
ফাতেহ ডেস্ক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে গণপিটুনিতে দুই ডাকাত নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার দূর্গাপুর ইউনিয়নের নুনাপাড়া এলাকার হাবিবুর রহমানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন-হবিগঞ্জ জেলার মাধবপুর উপজেলার আব্দুল গফুরের ছেলে মো. জামাল (৩০) এবং সদর উপজেলার ধামচাইল এলাকার মো. শহীদ (৪০)। এদিকে ডাকাতের হামলায় বাড়ির গৃহকর্তা হাজী হাবিবুর রহমানসহ চারজন আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় আশুগঞ্জ থানায় ২টি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় পুলিশ।
আহত গৃহকর্তা মো. হাবিবুর রহমানের মেয়ে রুবিনা বেগম জানান, বুধবার রাতের খাবার খেয়ে সবাই ঘুমিয়ে পড়লেও তিনি রাত আনমানিক সাড়ে ১২টার দিকে সেহরী রান্না করছিলেন। এ সময় ১০-১২ জন ডাকাত হাবিবুরের বাড়িতে হানা দেয়। তারা বাড়ির মূল দেওয়াল টপকে গেট ভেঙে ভেতরে ঢোকে। এসময় তিনি এগিয়ে এলে তারা তার উপর হামলা করে। এসময় বাড়িতে থাকা অন্য সদস্যদের ঘুম ভেঙে গেলে তারাও এগিয়ে আসলে ডাকাত দল তাদের উপরও হামলা করে।
তিনি জানান, ডাকাত দলের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। এসময় ডাকাতের ছুরির আঘাতে গৃহকর্তা হাবিবুর রহমান, ভাই ছানাউল্লাহ মিয়া, পুত্রবধূ প্রীতি বেগম ও প্রবাসী ছেলে রাহুল আহত হন। তাদের চিৎকারে গ্রামের লোকজন ছুটে এসে বাড়ির চারপাশ ঘিরে ফেলে। এসময় ডাকাতদল পালাতে চেষ্টা করলেও গ্রামবাসী জামাল ও শহীদ নামে দুই ডাকাতকে আটক করে গণপিটুনি দেয়।
এ ব্যাপারে সরাইল সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মকবুল হোসেন বলেন, খবর পেয়ে আশুগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দুই ডাকাতকে উদ্ধার করে জেলাসদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত দুইজনের মৃত্যু হয়। বর্তমানে নিহতদের লাশ জেলাসদর হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। ঘটনাটি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে অনুসন্ধান করছে। ডাকাতি ও গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনায় দুটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
আহত হাবিবুর ও প্রীতি বেগমকে স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং ছানাউল্লাহ মিয়া ও রাহুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
