ভারতের জৈন ধর্মে বাড়ছে সন্ন্যাসী হওয়ার মিছিল, ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এগিয়ে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্বাভাবিক সাংসারিক জীবন ত্যাগ করে সন্ন্যাসিনী হওয়ার দীক্ষা নেয়ার পর পালটে যায় জীবন। সন্ন্যাস বরণের পর আর বাবা-মাকে ‘বাবা-মা’ বলে ডাকতে পারবে না। চুল কেটে ন্যাড়া হতে হবে। খালি পায়ে হাঁটতে হবে। খেতে হবে শুধু ভিক্ষা করে। তাও আবার সব খাবার খাওয়া যাবে না। আরও কিছু কঠোর বিধিনিষেধ তাকে আজীবন মেনে চলতে হবে। গাড়ি চড়া যাবে না, গোসল করা যাবে না। ফ্যানের নিচে শোয়া যাবে না, মোবাইল ফোন ব্যবহার করা যাবে না।

এত কঠোর বিধিনিষেধ সত্ত্বেও দলে দলে সন্ন্যাসী হচ্ছে ভারতের জৈন ধর্মের তরুণ-তরুণীরা। বছরে বছরে তাদের সংখ্যা বাড়ছে এবং ছেলেদের চেয়ে মেয়েরা এই পথে বেশি যাচ্ছে। খবর বিবিসির।

মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ে জৈন দর্শন পড়ান ড. বিপিন দোশী। তিনি বলেন, ‘আগে বছরে বড় জোর ১০ থেকে ১৫টি দীক্ষা নেয়ার ঘটনা ঘটত। গত বছর সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৫০। এ বছর সংখ্যা ৪০০ হতে পারে।’

জৈন সমাজের নেতারা বলছেন, প্রধানত তিনটি কারণে এটি হচ্ছে : তরুণ বয়সীরা আধুনিক জীবনের চাপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে; আধুনিক প্রযুক্তির কারণে ধর্মের শিক্ষা, দর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে সহজে পৌঁছাচ্ছে এবং ধর্মীয় স্থানে সফরের সুযোগ তৈরি হওয়ায় অনেক তরুণ-তরুণী সন্ন্যাস জীবনের অভিজ্ঞতা নিতে আকৃষ্ট হচ্ছে।

নতুন দীক্ষা নেয়া সব জৈনরাই তাদের গুরুকে নিয়ে, গুরুর কথায় পাগল। ধর্মীয় গুরুরা তাদের শিষ্যদের কাছ শতভাগ আনুগত্য পান। ড. দোশী বলেন, ‘এই প্রবণতা সবসময় এ রকম ছিল না। আগে ধর্মীয় গুরুরা অনেক আত্মকেন্দ্রিক ছিলেন। তাদের নিজেদের আত্মার পরিশুদ্ধি নিয়েই মূলত তারা ভাবতেন। কিন্তু এখন এই ধর্মগুরুরা তরুণ যুবকদের কাছে ধর্মের বাণী পৌঁছে দিতে অনেক তৎপর। তারা (গুরুরা) ভালো কথা বলেন, নতুন প্রজন্মের কাছে তারা সহজ সাধারণ একটি জীবনের পথ তুলে ধরেন। তরুণ-তরুণীরা তাতে আকৃষ্ট হচ্ছে। ১০ বছর আগেও জৈনরা তাদের ধর্মীয় বইপত্র পড়তেন শুধু প্রাচীন অর্ধ মগধি এবং সংস্কৃত ভাষায়। কিন্তু এখন অনেক ধর্মীয় বইপত্র ইংরেজিতে অনুবাদ হয়েছে। জৈন ধর্মের ইতিহাস নিয়ে শর্ট-ফিল্ম হয়েছে। সোশাল মিডিয়ায় সেগুলো প্রচার করা হচ্ছে। ফলে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।’

শতশত জৈন তরুণ-তরুণী পার্থিব জীবন ত্যাগ করে সন্ন্যাস বরণ করছে। তারা বলছে, আগে ২৪ ঘণ্টা উদ্বেগের জীবন ছিল। পরিবারের জন্য উদ্বেগ, বন্ধুদের জন্য উদ্বেগ, নিজের চেহারা নিয়ে উদ্বেগ, পেশা নিয়ে উদ্বেগ। এখন আর তাদেরকে ভাবতে হয় না বন্ধুরা, স্বজনরা তাকে নিয়ে কী ভাবছে, কী চোখে দেখছে। তারা বলেন, ‘এখানে আমরা শুধুই আত্মার পরিশুদ্ধি নিয়ে ভাবি।’

আরএইচ/

আগের সংবাদবিদ্যুৎস্পৃষ্টে নিহত ৪ : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২, নীলফামারীতে ২
পরবর্তি সংবাদক্ষমা চাইল এয়ার ইন্ডিয়া : বিমানে জমজমের পানি বহন করতে পারবে হজযাত্রীরা