারিসের কাছে অভিবাসী অধ্যুষিত একটি এলাকায় দেয়া ভাষণে তিনি একথা জানান। ‘ধর্মনিরপেক্ষ’ সমাজ রক্ষার কথা বলা হলেও মূলত এটি ইসলাম ও মুসলিম বিরোধী আইন। খবর বিবিসি।
তিনি বলেন, ফ্রান্সের ঐক্যের প্রধান বন্ধনই হচ্ছে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা।’ যে সব গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি ফ্রান্সের ঐক্য এবং ফরাসী প্রজাতন্ত্রের ‘ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধকে’ হুমকিতে ফেলছে তাদের মোকাবিলার জন্য নতুন একটি আইন তিনি আনছেন। ফরাসী সমাজের ওই কথিত শত্রু হিসাবে তিনি পরিষ্কার করেই চিহ্নিত করেছেন ‘কট্টর ইসলাম’কে।
খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রঁ যে আইন আনার কথা ঘোষণা করেছেন, অক্টোবরের মাঝামাঝি নাগাদ তার একটি খসড়া চূড়ান্ত হবে বলে জানা গেছে।
কী থাকবে আইনে
বিবিসির খবরে বলা হয়, প্রেসিডেন্টের বক্তব্য-বিবৃতি এবং সরকারি কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে যে, ইসলামি শিক্ষা, মাদ্রাসা, ইসলামি প্রতিষ্ঠানে বিদেশী চাঁদা এবং কট্টর ইসলামি ভাবধারা প্রসারের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি এবং তা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সরকারি চাকরিতে আছেন এমন কারো মধ্যে ‘কট্টর মতবাদে’ দীক্ষা নেয়ার কোনো ইঙ্গিত দেখা গেলে সরকার সেখানে সহজে হস্তক্ষেপ করতে পারবে।
খেলাধুলো, বিনোদন বা অন্য কোনো কর্মকাণ্ডের আড়ালে ধর্মীয় কট্টরবাদ ছড়ানোর কোনো চেষ্টায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ কঠোর হবে।
তিন বছর বয়স থেকে স্কুলে যাওয়া বাধ্যবাধকতা করা হবে এবং ঘরে লেখাপড়ার নিষিদ্ধ করা হবে। একটি ধারণা রয়েছে যে অনেক মুসলিম পরিবার মূল ধারার শিক্ষা এড়িয়ে বাচ্চাদের ঘরে বসে পড়ানোর নামে অনুমোদিত মাদ্রাসায় পাঠায়। আরবি ভাষায় পরিচালিত স্কুলের ওপর নজরদারি বাড়ানো হবে।
বিদেশ থেকে ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাঁদা নেয়ার ওপর কড়া নজরদারির ব্যবস্থা হবে, এবং ফরাসী রাষ্ট্রের মূল্যবোধের সাথে সাংঘর্ষিক কোনো সামাজিক-ধর্মীয় প্রকল্প নিষিদ্ধ হবে।
বাইরের দেশ থেকে ইমাম আনা বন্ধ করে ফ্রান্সের ভেতরে ইমাম প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। একটি ইসলামি ইন্সটিটিউট প্রতিষ্ঠা করবে সরকার যেখানে বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষার ব্যবস্থা থাকবে।
উল্লেখ্য, ফরাসী প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে ইসলাম একটি সঙ্কটে পড়েছে, এমনকি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেও এই ধর্মটি সঙ্কটে। এই ধর্মটিকে এখন আমাদের সাহায্য করতে হবে, যাতে তারা ফ্রান্স প্রজাতন্ত্রের অংশীদার হতে পারে। ফ্রান্সে এমন একটি ইসলাম প্রতিষ্টা করতে হবে যার ভিত্তি ‘জ্ঞানের আলো।’
