
ফাতেহ ডেস্ক :
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বাড়িতে এসেও দেখা না করে চলে যাওয়ায় খুবই মর্মাহত হয়েছেন ছাত্রলীগের নির্যাতনে নিহত আবরার ফাহাদের পরিবার।
ফাহাদের মা রোকেয়া বেগম জানান, আমি ফাহাদের মা বলছি। ভিসি আমার বাড়ির মেহমান, তার নিরাপত্তার দায়িত্ব আমি নিজেই নিতাম। প্রয়োজনে আমি আল্লাহর নিকট সাহায্য চাইতাম। ভিসিকে অসম্মান করার মতো এ গ্রামে কেউ নেই।
তিনি বলেন, ভিসির আচরণ প্রথম থেকেই রহস্যজনক মনে হয়েছে। উনি এত কষ্ট করে এসে আমাদের সঙ্গে দেখা না করে চলে গেলেন আর পুলিশ আমার ছেলেকে আঘাত করল আর অন্য বেটার বউয়ের শ্লীলতাহানি করল প্রকাশ্যে এর বিচারের দাবি জানাই।
ভিসি বাড়িতে এসেও দেখা না করে চলে যাওয়ায় ক্ষোভের সঙ্গে ফাহাদের বাবা বরকতউল্লাহ বলেন, ভিসি মহোদয় সম্মানীয় ব্যক্তি তিনি আমার বাড়ির দরজায় এসে ঘরে না ঢুকে কেন চলে গেলেন। তিনি কাপুরুষতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি আমার ছেলের লাশ দেখাতো দূরের কথা ছেলের জানাজা নামাজেও শরীক না হয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছেন।
তিনি বলেন, আমরা এলাকার শান্তি প্রিয় মানুষ। ভিসি মহোদয় বাড়িতে আসবেন শুনে এলাকাবাসী দারুন খুশি হয়েছিল। এলাকাবাসী ভিসির নিকট ফাহাদের খুনিদের শাস্তির দাবি জানাতে বাড়ির সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান করছিল। সেখানে পুলিশ এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ছিল তার পরও তিনি আমার সঙ্গে ও ফাহাদের মায়ের সঙ্গে দেখা না করে চলে গেলেন এতে আমার পরিবার দারুণভাবে মর্মাহত।
ফাহাদের পিতা বলেন, ভিসি চলে যাওয়ার পর কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে আমার ছেলে আবরার ফাইয়াজের বুকে আঘাত করেছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান। এ ছাড়া ফাহাদের মামাতো ভাইয়ের স্ত্রীকে পুলিশ নির্দয়ভাবে প্রহার করে আহত করেছে। প্রকাশ্যে পুলিশের এই ন্যক্কারজনক আচরণে এলাকাবাসী খুশি হতে পারেনি। আমরা ছেলে হারানোর বেদনায় যখন শোকে কাতর। তখন ভিসির এই ধরনের আচরণে আমরা দারুণভাবে ব্যথিত মর্মাহত।
ফাহাদের পিতা সাংবাদিকদের আরও বলেন, খুনি ছাত্রদের আজীবনের জন্য বুয়েট থেকে বহিষ্কার করতে হবে আর কর্তৃপক্ষ সব ধরনের প্রমাণ পাওয়ার পরে তাদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
উল্লেখ্য, বুধবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙ্গা গ্রামে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম। কিন্তু গ্রামবাসীর তোপের মুখে আবরারের বাড়িতে না ঢুকে সামনের রাস্তা থেকে পুলিশ ও আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের প্রহরায় তিনি দ্রুত চলে যান।
