ভারতীয় অ্যাপে মুসলিম নারীদের নিলামে ‘বিক্রি’, গ্রেপ্তার হয়নি কেউ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ভারতে মুসলিম নারীদের অনলাইনে নিলামে ‘বিক্রি’ করে দেয়ার বিজ্ঞাপন দিয়ে তাদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এ কর্মকাণ্ডে মানসিকভাবেও মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত এসব নারী। এর মধ্যে রয়েছেন নারী পাইলট হেনা মোহসিন খান, নাবিয়া খান, লেখক, অধিকারকর্মী, সাংবাদিক সহ অনেক নারী। ঘটনাটি দু’মাস আগের হলেও এখন পর্যন্ত অনলাইনে এসব নারীকে বিক্রি করে দেয়ার অ্যাপ ‘সুলি ডিলস’ সৃষ্টিকারী কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।

সাংবাদিক, লেখিকা, প্রভাবশালী এমন কমপক্ষে ৮০ জন মুসলিম নারীকে নিলামে বিক্রি করে দেয়ার জন্য ‘সুলি ডিলস’ নামের একটি অ্যাপে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়। মুসলিম নারীদের অবমাননা করতে সুলি ডিলস শব্দটি ব্যবহার করে থাকে উগ্র ডানপন্থি হিন্দু পুরুষরা। এই অ্যাপের ব্যবহারকারীদেরকে পণ্যের মতো নিলামে এসব নারীকে ‘কেনা’র প্রস্তাব দেয়া হয়। প্রকৃতপক্ষে এর মাধ্যমে তাদেরকে ভীত, মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে দেয়া হতো। তাদেরকে যৌন নিগ্রহের শিকারে পরিণত করা হতো।

দু’মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্লাটফরম ‘গিটহাব’ ওই সাইটটি নামিয়ে ফেলে। কিন্তু এর সঙ্গে যুক্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারীরা। তারা বলেছেন, এর অর্থ এই নয় যে, তারা নীরব হয়ে যাবেন। ঘটনার শিকার নারী, বিরোধী আইনপ্রণেতা এবং অধিকারকর্মীরা ভারতের পুলিশের কাছে এ বিষয়ে কমপক্ষে চারটি অভিযোগ দাখিল করেছেন। তার মধ্যে হেনা মোহসিন খান অন্যতম।

দিল্লি পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তা প্রবীণ দুজ্ঞাল নিশ্চিত করেছেন যে, সাইবার সেলের একটি ইউনিট এ অভিযোগ তদন্ত করছে। তবে বিষয়টি ‘সিলড’। তাই তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিয়ে অস্বীকৃতি জানান।

সাইবার ক্রাইমের বিরুদ্ধে আইন আছে ভারতে। কিন্তু সাইবার বুলিং বা অনলাইনে কাউকে অবমাননা করার বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো বিধান বা আইন নেই। অথচ ভারতে দেদারছে নারীরা নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন এ মাধ্যমে।

সরকারের ২০১১ সালের শুমারি অনুযায়ী, ভারতে মোট নারীর সংখ্যা প্রায় ৫৮ কোটি। এর মধ্যে প্রায় ৬.৫ ভাগই মুসলিম। এর মধ্যে প্রথম সারির এসব নারীর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘নিলামে’ তোলার বিষয়টি ভাইরাল হওয়ার পর ২১ জন নারী হোয়াটসঅ্যাপে যুক্ত হয়েছেন। তারা একে অন্যকে সমর্থন দেয়ার জন্য এই গ্রুপটি সৃষ্টি করেছেন। এর সঙ্গে রয়েছেন কবি নাবিয়া খান। তিনি নিয়মিত টুইটারে পোস্ট দেন। সেখানে ভারতে একপেশে হয়ে পড়া মানুষদের কণ্ঠকে জোরালো করে প্রকাশ করেন তিনি। মনে করেন, এ কারণে তার দিকে দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছিল ‘সুলি ডিলস’-এর। হেনা মোহসিন খানের কোনো আত্মীয় নন নাবিয়া খান। তিনি বলেন, নির্যাতিত হওয়ার প্রতিবাদে তিনি পুলিশে অভিযোগ দিয়েছেন। কিন্তু এখনও তাদের কাছ থেকে কিছু ফলোআপ পাননি। নাবিয়া খান বলেন, আমি আশা করেছিলাম যে, আমার অভিযোগকে মর্যাদার সঙ্গে দেখা হবে। কিন্তু এখন দেখতে পাচ্ছি ন্যায়বিচারের পক্ষে এ নিয়ে কোনো পদক্ষেপই নেয়া হয়নি। এতে আমি ক্ষুব্ধ।

সামাজিক অধিকার আন্দোলনকারী এবং ইন্ডিয়ান মুসলিম ওমেন্স মুভমেন্টের প্রতিষ্ঠাতা জাকিয়া সোমান বলেছেন, অনলাইনে কুসংস্কারও ছড়িয়ে পড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মুসলিম নারীদের বিরুদ্ধে এ ধরণের হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে।

তথ্যসূত্র: সিএনএন, মানবজমিন

আগের সংবাদগোলাম পরওয়ারসহ জামায়াতের ৯ নেতা–কর্মী আটক
পরবর্তি সংবাদমিয়ানমার জান্তার বিরুদ্ধে ‘প্রতিরোধ যুদ্ধ’ ঘোষণা ছায়া সরকারের