
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ইসলাম এবং মুসলিম বিরোধী বক্তব্যের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন দেশটির মুসলিম নেতারা। তারা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থে মুসলিম বিদ্বেষীদের সুরে গলা মিলিয়েছেন। খবর বিসিসি।
খবরে বলা হয়, শুক্রবার প্যারিসের কাছে অভিবাসী অধ্যুষিত একটি এলাকায় ঘণ্টাখানেকেরও বেশি সময় ধরে এক ভাষণে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ বলেন, ফ্রান্সের ঐক্যের প্রধান বন্ধনই হচ্ছে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা।’ যে সব গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তি ফ্রান্সের ঐক্য এবং ফরাসী প্রজাতন্ত্রের ‘ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধকে’ হুমকিতে ফেলছে তাদের মোকাবিলার জন্য নতুন একটি আইন তিনি আনছেন। ফরাসী সমাজের ওই কথিত শত্রু হিসাবে তিনি পরিষ্কার করেই চিহ্নিত করেছেন ‘কট্টর ইসলাম’কে।
প্যারিস মসজিদের রেক্টর শামসেদ্দিন হাফিজ দৈনিক ল্য ম্যঁদ-এ এক উপ-সম্পাদকীয়তে প্রেসিডেন্টের পুরো বিবৃতি এবং তার প্রস্তাবিত আইনকে ‘ছল-চাতুরি’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ইমেজ বাড়াতে এ ধরণের জনপ্রিয় কথাবার্তার বদলে ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস দরকার। মি ম্যাক্রোঁ যেসব পরিবর্তনের কথা বলছেন, তা ‘রাষ্ট্রের ক্ষমতার আওতায় পড়ে না।’
ফরাসী মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আমর লাসফার রয়টার্স বার্তা সংস্থার সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ইসলাম এবং মুসলিমদের নিয়ে ম্যাক্রোঁ যেসব শব্দ এবং বিশেষণ ব্যবহার করেছেন তা আপত্তিকর। তিনি মানুষের সামনে একটি বিপদ, ভীতি তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন, যার সাথে আমি একমত নই। তিনি শুধুই কট্টরপন্থা বা উগ্রবাদ নিয়ে কথা বলতে পারতেন। ‘ইসলামি উগ্রবাদ’ শব্দটি ব্যবহার করে সমস্ত মুসলিমকে এক কাতারে ফেলে দেয়া ঠিক হয়নি।’
লেখক গবেষক ব্রুনো ম্যাকায়েস টুইট করেছেন, ‘মি ম্যাক্রঁ ইসলাম সম্পর্কে তার মনোভাব চেপে রাখেননি। এখন শুধু ‘কট্টর ইসলাম’ই তার কাছে সমস্যা নয়, ইসলাম ধর্মই তার সমস্যা।’
ফরাসী মুসলিম মানবাধিকার কর্মী ইয়াসের লুয়াতি টুইট করেছেন, ‘মুসলিমরা এমনিতেই আক্রমণের হুমকিতে। এখন ম্যাক্রোঁ আরো আক্রমণের প্রতিশ্রুতি দিলেন। তার এক ঘণ্টার ভাষণে তিনি ধর্মনিরপেক্ষতাকে জলাঞ্জলি দিয়েছেন এবং কট্টর ডানপন্থী এবং মুসলিম বিদ্বেষী বামপন্থীদের সুরে গান গেয়েছেন।’
