
ফাতেহ ডেস্ক
জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যসমূহ (এসডিজি) অর্জনে পারমাণবিক শক্তি নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, চিকিৎসা বিজ্ঞান, গবেষণা, সুপেয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, খাদ্য নিরাপত্তাসহ মানুষের কল্যাণ সাধনে আমরা পারমাণবিক শক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ‘পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ সংক্রান্ত চুক্তি (এনপিটি) অনুস্বাক্ষরকারীদের রিভিউ সম্মেলন ২০২০’-এর প্রস্তুতি কমিটির তৃতীয় সেশনের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মোমেন বলেন, ইতিমধ্যে বাংলাদেশ তার প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ শুরু করেছে যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।
এনপিটি’র পূর্ণ বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অব্যাহত প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রতিশ্রুতি এসেছে আমাদের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনুসৃত নীতি-আদর্শ থেকে।
১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বঙ্গবন্ধুর প্রদত্ত বক্তব্যের উদ্বৃতি দিয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, আমরা স্বাগত জানাই সেই সকল প্রচেষ্টাকে, যার লক্ষ্য বিশ্বে উত্তেজনা হ্রাস করা, অস্ত্র প্রতিযোগিতা সীমিত করা ও পৃথিবীর প্রতিটি স্থানে শান্তিপূর্ণ সহ-অবস্থান নীতি জোরদার করা।
‘পারমাণবিক অস্ত্র নিরোধ চুক্তি, রাসায়নিক অস্ত্র বিষয়ক কনভেনশন, বায়োলজিক্যাল অস্ত্র বিষয়ক কনভেনশন, ব্যাপকভিত্তিক পারমাণবিক পরীক্ষা নিরোধ চুক্তি ও অস্ত্র বাণিজ্য চুক্তিসহ নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক সকল প্রধান প্রধান বহুপাক্ষিক চুক্তিসমূহে বাংলাদেশ স্বাক্ষরকারী দেশ,’ যোগ করেন তিনি।
পারমাণবিক অস্ত্র ও পারমাণবিক ফিউশন সরঞ্জাম ভুল হাতে পড়ার ক্ষেত্রে হুমকির ভয়াবহতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন মাসুদ বিন মোমেন।
জাতিসংঘ সদরদপ্তরে ‘পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ সংক্রান্ত চুক্তি (এনপিটি) অনুস্বাক্ষরকারীদের রিভিউ সম্মেলন ২০২০’ এর প্রস্তুতি কমিটির তৃতীয় সেশন গত ২৯ এপ্রিল শুরু হয়েছে যা আগামী ১০ মে শেষ হবে।
