মানবের অনুসন্ধিৎসা

ফাতেহ

মূল : মাওলানা ওহিদুদ্দিন খান ।। ভাষান্তর : আবদুল্লাহিল বাকি

মানবেতিহাস এক নিরন্তন অনুসন্ধানের নাম। যত প্রাচীন এই ইতিহাস ঠিক ততই প্রাচীন এর অনুসন্ধিৎসা। কিন্তু এ পর্যন্ত জ্ঞান-বিজ্ঞান ও সভ্যতা সংস্কৃতির অভাবনীয় উৎকর্ষের পরও মানুষ তার অনুসন্ধিৎসার কোনো সদুত্তর পায়নি। অনুসন্ধিৎসার মরুতে ঘুরে ঘুরে শুধুই ক্লান্ত হয়েছে মানব-কাফেলা। জগতের গূঢ় রহস্য বোঝার সর্বপ্রথম নিয়মতান্ত্রিক প্রয়াস চালিয়েছিলেন দার্শনিকগণ। হাজার হাজার মস্তিষ্ক ক্ষয় হয়ে গেছে শুধু জগতের তাৎপর্য অনুসন্ধানে। কিন্তু নির্ভরযোগ্য উত্তর কেউ বের করে আনতে পারেনি। প্রখ্যাত দার্শনিক বার্টান্ড রাসেল (মৃত্যু. ১৯৭০) বিংশ শতাব্দীর আধুনিক পৃথিবীকে দেখেছিলেন। জীবনধারণ করেছিলেন দীর্ঘ প্রায় এক শতাব্দী। আর এই দীর্ঘ জীবনটা কাটিয়ে দিয়েছেন জ্ঞান-বিজ্ঞানের অধ্যয়নে, গবেষণায়। এরপরেও তিনি পৃথিবীকে নতুন কোনো জীবনদর্শন দিয়ে যেতে পারেননি। এজন্যই বার্টান্ড রাসেলকে ‘দর্শনহীন দার্শনিক’ (philosopher of no philosophy) বলা হয়।

এ কথা শুধুমাত্র বার্টান্ড রাসেলের ক্ষেত্রেই নয় বরং প্রকৃতপক্ষে দুনিয়ায় সকল দার্শনিকের ক্ষেত্রে একই কথা প্রযোজ্য। কোন দার্শনিকই মানুষের মৌলিক প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে সক্ষম হননি। এর মানে এই নয় যে, পেছনের এক হাজার বছরে এর কোনো উত্তর বেরিয়ে আসেনি বলে সামনে পাঁচ হাজার বছর গবেষণা করলে অবশ্যই এর কোনো সুনিশ্চিত উত্তর বেরিয়ে আসবে। সময়সংখ্যা এখানে কোনো আলোচ্যবিষয়ই নয়। বরং প্রকৃত বাস্তবতা হলো এই প্রশ্নের উত্তর দেবারই সক্ষমতা রাখে না দর্শনশাস্ত্র।

পৃথিবীর তত্ত্ব-রহস্যের জগত এতই বিস্তৃত যে মানুষ তার সীমিত মেধা দ্বারা তা আয়ত্বে আনতে সক্ষম নয়। এক পাশ্চাত্য চিন্তাবিদ একবার বলেছিলেন, আমরা যতই জ্ঞানার্জন করি ততই আমাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা উপলদ্ধি হয়।

এই চিরন্তন প্রশ্নের ক্ষেত্রে দর্শনের পর যেটার কথা সামনে আসে, সেটা হলো বিজ্ঞান। কিন্তু মজার ব্যপার হলো, সাইন্স এক্ষেত্রে প্রারম্ভেই আপন অক্ষমতা স্বীকার করে নিয়েছে। এবং আমরা প্রযুক্তির যেসব উৎকর্ষ লক্ষ করি তা তার অক্ষমতা-স্বীকারেরই ফলাফল। দর্শন প্রায়ই বস্তুর জ্ঞান (knowledge of things) এবং সত্যের জ্ঞান (knowledge of truths) সম্পর্কে প্রশ্ন তোলে। এবং এর উত্তর দেবার প্রয়াস চালায়। কিন্তু বিজ্ঞান বলে, সত্যের নিরঙ্কুশ সঠিক জ্ঞানে পৌঁছা মানুষের সীমাবদ্ধ যোগ্যতা দ্বারা সম্ভব নয়। এ কথাই কোরআনে এভাবে বিবৃত হয়েছে, ‘মানুষকে তো স্বল্প জ্ঞানই দান করা হয়েছে।’ (সুরা বনী ইসরাইল : ৫৮)

ব্যবহারিক দৃষ্টিকোণকে সামনে রেখে বিজ্ঞান নিজের সমস্ত প্রয়াস-প্রচেষ্টা সীমাবদ্ধ করে রেখেছে শুধুমাত্র বস্তুর জ্ঞানার্জনে। এক্ষেত্রে তাঁর আংশিক সফলতা তো- সন্দেহ নেই- অর্জিত হয়েছে। পাশাপাশি এটাও প্রমাণিত হয়ে গেছে যে, সত্যের সন্ধান দেয়া তার কাজ নয়। এক্ষেত্রে সে অক্ষম, অকার্যকর।

দর্শন ও বিজ্ঞানের পর যে মাধ্যমটি রয়ে যায় তা হলো ধর্ম। দর্শন ও বিজ্ঞানের বিপরীতে ধর্মও এ দাবি করে থাকে, প্রকৃত সত্যের জ্ঞান তার নিকট গচ্ছিত রয়েছে। সুতরাং মানুষকে ধর্ম তার দিকে ফিরে তাকাতে বলে। দুনিয়াতে এক ডজনের মতো বড় বড় ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এবং উপরোক্ত দাবি প্রত্যেক ধর্মই করে থাকে। কিন্তু শুধুমাত্র দাবির উপর ভিত্তি করে কোনো ধর্মকে গ্রহণ করা যায় না। বরং এক্ষেত্রে কর্তব্য হলো, গ্রহণযোগ্য নীতিমালার ভিত্তিতে প্রত্যেকটি ধর্মকে নিয়ে যাচাই করা। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠে, এখানে কী রকম নীতিমালার আলোকে আমরা সত্য ও বাস্তব ধর্মকে চিহ্নিত করতে পারব। আমার মতে কোনো ধর্মের সত্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে তিনটি মৌলিক নীতি হতে পারে।

এক. আলোচিত ধর্মের ঐতিহাসিক উপকরণ কী? তা কি ইতিহাসের গ্রহণযোগ্য মাপকাঠিতে সত্য হিসেবে সাব্যস্ত হয় নাকি তার ভিত্তি নিছক কতক কল্পনির্ভর ধ্যান-ধারণার উপরে।

দুই. ধর্মের গণ্ডির বাইরে যেসব জ্ঞান-বিজ্ঞানের দিনদিন উৎকর্ষ সাধিত হচ্ছে, এবং যেসব তত্ত্ব প্রায় সুনিশ্চিত সত্যের পর্যায়ে পৌঁছে গেছে তা কি ঐ ধর্মের শিক্ষাগুলোকে সত্যায়ন করে না বিরোধিতা করে।

তিন. ঐ ধর্মের শিক্ষা ও রীতি-নীতি কি মানবজীবনের জন্য এমন কোনো স্কিম বা ব্যবস্থা হতে পারে যা চিরস্থায়ী ব্যবহারিক যোগ্যতা রাখে, কালান্তরেও যার শিক্ষাগুলোর যৌক্তিকতা ক্ষুণ্ণ হয় না, আপন স্থায়িত্বের গুণে হয় না বিস্মৃত?

উল্লেখিত নীতিমালার আলোকে আমরা ধর্মগুলোর একটা সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা করতে পারি। এই ধারাবাহিকতায় আমাদের প্রথম মাপকাঠিটি ছিল ঐতিহাসিক পর্যালোচনা। এই মাপকাঠির আলোকে আমরা দেখতে পাই, ইসলাম ব্যতীত অন্য যত ধর্ম আছে, তার একটিও বিশুদ্ধ ঐতিহাসিক মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হয় না। অনির্ভরযোগ্য হিসেবে প্রমাণিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, হিন্দুধর্মের কথাই ধরা যাক। এই ধর্মে রামকে রাজপুত হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। অথচ ইতিহাসে এ রকম কোনো রাজা বা রাজপরিবারের প্রমাণ মেলে না। তেমনিভাবে এই ধর্মে কৃষ্ণকে একটি মহাযুদ্ধের সেনাপতি হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কিন্তু বিশুদ্ধ ঐতিহাসিক তথ্য আমাদেরকে এমন কোনো মহাযুদ্ধের কথা জানান দিতে পারে না। আরেকটি দৃষ্টান্ত দিই। হিন্দুধর্মের এক পবিত্র গ্রন্থ হলো বেদ। অথচ এর ইতিহাস সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছুই জানা যায় না। সঠিক ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে কেউ প্রমাণ করতে পারবে না, এটা কবে লিখিত হয়েছে। এবং কে এটা রচনা করেছে।

এবার বৌদ্ধধর্মের কথাই ধরা যাক। এর প্রবর্তক হলেন গৌতম বুদ্ধ। তাঁর দিকে বিভিন্ন শিক্ষাবাণী সম্মন্ধিত করা হয়। অথচ আজ পর্যন্ত এটা প্রমাণিত হলো না যে তিনি কোন ভাষায় কথা বলতেন।

যিশুখ্রিষ্ট নবি হওয়ার ব্যপারে মৌলিক সত্যায়ন কোরআনে বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু তাঁর জীবনীর ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক সংকটটা খুবই প্রকট। ফিলিস্তিন ও শামের ধারাবাহিক ইতিহাসে তাঁর কোনো উল্লেখই পাওয়া যায় না। বর্তমানে যিশুখ্রিষ্টের বিভিন্ন বাণী অনূদিত হয়ে নিউ টেস্টামেন্ট (ইঞ্জিল) নামে আমাদের কাছে মজুদ আছে। কিন্তু সেটাও নির্ভরযোগ্য নয়। এমনকি তিনি কোন ভাষায় কথা বলতেন, এটাও ইতিহাসে লেখা নেই। কেননা তাঁর যুগে ফিলিস্তিন ভূমণ্ডলে রোমীয় হিব্রুসহ বিভিন্ন ভাষা প্রচলিত ছিল।

এই ঐতিহাসিক সংকটটা ইসলাম ব্যতীত সকল ধর্মেই পরিলক্ষিত হয়। ইতিহাসের নিকট কোনোটিই বৈষয়িক মূল্য রাখে না। সুতরাং যে ধর্মের ঐতিহাসিক গ্রহণযোগ্যতা (historical credibility) প্রশ্নবিদ্ধ তা তাত্ত্বিকভাবে আলোচনায় আসার উপযুক্তই নয়।

এবার দ্বিতীয় মাপকাঠির আলোকে ধর্মগুলোকে পর্যালোচনা করা যাক। এখানেও প্রথমকার দৃশ্যের অবতারণা হয়। এই মাপকাঠিতেও ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্ম সাফল্য দেখাতে পারে না। উদাহরণস্বরূপ দেখুন, হিন্দুধর্মের পবিত্র গ্রন্থগুলোতে বলা হয়েছে, ‘মানুষের ভাগ্য ও নিয়তিতে তারকার আবর্তন প্রভাব ফেলে।’ অনুরূপ, হিন্দুধর্মের এক মান্য পবিত্র ঠাকুর ‘অধিশ্বর’ সম্পর্কে বলা হয় যে, তাঁর অতিসত্যবাদিতার দরুণ তাঁর রথযান ভূমি থেকে একটু উপরে উপরে চলত। একবার যখন তিনি মিথ্যা কথা বললেন, তখন তাঁর রথ মাটিতে পড়ে গেল। উল্লেখ্য যে, ভূবিজ্ঞানের কোনো তত্ত্ব এমন পাওয়া যায় না যে, ব্যক্তির সত্য বা মিথ্যা বলা ভূমির উপর এমনতর প্রভাব ফেলে।

তেমনিভাবে ইসলাম ছাড়া অন্য অনেক ধর্মের বিশ্বাস এমন যে, জগতের সকল বস্তু ঈশ্বরের সত্ত্বার অংশ। অন্যভাবে বললে বলা যায়, ঈশ্বর বিভিন্ন বস্তুর আকারে আপন রূপ মানুষের সমীপে প্রকাশিত করেছেন। সকল বস্তু ঈশ্বরের অস্তিত্বের আরশি মাত্র। কিন্তু পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, এমনতর বিশ্বাসের কোনো ভিত্তি নেই। কারণ, জগতের অনেক বস্তু কর্তন করা যায়, ভস্ম করা যায়, পরিবর্তন করা যায়। সুতরাং এমন বিশ্বাস গ্রহণ করার পুরোই অনুপযুক্ত, যে বিশ্বাস অনুযায়ী ঈশ্বরিক সত্ত্বার উপরে মানুষের হস্তক্ষেপ সাব্যস্ত হয়।

তৃতীয় মূলনীতির ক্ষেত্রেও একই কথা। এক্ষেত্রেও ইসলাম ব্যতীত অন্যান্য ধর্ম উত্তীর্ণ হতে পারে না। ইসলাম ছাড়া অন্যান্য সকল ধর্মই অগ্রহণযোগ্য ও অনুপকারী শিক্ষা দ্বারা পরিপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ, জৈন ও বৌদ্ধ ধর্মে সবচে বড় মহাপাপ গণ্য করা হয় জীবহত্যাকে। এবং সবচে’ বড় পূণ্য বলা হয় প্রাণ বাঁচানোকে। এমনকি জৈন ধর্মের পবিত্র গ্রন্থগুলোতে লিখিত আছে, ‘রাম ও কৃষ্ণ নরকে গমন করেছে। কেননা তারা তীর তলোয়ার ব্যবহার করে অসংখ্য প্রাণ হত্যা করেছে। বৌদ্ধ ও জৈন ধর্মের বিশ্বাস এটা নয় যে, অন্যায়ভাবে অত্যাচার করে মারা শুধু পাপ। বরং ন্যায়ভাবে, অন্যায়ভাবে, জ্ঞাত ও অজ্ঞাতসারে সকল প্রকার হত্যাকেই তারা ক্ষমাহীন পাপ বলে গণ্য করে থাকে। কিন্তু আধুনিক গবেষণার আলোকে আমাদের সামনে এটা স্পষ্ট হয়ে গেছে, তাদের ধর্মের এই বিধান পৃথিবীর সকল মানুষের জন্য কোনোমতেই পালনযোগ্য নয়। কারণ পৃথিবীতে এমনও অঞ্চল রয়েছে যেখানে শাক-সবজির ফলন খুবই কম। অনেক জায়গায় তো এসবের ফলনই হয় না। সেখানের মানুষ মাছ-মাংস খেয়েই সাধারণত জীবন ধারণ করে থাকে। সে হিসেবে এ ধরণনের ধর্ম বৃহৎ মানবসমাজের ধর্ম হওয়ার অযোগ্য।

আগ বেড়ে আমি বলতে চাই, আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণার আলোকে এ ধরনের ধর্মের ভিত্তিই আর বাকি থাকে না। বিজ্ঞান আমাদেরকে জানান দিচ্ছে, প্রাণ শুধুমাত্র মানুষ ও প্রাণীর মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। বরং পানি-দুধ, শাক-সবজি, ফলফলাদির মাঝেও জীবনীশক্তি আছে। এমনকি বায়ুমণ্ডলেও সারাক্ষণ অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জীব উড়ে বেড়ায়, যেগুলো মানুষের শ্বাস প্রশ্বাসের মধ্য দিয়ে ধ্বংস হয়ে যায়। এর মানে দাঁড়ায়, শুধুমাত্র মাংসাশি মানুষই প্রাণ হত্যার দায়ে অভিযুক্ত নয়, বরং যে সাধুপুরুষগণ নিজেদেরকে নিরামিষাশী হিসেবে দাবি করে থাকেন, তাঁরাও মূহুর্তে মূহুর্তে হত্যা করে চলেছেন অসংখ্য প্রাণ।

এরকম আরো অনেক উদাহরণ আছে যেগুলোর সাহায্যে আমরা বুঝতে পারি, এসব ধর্ম আধুনিক জ্ঞান গবেষণার বিচারে আপন সত্যতার প্রমাণ দিতে অক্ষম। আসল বাস্তবতা হলো, জীবনের কোনো বাস্তব নকশা, কোনো সুনিশ্চিত মানচিত্র, কোনো সুনির্ধারিত গন্তব্য ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্মে বিদ্যমান নেই।

ইসলামই একমাত্র ধর্ম যা এই তিন তিনটি মাপকাঠিতেই আপন সত্যতা ও বাস্তবতা প্রমাণ করতে সক্ষম। অন্য কোনো ধর্ম এক্ষেত্রে ইসলামের সাথে সমকক্ষতা রাখে না। প্রথম মাপকাঠিতে বিচার করলে আমরা দেখতে পাই, ইসলাম সামগ্রিকভাবেই ইতিহাসনিষ্ঠ ধর্ম। এর প্রতিটি অংশ বিশুদ্ধ ইতিহাসের বিচার বিশ্লেষণে উত্তির্ণ।

তেমনিভাবে দ্বিতীয় মাপকাঠিতে একই পরিণতি পরিলক্ষিত হয়। ইসলামের অনেক পরে আধুনিক বিজ্ঞানের উদ্ভব হয়েছে। এবং এর কল্যাণে অনেক গবেষণা, বাস্তবতা সামনে এসেছে যা পূর্বে মানুষের কল্পনায়ও ছিল না। অথচ এসব নতুন গবেষণা অনেক কাল পূর্বে প্রতিষ্ঠিত ইসলামের বিধি-বিধান ও শিক্ষার যৌক্তিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না। বরঞ্চ বিজ্ঞানের একেকটি গবেষণা ইসলামের সত্যতার একেকটি প্রমাণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তেমনিভাবে সকল ধর্মের মাঝে ইসলামই একক ধর্ম, যার নির্দেশিত জীবনব্যবস্থা যুগ-কাল নির্বিশেষে সকল মানুষের জন্য পালনযোগ্য। ইসলামের কোনো অংশের সাথেই বৈজ্ঞানিক বাস্তবতার কোনো বিরোধ নেই। শুধুমাত্র ইসলামই এমন ধর্ম, যাতে জীবনযাপনের একটি পরিপূর্ণ ও সুসাব্যস্ত ব্যবস্থা রয়েছে।

ইসলামের এই বৈশিষ্ট্য যে শুধুমাত্র মুসলমানগণ স্বীকার করে, বিশ্বাস করে, তা কিন্তু নয়। বরং এটি এমন একটি সুনিশ্চিত বাস্তবতা, যার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছেন অমুসলিম ঐতিহাসিক ও জ্ঞানী-গুণীগণও।

উদাহরণস্বরূপ, ড. নিশিকান্ত চট্টোপাধ্যায় লিখেছেন, ‘সকল প্রসিদ্ধ বড় বড় ধর্মের মধ্যে ইসলামই একমাত্র ধর্ম, যা ঐতিহাসিক বিচার-বিশ্লেষণের দিক থেকে অতি নির্ভরযোগ্য।’

ড. মরিস বুকাইলি দীর্ঘ গবেষণার পথ পাড়ি দিয়ে এ সত্যে উপনীত হয়েছেন, ‘আধুনিক বিজ্ঞানের নতুন গবেষণার আলোকে সকল প্রসিদ্ধ ধর্ম অগ্রহণযোগ্য সাব্যস্ত হয়েছে, একমাত্র ইসলাম ছাড়া। ইসলাম একমাত্র ধর্ম যার বিধি-বিধানের মাঝে এবং আধুনিক বিজ্ঞানের মাঝে কোনো বিরোধ নেই।’

তেমনিভাবে স্বামী বিবেকানন্দ লিখেছেন, ‘ইতিহাসে আমরা একটি ধর্মেরই দেখা পাই, যা মানবিক ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাম্যবাদের উপর একটি বাস্তবিক সমাজের গোড়াপত্তন করতে সক্ষম হয়েছিল। এবং তা হলো ইসলাম।’

এ বিষয়ে অমুসলিম ঐতিহাসিক ও গবেষকগণ অনেক পুস্তকই রচনা করেছেন। নিম্নে উদাহরণস্বরূপ কয়েকটি গ্রন্থের নাম উল্লেখ করছি। যাতে বিস্তারিত জানতে চাইলে দেখে নিতে পারেন।

১. নিশিকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের “Why I have accepted Islam?”
২. স্বামী বিবেকানন্দের “Letters of Swami vivekanand”
৩. এম. এন. রায়ের “The historical role of Islam”
৪. মরিস বুকাইলির “The Bible, The Qur’an and science”

সবশেষে বলতে চাই, ইসলাম কোনো নতুন ধর্ম নয়, বরং তা পূর্বের ধর্মগুলোরই একটা বিশুদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য সংস্করণ। সুতরাং আপনি যদি অন্য ধর্মাবলম্বী হয়ে থাকেন তাহলে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেই পেয়ে যাবেন আপনার পূর্বেকার ধর্মই। তবে তার মাঝে থাকবে না কোনো বিকৃতি, কোনো অযৌক্তিক বিষয়।

আগের সংবাদআল মাহমুদের কবিতায় ইসলামি ঐতিহ্যের বয়ান
পরবর্তি সংবাদসোনালি কাবিনের রুপালি কবি