ইমরান আব্দুল্লাহ :
সংখ্যালঘু এবং ইসলামি রাষ্ট্রের ধারণা নিয়ে গবেষকদের মাঝে মতভেদ আছে। কেউ বলেন, রাষ্ট্রে মুসলিমদের সংখ্যা ৫০% ছাড়িয়ে গেলেই রাষ্ট্র ইসলামিক হয়ে যায়। কেউ বলেন, অন্য ধর্মের তুলনায় মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হলে, যদিও ৫০% অতিক্রম না করে, তবুও রাষ্ট্র ইসলামিক হয়ে যাবে। তৃতীয় আরেকটি পক্ষ বলেন, ইসলামি রাষ্ট্র নির্ণয়ের মানদণ্ড হচ্ছে সাংবিধানিক পাঠ্য এবং শাসকগোষ্ঠীর গঠন। জনগণের দিকটি এখানে উপেক্ষিত। এই নিবন্ধে ‘সংখ্যালঘু’র প্রথম ধারণাকে মানদণ্ড ধরে বিশ্বে মুসলিম সংখ্যালঘু নির্যাতনের মানচিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
সংখ্যালঘু নির্যাতনের কারণ ও আকার
যুদ্ধ, সংঘর্ষ, দারিদ্র্য, সমাজিক ও রাজনৈতিক প্রান্তিককরণ—মোটাদাগে এগুলো হলো মুসলিম সংখ্যালঘু নির্যাতনের কারণ। তবে মুসলিম সংখ্যালঘু সদস্যদের গড় বার্ষিক আয়ের কমতি, নিরক্ষরতার হার বৃদ্ধি এবং রোগ-বালাইয়ের প্রাদুর্ভাবে সংখ্যালঘুদের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। রাজনৈতিক প্রান্তিককরণের কারণে তারা প্রশাসনে জায়গা পায় না, ফলে তাদের দাবি ও অধিকারের স্লোগান ততটা জোরালো হয় না। তারপর সংখ্যাগরিষ্ঠের সংস্কৃতির চাপে ইসলামি সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ তো থাকেই।
প্রযুক্তি ও রাজনৈতিক কারণে অনেক দেশেই মুসলিম সংখ্যালঘুর আকার সঠিকভাবে জানা যায় না। দেখা যায়—যে দেশে ইসলামি সংখ্যালঘু আছে, সেখানে তাদের পরিসংখ্যান নেই। দরিদ্র দেশগুলোতে যে মুসলিম সংখ্যালঘু বাস করে, দারিদ্র্যের কারণে তারা পরিসংখ্যানই করতে পারে না। কোথাও সংখ্যালঘুর পরিসংখ্যান সাম্প্রদায়িক এবং জাতিগত সমস্যা উত্থানের ভয়ে চেপে যাওয়া হয়।
বেশিরভাগ পশ্চিমা সূত্রে মুসলিমদের সংখ্যা কমিয়ে দেখানোর প্রবণতা দেখা যায়। আর ইসলামি সূত্রগুলোতে দেখা যায় বাড়িয়ে বলার প্রবণতা। তাই এখানে জাতিসংঘের প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান এবং আমেরিকান ফেক্টবুক ওয়েবসাইটের তথ্যের ওপর নির্ভর করা হয়েছে। তবে এসব তথ্যকেও মুসলিম সংখ্যালঘু গবেষণায় নিয়োজিত ইসলামি সূত্রের সাথে মিলিয়ে নেয়া হয়েছে।
এবার অঞ্চলভিত্তিক মুসলিম নির্যাতনের চিত্রটা দেখা যাক।
ভারতে মুসলিম সংখ্যালঘু নির্যাতন
উমাইয়া খেলাফতের যুগে সিন্ধু বিজয়কালীন মুহাম্মদ ইবনে কাসিমের হাত ধরে ভারতে আগমন করেছিল ইসলাম। তারপর শতাব্দীর পর শতাব্দী মুসলিমরাই ছিল এর শাসনকর্তা। ব্রিটিশ এলো তারপর, ভাগ হলো ভারত। পাকিস্তান ভেঙে তৈরী হল বাংলাদেশ।
সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া একটি বহু-জাতিক এবং বহু-ভাষিক সমাজ। এখানে মুসলমানদের অনুপাত মোট সংখ্যার ১৪% । যাদের বেশির ভাগ উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ,মহারাষ্ট্র এবং কেরালা রাজ্যে বসবাস করে। তাদের ৭০% সদস্য কৃষিকাজ করে। বাকীরা পরিষেবা, বাণিজ্য ও শিল্প খাতে কাজ করে। উত্তর ভারতের মুসলিমরা হানাফি এবং উর্দু-বাংলাভাষী। দক্ষিণ ভারতের মুসলিমরা শাফেয়ী এবং তামিলভাষী। তবে দক্ষিণের কিছু রাজ্যে শিয়া মুসলমানও রয়েছে। সব মিলিয়ে ভারতে মুসলিম সংখ্যালঘু ১৪% হলেও, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে তাদের প্রতিনিধিত্ব ১% এর বেশি নয়।
মুসলিম সংখ্যালঘু নির্যাতনের অন্যতম পীঠস্থান ভারত। এর তিনটি কারণ হতে পারে।
১. হিন্দু-মুসলিম দ্বন্দ্ব। এই দ্বন্দ্বের চূড়ান্ত বিস্ফোরণ ছিলো ১৯৮৪ সালে আসামের নেলি গণহত্যা। যেখানে হাজার হাজার মুসলমান শহীদ করা হয়। তারপর ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে উগ্র হিন্দু কর্তৃক বাবরি মসজিদ ভেঙে ফেলার ঘটনা। মসজিদ ভাঙার পর সৃষ্ট দাঙ্গায় নিহত হয়েছিল দুই হাজারের বেশি মুসলিম। তারপর ২০১৯ সালের ৯ নভেম্বর বাবরি মসজিদের জায়গায় রাম মন্দির নির্মাণের রায়, ডিসেম্বরে মুসলিমদের বাদে সব ধর্মকে সুবিধা দিয়ে নাগরিত্ব আইন পাস।
২. সংখ্যাগরিষ্ঠ সংস্কৃতির চাপে ঝুঁকিতে আছে ইসলামি সংস্কৃতি। ভারতীয় মুসলিমরা বলছে, সরকার ইসলামি সংস্কৃতি মুছে দেয়ার চেষ্টা করছে। তাই তারা ইসলামি সংস্কৃতি রক্ষার জন্য প্রচুর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। কিন্তু সামর্থ্য ও সমন্বয়হীনতার কারণে তা ফলপ্রসূ হচ্ছে না।
৩. সংখ্যালঘুদের বেশিরভাগ সদস্যের নিম্ন বার্ষিক গড় আয় এবং দরিদ্রতম সামাজিক স্তরে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়। অথচ তাদের ৩৫% এরও বেশি লোক দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে।
চীনে মুসলিম সংখ্যালঘু নির্যাতন
চীনের মুসলিম সংখ্যালঘু ভারতের পরে এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম সংখ্যালঘু, চীনের মোট জনসংখ্যার ১১%। ইসলাম অষ্টম শতাব্দীর প্রথম দিকে আরব ও পারস্য মুসলিম বণিকদের হাত ধরে চীনে প্রবেশ করেছিল এবং তারপরে চীনা মুসলমানরা মুঘল শাসনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে ওঠে।
সপ্তদশ শতাব্দী থেকে বিংশ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত মান্ডচুরিয়ান শাসনের সময় চীনা মুসলমানদের দুর্ভোগ শুরু হয়েছিল। এ সময় মুসলিমরা বেশ কয়েকটি বিপ্লব চালিয়েছিল। ফলে কিছু রাজ্য সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য ইসলামিক আদল পেয়েছিল। তার মধ্যে অন্যতম হুনান, কানসু এবং পূর্ব তুর্কিস্তান।
১৯১০ সালে মুসলিম সংখ্যালঘুদের সহায়তায় জাতীয় বিপ্লবীরা মান্ডচুরিয়ানদের হাত থেকে শাসন ছিনিয়ে নেয়। তারপর চীনে বিপুল সংখ্যক মসজিদ এবং ইসলামি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ইসলামি মূল্যবোধ জাগানোর প্রচেষ্টা শুরু হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম ১৯১২ সালে বেইজিংয়ে প্রতিষ্ঠিত প্রগ্রেসিভ ইসলামিক সংস্থা। ১৯১৮ সালে সাংহাইয়ে প্রতিষ্ঠিত চাইনিজ ইসলামিক কালচারাল ইসলামিক অর্গানাইজেশন এবং ১৯৩৮ সালে অল চীন ইসলামিক সংস্থা। এদের মূল কাজই ছিল মসজিদ, মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা। ইসলামি ও আরবি ভাষা শিক্ষার আয়োজন করা। বলা হয়, এই সময় ৪২ হাজার মসজিদ নির্মিত হয়েছিল। পূর্ব তুর্কিস্তানের কাশগর ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়সহ আরও অনেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
চীনা সূত্র জানিয়েছে, চীনের উত্তর-পশ্চিম রাজ্যগুলোতে মুসলিমদের সংখ্যা প্রচুর। বিশেষ করে জিংজিয়াং (উইঘুর) রাজ্যে ৭১%, সাংহাইয়ে ৬৫%, কানসুতে ৩১%, অভ্যন্তরীণ মঙ্গোলিয়ায় ২৯% এবং রাজধানী বেইজিংসহ আরও ১২টি রাজ্যে মুসলিমদের অনুপাত ১০% ছাড়িয়েছে। এদেরকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়; ১. তুর্কী জাতিসত্তা। এর মধ্যে উইঘুর, কাজাখ, উজবেক, টাটারস, সালাস, সেবু এবং হিলো অন্তর্ভুক্ত। এদের অধিকাংশ পূর্ব তুর্কিস্তান ও এর আশপাশে বসবাস করে। ২. চাইনিজ জাতিসত্তা। এদেরলে হুই বলা হয়। বেইজিং তাদের উপস্থিতির অন্যতম স্থান। ৩. অন্যান্য জাতিগত।
পূর্ব তুর্কিস্তান চীনের বৃহত্তম অঞ্চল। চীন সরকারে তথ্যানুযায়ী সেখানে বসবাস করে ৭.৫ মিলিয়ন মুসলমান। এর প্রাকৃতিক সম্পদের লোভে ১৭৫৯ সাল থেকেই অঞ্চলটি দখল করার চেষ্টা করে চীন। ১৯৪৯ সালে কমিউনিস্ট বিপ্লবের সাফল্যের পর অঞ্চলটি দখল করে ফেললে এর নামকরণ করা হয় জিংজিয়াং বা উইঘুর বলে। সেই থেকে আবার মুসলিমদের ওপর নির্যাতন শুরু হয়।
চীনের উইঘুর এখন বিশ্বের উন্মুক্ত করাগার। সেখানে মানবিক শিক্ষার নামে ডিটেনশন ক্যাম্পে আটকে রাখা হয়েছে ১০ লাখেরও বেশি মুসলিম। নিষিদ্ধ করা হয়েছে আরবি ভাষা, ইসলামি চিহ্ন, প্রতিনিয়ত পোড়ানো হচ্ছে কোরআন-হাদিসের বই। হিজাব পরলেও আটকে দেয়া হয় কারাগারে।
সবার্মায় মুসলিম সংখ্যালঘু নির্যাতন
সপ্তম শতাব্দীতে ইসলাম আরাকান প্রদেশে এসেছিল। এরপর রোহিঙ্গা জনগণ একটি রাজ্যও গঠন করেছিল। ৩৫০ বছর শাষণ শেষে তারা ১৭৮৪ সালে বার্মিজ হানাদারদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল, মূলত তখন থেকেই মিয়ানমারে মুসলিম সংখ্যালঘুদের দুর্ভোগ শুরু হয়েছিল।
ইসলামি সূত্র অনুযায়ী, বার্মিজ সরকার মুসলিমদেরকে রাজনৈতিক অধিকার এবং ধর্মীয় স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করেছে। যেমন—তারা পাবলিক স্কুল এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশুনা করতে পারে না। মসজিদের জমিগুলো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। কবরস্থানের জন্য ওয়াকফকৃত জমিগুলোতে গড়ে তোলা হয়েছিল স্টেডিয়াম, মঠ। ট্যাক্স হিসেবে বার্মিজ সরকারকে দিতে হত ফসলের বড় একটি অংশ।
২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের ওপর চালায় কালের ভয়ংকর গণহত্যা। পুড়িয়ে দেয়া হয় রোহিঙ্গাদের গ্রামের পর গ্রাম। প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে সাড়ে সাত লাখ মানুষ। এর আগেও নির্যাতনের শিকার হয়ে এসেছিল চার লাখেরও বেশি। আন্তর্জাতিক আদালতে শুরু হয়েছে এই গণহত্যার বিচার।
ইউরোপ আমেরিকায় মুসলিম সংখ্যালঘুরা
ইউরোপ-আমেরিকা মহাদেশে মুসলিম সংখ্যালঘুদের আকার দেখানোর মতো কোনও আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান নেই। তবে কিছু ইসলামি সূত্রের অনুমান, ইউরোপে ৫০৭ মিলিয়ন জনগণের মধ্যে মুসলিম ৪৪ মিলিয়ন।
ইউরোপে মুসলিম সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি এক দেশের থেকে অন্য দেশে পৃথক। সে দেশের আইন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে ইসলামি প্রতি প্রচলিত অনুভূতি অনুসারে। কিছু দেশ যেমন ফ্রান্স এবং জার্মানি মুসলিম সংখ্যালঘুদের সন্দেহজনক দৃষ্টিতে দেখে। ফলে তাদের সুযোগ-সুবিধায়ও এর প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে মসজিদের জন্য বিল্ডিং পারমিটের সময়।
ইউরোপের মুসলিমরা মূলত জাতীয়তাবাদী অসহিষ্ণুতা যেমন ব্যক্তি ও সম্পত্তির ওপর প্রত্যক্ষ আক্রমণের শিকার। এছাড়াও সংখ্যাগরিষ্ঠ সংস্কৃতির চাপে ইসলামি সংস্কৃতি হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি সবসময় থাকে। তবে সংখ্যালঘুরা চেষ্টা করছে ইসলামি পরিচয় ও সংস্কৃতি ধরে রাখার। ক্ষমতার কমতি ও দাঈ’র শূন্যতা তাদেরকে মাথা উঁচু করতে দিচ্ছে না। আবার তাদের এমন কোন ইসলামি অর্গানাইজেশনও নেই, যারা সরকারের কাছে সংখ্যালঘুদের অধিকারের দাবি তুলে ধরবে।
অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম সংখ্যালঘুরা
অস্ট্রেলিয়ায় মুসলমানদের অনুপাত মোট জনসংখ্যার মাত্র ২.১%। এই সংখ্যালঘুদের ইসলামি পরিচয় ও সংস্কৃতি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। ইসলামি বিভিন্ন সংগঠন সেই পরিচয় ধরে রাখার চেষ্টা করছে। এরমধ্যে অন্যতম হলো দাওয়াতে তাবলিগ। তেমনিভাবে রয়েছে ছাত্রদের নিয়ে অনেক সংগঠন। ছাত্র সংগঠনের কাজ ছাত্রদের মাঝে ইসলামি পরিচয় জাগরূক রাখা।
তবে এখানেও সমন্বয়ের অভাব, যোগ্য দাঈ’র কমতি। ফলে শতচেষ্টা সত্ত্বেও ইসলামি পরিচয় ও সংস্কৃতি অক্ষুণ্ন ও জীবন্ত রাখা যাচ্ছে না।
আফ্রিকার সংখ্যালঘু মুসলিমরা
অর্থনৈতিক সমস্যায় ভুগতে থাকা আফ্রিকার নিম্ন জীবনযাত্রার মান, নিরক্ষতার হার, রোগ-বালাইয়ের প্রাদুর্ভাব মুসলিম সংখ্যালঘুদের জন্যও প্রধান সমস্যা। ওয়াশিংটনে জাতিসংঘের বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিশ্ব ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা যায়—প্রায় ২০০ মিলিয়ন আফ্রিকান অপুষ্টিজনিত রোগে ভুগছে। সেখানে আবাদযোগ্য মাটির ক্রমাগত অবনতি, জনসংখ্যা অবিচ্ছিন্নভাবে বৃদ্ধি সংকট আরও ঘনিভূত করছে। এছাড়াও নাইজেরিয়া, রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, কঙ্গো এবং সিওরা লিওনের মতো দেশগুলো আক্রান্ত যুদ্ধে এবং সংঘর্ষে।
আরও ভয়ংকর হচ্ছে আফ্রিকায় মিশনারী প্রতিষ্ঠানগুলো বিপুল সংখ্যক মুসলিমকে খৃস্টান বানিয়ে ফেলছে। অথচ সেখানে ইসলামি শিক্ষা প্রচারে নেই যোগ্য শিক্ষক ও দাঈ। সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে রাজনৈতিকভাবে প্রান্তিক করে দেয়া হয় মুসলিমদের। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার মুসলিমরা একটু ব্যতিক্রম। তাদের বেশিরভাগ ব্যবসায় জড়িত এবং তাদেরকে ধনী সামাজিক শ্রেণীর মধ্যে বিবেচনা করা হয়।
আখেরি কালাম
এই নিবন্ধে কেবল কয়েকটি দেশের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও আরও অনেক দেশে মুসলিম সংখ্যালঘু আছে। পুরো বিশ্বের মানচিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—গণহত্যার কিংবা জাতিগত নিধনের কারণে বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে মিয়ানমার ও চীনের মুসলিম সংখ্যালঘুরা। মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে ভারতের মুসলিম সংখ্যালঘুরা। সাধারণ ঝুঁকিতে রয়েছে ফ্রান্স, ব্রিটেন, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে, আমেরিকার মুসলিম সংখ্যালঘুরা।
২০১৯ সালে মুসলিম সংখ্যালঘুরা ইসলামফোবিক আক্রমণের শিকার হয়েছে অনেক। নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলা, ভারতে জয় শ্রীরাম বলে মুসলিমদের ওপর হামলা, ইউরোপ-আমেরিকার দেশগুলোতে হিজাব-বোরকা পরিহিত মহিলাদের ওপর হামলা ছিলো আলোচনায়।
মোটকথা, সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার পৃথিবীর অনেক মানবাধিকার সংগঠন। কিন্তু মুসলিম সংখ্যালঘুদের নিয়ে কথা বলার মতো কণ্ঠ এখনো তৈরী হয়নি। বিভিন্ন দেশে মুসলিমরা সংখ্যালঘু হলেও, তাদের ওপর চলমান অত্যাচার নিয়ে কেউ কথা বলে না। অথচ কোথাও কোনো হিন্দু কিংবা খৃস্টান আক্রান্ত হলে উঠেপড়ে লাগে পৃথিবীর তাবৎ মানবাধিকার সংগঠন। মুসলিম সংখ্যালঘু নির্যাতন যেন পুরো মানচিত্রজুড়ে একপ্রকার বৈধ হিসেবেই দেখা হচ্ছে!
