বৈশ্বিক মহামারী : করোনা ভাইরাস ও ব্ল্যাক ডেথ

মুনশী নাঈম :

পৃথিবীটা ভালো নেই। রহস্যময় করোনা ভাইরাসের বিষাক্ত ছোবলে উর্ধ্বশ্বাস উঠছে মানুষের। কার্যত বিকল হয়ে পড়ছে আমাদের বেঁচে থাকার যাবতীয় চঞ্চলতা। প্রতিদিন মারা যাচ্ছে মানুষ; উপশম নেই, প্রতিশেধক নেই। এই করোনা ভাইরাসের সঙ্গে মিল আছে সেই মধ্যযুগের এক মহামারির; যার প্রভাবে ইউরোপ এবং এশিয়া মহাদেশের (ইউরেশিয়া) ৭৫ থেকে ২০০ মিলিয়ন মানুষ মৃত্যুবরণ করেছিল। ভয়ংকর এই মহামারির নাম ‘দ্য ব্ল্যাক ডেথ’। এই লেখায় করোনাভাইরাস এবং ব্ল্যাক ডেথ নিয়ে নতুন একটা আলাপ থাকছে।

করোনা ভাইরাস কি?

করোনা ভাইরাস ১৯৬০-এর দশকে প্রথম আবিষ্কৃত হয়। প্রথমদিকে মুরগির মধ্যে সংক্রামক ব্রঙ্কাইটিস ভাইরাস হিসেবে এটি প্রথম দেখা যায়। পরে সাধারণ সর্দিকাশিতে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এরকম দুই ধরনের ভাইরাস পাওয়া যায়। মানুষের মধ্যে পাওয়া ভাইরাস দুটি ‘মনুষ্য করোনা ভাইরাস ২২৯ই’ এবং ‘মনুষ্য করোনা ভাইরাস ওসি৪৩’ নামে নামকরণ করা হয়। এরপর থেকে বিভন্ন সময় ভাইরাসটির আরো বেশ কিছু প্রজাতি পাওয়া যায়। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ২০০৩ সালে ‘এসএআরএস-সিওভি’, ২০০৪ সালে ‘এইচসিওভি এনএল৬৩’, ২০০৫ সালে ‘এইচকেইউ১’, ২০১২ সালে ‘এমইআরএস-সিওভি’ এবং সর্বশেষ ২০১৯ সাল চীনে ‘নোভেল করোনা ভাইরাস’।

২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে করোনাভাইরাসের একটি প্রজাতির সংক্রামণ দেখা দেয়। উহান নগরীর কর্তৃপক্ষ এই নতুন ধরনের করোনা ভাইরাসটি শনাক্ত করেন। সেসময় এই ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ৪১ জন চীনা ব্যক্তির গুরুতর ফুসফুস প্রদাহ (নিউমোনিয়া) রোগ হয়েছিল এবং প্রথমদিকে তাদের রোগের কোনও পরিষ্কার কারণ বের করা যায়নি কিংবা প্রচলিত ভাইরাস নিরোধক চিকিৎসা দিয়ে তাদের সারিয়ে তোলা যায়নি। উহান নগরীর হুয়ানান সামুদ্রিক খাদ্যের পাইকারি বাজারে বিক্রিত কোনও প্রাণী থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে বাজারের দোকানদার ও ক্রেতাদের মধ্যে প্রথম ভাইরাসটির সংক্রমণ ঘটে বলে ধারণা করা হয়। পরবর্তীতে চীনা বিজ্ঞানীরা এই নতুন প্রকারের করোনা ভাইরাসটি পরীক্ষাগারে আলাদা করে শনাক্ত করতে সক্ষম হন।

করোনা ভাইরাসের উপসর্গ

ভাইরাসটি দেহে সংক্রমিত হবার পরে ২ থেকে ১৪ দিন সুপ্তাবস্থায় থাকতে পারে এবং এ সময় বাহকের অগোচরে এটি অপর কোনও ব্যক্তির দেহে সংক্রমিত হতে পারে। ভাইরাসটির সংক্রমণের ফলে যে ব্যাধিটি হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তার নাম দিয়েছে ২০১৯ সালের কোভিড নাইনটিন ব্যাধি। এই ব্যাধির উপসর্গগুলির মধ্যে আছে জ্বর, শুকনো কাশি, শ্বাসকষ্ট, পেশীতে ব্যথা ও অবসাদগ্রস্ততা। সঠিক সময়ে সেবা-শুশ্রুষা না পেলে ব্যাধিটি জটিল আকার ধারণ করে, যার ফলে ফুসফুস প্রদাহ (নিউমোনিয়া), তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত উপসর্গসমষ্টি, রক্তে জীবাণুদূষণরোধী তীব্র অনাক্রম্য প্রতিক্রিয়া (সেপসিস) ও জীবাণুদূষণজনিত অভ্যাঘাত (সেপটিক শক) হতে পারে এবং পরিশেষে মৃত্যুও হতে পারে।

আক্রান্তের সংখ্যা ( ৬ মার্চ)

বর্তমানে বিশ্বের ৮৬ টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে এই ভাইরাসের প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় নাগরিকদের জনসমাগম ও ভ্রমণের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করেছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, মধ্যপ্রাচ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসে এখন প্রায় পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজার মৃত্যুবরণ করেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় লাখ খানেক।

দ্য ব্ল্যাক ডেথ

মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক ভয়াবহ মহামারির নাম ব্ল্যাক ডেথ বা কালো মৃত্যু। চতুর্দশ শতকের মাঝামাঝি পর্যায়ে এই মহামারীটির সূত্রপাতও চীনে। চীনে, ১৩ তম শতাব্দীতে মঙ্গলদের বিজয়ে চাষের এবং ট্রেডিংয়ের পতন ঘটে। তারপর চীনে ১৩৩০-এর দশকে বেশ কয়েকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মহামারীর ফলে ১৩৩১ সালে ব্যাপক দুর্ভিক্ষের সৃষ্টি হয়, যার পরপরই একটি মারাত্মক মহামারী আসে। এতে আনুমানিক ২৫ মিলিয়ন চীনা ও এশিয়বাসী নিহত হয়েছিল।

এরপর এই রোগটি মঙ্গোল বাহিনী এবং ব্যবসায়ীদের সাথে ১২টি জাহাজে করে ১৩৪৭ সালের অক্টোবরে এসে উপস্থিত হয় ইউরোপের মেসিনার সিসিলিয়ান বন্দরে। জাহাজগুলো হাজির হওয়ার পর বন্দরে উপস্থিত জনতা পায় এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার আস্বাদ। তারা আবিষ্কার করে, জাহাজগুলোতে থাকা অধিকাংশ নাবিকই মরে পড়ে আছে। আর যারা বেঁচে আছে, তাদের অবস্থাও শোচনীয়। সারা গা ভরে গেছে কালো রঙের ফোঁড়া। অনেকের তো ফোঁড়াগুলো পচে গিয়ে পুঁজও বের হচ্ছে।

মেসিনা আক্রমণের কিছুদিনের পরই কালো মৃত্যু ছড়িয়ে পড়ে ফ্রান্সের মার্সেই বন্দর এবং উত্তর আফ্রিকার টিউনিস বন্দরেও। এরপর এটি গিয়ে পৌঁছায় রোম ও ফ্লোরেন্স, অর্থাৎ তৎকালীন সময়ের বাণিজ্যের প্রধানতম দুইটি কেন্দ্রীয় নগরীতে। ১৩৪৮ সালের মধ্যেই কালো মৃত্যু হানা দেয় প্যারিস, বর্দিউ, লিওঁ এবং লন্ডনে। এভাবে ইউরোপের একটি বন্দর থেকে কালো মৃত্যু স্বল্পতম সময়ের মাঝে বিস্তার লাভ করে সমগ্র মহাদেশেই।

ইয়েরসিনা পেস্টিস নামক একটি ব্যাসিলাস থেকে মহামারিটির জন্ম। উনবিংশ শতকের শেষ দিকে ফরাসি জীববিজ্ঞানী আলেক্সান্দ্রে ইয়েরসিন এ জীবাণুটি আবিষ্কার করেন। এ ব্যাসিলাসটি এক মানুষের দেহ থেকে অন্য মানুষের দেহে ছড়িয়ে পড়ত মূলত শারীরিক সংস্পর্শের মাধ্যমে। এছাড়া বাতাসে ভেসে কিংবা জীবাণুবাহী মাছি বা ইঁদুরের কামড়েও এটি নতুন নতুন শিকার খুঁজে নিত।

আজকের দিনে উন্নত চিকিৎসা বিজ্ঞানের কারণে আমরা হয়তো খুব সহজেই এ রোগের কার্যকারণ বলে দিতে পারছি, কিন্তু তৎকালীন সময়ে এ রোগটি ছিল সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ, সকলের জানা-বোঝার উর্ধ্বে। চতুর্দশ শতকে কেউই জানত না এর প্রকৃত ব্যাখ্যা কী। ভয়ের কারণে অনেক সুস্থ মানুষই অসুস্থদের এড়িয়ে চলত, চিকিৎসকরা রোগী দেখতে যেতে চাইতেন না, এমনকি যাজক বা পুরোহিতরাও মৃতের শেষকৃত্য পালন করায় অস্বীকৃতি জানাতেন। অনেক দোকানিই তাদের দোকান বন্ধ রাখত, আবার অনেকে শহর ছেড়ে গ্রামেও পালিয়ে যেত। মানুষের পাশাপাশি আক্রান্ত হতো গরু, ভেড়া, ছাগল, শূকর, মুরগি প্রভৃতি জীবও।

ব্ল্যাক ডেথের উপসর্গ

এ রোগে আক্রান্ত কোনো নারী বা পুরুষ প্রথমে তার কবজি বা বগলের কোনো স্থানে টিউমারের মতো কিছু একটার অস্তিত্ব অনুভব করে। একটু একটু করে সেই টিউমারটি আকৃতিতে বৃদ্ধি পেতে থাকে, এবং পর্যায়ে সেটি আপেল বা ডিমের মতো বড় হয়ে ওঠে। তারপর সেটি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। কালো রঙের এক ধরনের ফোঁড়া দেখা যেতে থাকে আক্রান্তের শরীরে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এক পর্যায়ে আক্রান্ত ব্যক্তির সমস্ত শরীরে ফোঁড়াগুলো দেখা যেতে থাকে। কয়েক দিন পর সেগুলো পচে গিয়ে পুঁজ বের হতে থাকে, আর মাত্র তিন থেকে সাত দিনের মধ্যেই তার মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর আগে আরো কিছু উপসর্গও রোগীর মাঝে দেখা যেত, যেমন: জ্বর, বমি, ডায়রিয়া, ঠান্ডা অনুভূতি, সারা শরীরে ব্যথা ইত্যাদি।

ব্ল্যাক ডেথে মৃতের সংখ্যা

প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা কত, সে হিসাব কেউ রাখতে পারেনি। মধ্যযুগীয় ইতিহাস নিয়ে যারা গবেষণা করেছেন, তাদের অন্যতম ফিলিপ ডেইলিভার। তিনি ২০০৭ সালে লিখেছেন: ‘সাম্প্রতিক গবেষণা থেকে বেরিয়ে এসেছে চার বছর মেয়াদি প্লেগ মড়কে ইউরোপের ৪৫-৫০ ভাগ জনসংখ্যা বিলীন হয়ে যায়। তবে ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় এ হিসাবের তারতম্য দেখা যায়—ভূমধ্যসাগরীয় ইউরোপ যেমন ইতালি, দক্ষিণ ফ্রান্স ও স্পেনে ৭৫-৮০ ভাগ মানুষের মৃত্যু হয়; কিন্তু জার্মানি ও ইংল্যান্ডে জনসংখ্যার ২০ ভাগ প্লেগের বলি হয়।’

নরওয়েজিয়ান ঐতিহাসিক ওলে বেনেভিকটাও মনে করেন, প্লেগ ইউরোপের ৬০ ভাগ মানুষকে চিরদিনের জন্য হরণ করে নিয়েছে। তিনি মনে করেন, সে সময় মূল ইউরোপীয় ভূখণ্ডে প্রায় আট কোটি মানুষ জীবনধারণ করত, তাদের মধ্যে ব্ল্যাক ডেথের শিকার হয় পাঁচ কোটি মানুষ। তখন প্যারিস শহরে বাস করত এক লাখ মানুষ। চার বছর পর সংখ্যাটি ৫০ হাজারে নেমে আসে। ১৩৩৮ সালে ইতালির ফ্লোরেন্সে জনসংখ্যা ছিল ১ লাখ ২০ হাজার, ১৩৫১ সালে সংখ্যাটি কমে ৫০ হাজার হয়ে যায়। জর্মানির হামবুর্গ ও ব্রেমেনে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ মানুষ প্রাণ হারায়। লন্ডনেও তাই, মৃতের সংখ্যা ৬২ হাজার। ১৩৫০ সালে জার্মানিতে বসতি ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার; শতবর্ষ পরে তা ৪০ হাজারে নেমে আসে।

ফ্লোরেন্সের এক পর্যবেক্ষক লিখেছেন, ‘মরদেহ সমাহিত করার জন্য বহন করা ছাড়া নাগরিকদের আর করার কিছু ছিল না। প্রত্যেক চার্চে তারা গভীর ও বিশাল গর্ত খুঁড়ে প্রায় ভূগর্ভস্থ জলসীমায় পৌঁছে যেত। যেসব হতভাগ্য দরিদ্রজন রাতের বেলা মারা যেত, তাদের জড়ো করে দ্রুত ওই গর্তে ছুড়ে ফেলা হতো। সকালে যখন দেখা যেত গর্তে বহুসংখ্যক মানুষের দেহ জমেছে, তখন কোদাল চালিয়ে তাদের ওপর মাটি ফেলে দৃষ্টির আড়াল করা হতো। কিন্তু গর্ত ভরাট করা হতো না। পরদিন আবার একইভাবে সেই মাটির ওপর ছুড়ে ফেলা হতো আরো মরদেহ, তাদের ওপর আরো মাটি।’

মুসলিম ঐতিহাসিকদের বয়ানে ব্ল্যাক ডেথ

‘দ্য ব্রাইট স্টারস ইন দ্য কিংস অব মিশর অ্যান্ড কায়রো’ বইতে মিশরীয় ইতিহাসবিদ জামাল উদ্দিন বিন তাগরি বারদি (মৃত্যু: ৮৭৪ হিজরী) ৭৪৮ হিজরি / ১৩৪৭ খ্রিস্টাব্দে মিশরে ব্ল্যাক ডেথের সূচনা সম্পর্কে বলেছেন, ‘মহামারিটির উদ্ভব চীন দেশে। তারপর মিশরে যখন মহামারিটির আগমন, বসন্ত শেষ হয়ে তখন গ্রীষ্মের খরা শুরু হয়েছে। রোদের সঙ্গে তেতে উঠেছে মহামারির প্রকোপ। কায়রোতে প্রতিদিন পনেরো থেকে বিশ হাজারের মতো লোক মারা যাচ্ছিলো। লাশ বহন করা হতো কাঠের তক্তায়; এক গর্তেই চাপা দেয়া হতো ত্রিশ-চল্লিশজন।’

ঐতিহাসিক তাকিউদ্দিন মাকরিজি (মৃত্যু:৮৪৫ হি.) মিশরে ব্ল্যাক ডেথের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, ‘হাহাকার পড়ে গিয়েছিলো কায়রোতে। মহাসড়কগুলো ছিলো শূন্য; মৃতের আধিক্যের কারণে জীবিত মানুষ ছিল দুষ্প্রাপ্য। প্রতিটি বাড়ি থেকে ভেসে আসতো শোকের চিৎকার, রাস্তাঘাটে পড়ে থাকতো লাশের পর লাশ। ভয়ে সবাই কুঁকড়ে গিয়েছিলো; এমনকি ছেলে আক্রান্ত হলে মা-বাবা তার যত্ন নিতো না। কেউ উইল করতে চাইলে রোগীর বাড়িতে আসতো না উকিল।’

মহামারিটির উপসর্গের বর্ণনা দিয়ে মাকরিজি লিখেন, ‘এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি প্রথমে জ্বর অনুভব করে। বমি বমি ভাব হয়। রক্তের সঙ্গে থুতু বেরুয়। তারপর আচমকা ইন্তেকাল করে। ঘরের একজন আক্রান্ত হলে এক এক করে সবাই আক্রান্ত হতো।’

‘আস সুলুক লিমারিফাতিল মুলুক’ গ্রন্থে মাকরিজি লিখেছেন, মুসলিমরা দোয়া, তাওবা, ইসতেগফার এবং কুনুতে নাজেলা পড়ছিলো সবসময়। আমীর এবং ফকিহদের নেতৃত্বে দলে দলে মানুষ খোলা ময়দানে গিয়ে প্রার্থনা করছিলো রহমত। মহামারি থেকে মুক্তি।’

এছাড়াও ইবনে খালদুন (মৃত:৮০৮ হি.) এবং ইবনে হাজার আসকালানি (মৃত:৮৫২ হি.) প্রমুখ এই ব্ল্যাক ডেথ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

করোনাভাইরাস এবং ব্ল্যাক ডেথের মিল

মুসলিম এবং খৃস্টান ঐতিহাসিকগণ ব্ল্যাক ডেথের উপসর্গের যে বিবরণ দিয়েছেন, তা করোনাভাইরাসের মতোই অনেকটা। জ্বর দিয়ে শুরু হয়ে সর্দি, রক্তবমি তারপর মৃত্যু। তাছাড়া ব্ল্যাক ডেথের কারণ হিসেবে যে বিষয়গুলো উল্লেখ করেছেন ঐতিহাসিকগণ, তা আজকের এই যুগেও বিদ্যমান। মোটাদাগে দুটো কারণ বলেছেন তারা:

১. ডাক্তারগণ বলেছিলেন, প্রকৃতির বিষাক্ত বাতাসের কারণে এই মহামারি নেমে এসেছিল। অর্থাৎ তারমধ্যে প্রাকৃতিক এবং আঞ্চলিক একটা কারণ ছিলো। তাদের খাদ্যাভ্যাস, জীবন-প্রণালী মহামারির নেপথ্যে ক্রিড়নক হিসেবে কাজ করেছে।

২. আলেমগণ বলেছিলেন, ‘ধর্মীয় বিধি-নিষেধ মেনে না চলার কারণেই মহামারি প্রকট হয়েছে।’

সবচে লক্ষণীয় বিষয় হলো—এই বড় দুটি মহামারির ভৌগলিক উৎস চীন। দুটো মহামারির নেপথ্যে রয়েছে খাদ্যভ্যাস; ব্ল্যাক ডেথের পেছনে ইঁদুর, করোনাভাইরাসের পেছনে বাদুড়। চীনের খাদ্য সংস্কৃতি বড় জটিল, বারবার জন্ম দিচ্ছে ভয়ংকর সব মহামারির। ব্ল্যাক ডেথের কারণে যে ক্ষতি হয়েছে, তা আজো কাটিয়ে উঠতে পারেনি পৃথিবী। করুনাভাইরাসও ক্রমশ আরও ভয়ংকর হয়ে উঠছে। দোয়া এবং ইস্তেগফার করা ছাড়া এখন আমাদের আর কিছুই করার নেই। আল্লাহ হেফাজত করুন আমাদের।

সূত্র: আল জাজিরা, উইকিপিডিয়া, জাগো নিউজ

আগের সংবাদমহামারী ব্যাখ্যায় মুসলিম বোঝাপড়া
পরবর্তি সংবাদমহামারী নিয়ন্ত্রণ : ইসলামী নির্দেশনা