
ফাতেহ ডেস্ক :
ভোলার বুরহানুদ্দীন উপজেলায় গতকাল পুলিশ কর্তৃক সাধারণ জনতাকে নির্বিচার গুলি, চারজন নবিপ্রেমিক মুসল্লির নির্মম শাহাদত এবং আরও শতাধিক গ্রামবাসীর আহত হবার ঘটনায় পুলিশ উল্টো মুসল্লিদের মধ্য থেকে অজ্ঞাতনামা পাঁচ হাজার জনকে আসামি করে মামলা করেছে। ঘটনার সময় তৌহিদি জনতার প্রতিরোধে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হবার কারণে এ মামলা করা হয়। মামলায় এ পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (২০ অক্টোবর) রাতে বোরহানউদ্দিন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবিদ হোসেন বাদী হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন। ভোলার সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) শেখ সাব্বির হোসেন জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ৩০ পুলিশ আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ জন চিকিৎসাধীন।
কিন্তু পুলিশের হামলায় শতাধিক মুসল্লি আহত এবং চারজন শাহাদত বরণ করেছেন।
এদিকে আজ সোমবার সকালে ৬ দফা দাবি আদায়ে সমাবেশের ডাক দেয় ‘সর্বদলীয় ইসলামী ঐক্য পরিষদ’। তবে প্রশাসন অনুমতি দেয়নি বলে সে সমাবেশ স্থগিত করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা তাজউদ্দিন।
স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, গত শুক্রবার বিকালে বিপ্লব চন্দ্র শুভ নামক স্থানীয় এক হিন্দু যুবক নিজের নাম ও ছবি সম্বলিত ফেসবুক আইডি Biplob Chandra Shuvo থেকে আল্লাহ তায়ালা ও নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে তার কয়েকজন ফেসবুক বন্ধুর কাছে ম্যাসেজ পাঠায়। এক পর্যায়ে কয়েকটি আইডি থেকে ওই ম্যাসেজগুলোর স্ক্রিনশট নিয়ে ফেসবুকে কয়েকজন প্রতিবাদ জানালে বিষয়টি সকলের নজরে আসে।
এতে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ জনতা রোববার সকালে বোরহানউদ্দীন হাইস্কুল মাঠে হিন্দু এ যুবকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেলা ১১টার দিকে বোরহানউদ্দিন হাইস্কুল মাঠে পূর্বঘোষিত এই সমাবেশটি চলছিল। সমাবেশে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় ধর্মপ্রাণ হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। এসময় পুলিশ সমাবেশ সময়ের আগে শেষ করতে বলে প্রতিবাদী জনতাকে। প্রতিবাদী জনতা পুলিশের এ কথা না মানলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। উত্তপ্ত জনতার কিছু লোক পুলিশের দিকে ইট-পাটকেলও ছুড়ে মারে। পুলিশ তখন নির্বিচার গুলি বর্ষণ করে। এতে এ পর্যন্ত চারজন মুসল্লি শাহাদাত বরণ করেছেন। শাহাদাতবরণকারীরা হলেন– বোরহানউদ্দিন উপজেলার মহিউদ্দিন পাটওয়ারীর মাদ্রাসাছাত্র মাহবুব (১৪), উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের দেলোয়ার হোসেনের কলেজপড়ুয়া ছেলে শাহিন (২৩), বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাহফুজ (৪৫) এবং মনপুরা হাজিরহাট এলাকার বাসিন্দা মিজান (৪০)।
সাধারণ মানুষের এ প্রতিক্রিয়ায় অবস্থা বেগতিক দেখে গতকাল সন্ধ্যার পর বিপ্লব চন্দ্র নামক ওই হিন্দু যুবক বোরহানউদ্দিন থানায় তার আইডি হ্যাক হয়েছে দাবি করে একটি জিডি করতে যায়। তখন থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিপ্লব চন্দ্রকে তাদের হেফাজতে রাখে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইডি হ্যাকের ঘটনা সত্য, হ্যাকের সঙ্গে জড়িত দুজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বর্তমানে প্রতিবাদী মুসল্লিদের দমানোর জন্য চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে বুরহানুদ্দিনে। বিজিবি, পুলিশ ও র্যাবের টহল জোরদার করার পর গতকাল বিকালেই পরিস্থিতি নিজেদের আয়ত্বে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় এরই মধ্যে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
