ফাতেহ ডেস্ক:
আজ ১৮ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক আরবি ভাষা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর মুহাম্মদপুরস্থ মারকাযুল লুগাতিল আরাবিয়্যাহ বাংলাদেশ-এর ব্যপস্থাপনায় মারকাযের হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিন ব্যাপী আলোচনা, কবিতা উপস্থাপন, প্রবন্ধ পাঠ, প্রশ্নোত্তর পর্ব, পুরস্কার বিতরণ ও দিবসটি উপলক্ষে তালিবুল ইলমদের দেয়ালিকা প্রকাশ। অনুষ্ঠান শুরুহয় সকাল দশটায়।
প্রথমেই ‘আরবি ভাষা দিবস: ইতিহাস ও আমাদের করণীয়’ বিষয়ে শায়েখ মুহিউদ্দীন ফারুকী লিখিত আরবি প্রবন্ধ পাঠ করা হয়।
এরপর আরবি সাহিত্যিক হাফেজ ইব্রাহীমের আরবি ভাষার শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে রচিত কালজয়ী কবিতা উপস্থাপন করা হয়। ‘আরবি ভাষায় যুগে যুগে উলামায়ে কেরামের কীর্তি ও অবদান’, ‘আন্তর্জাতিক আরবি ভাষা দিবস : দায়িত্ব ও কর্তব্য’ এবং ‘আধুনিক আরবি ও কোরানিক আরবি’ এই তিন বিষয়ে আলোচনা পেশ করা হয়।
এ ছাড়া অতিথি বক্তব্য পেশ করেন ঝিনাইদহ কালিগঞ্জের মসজিদে রহমানের সম্মানিত ইমাম ও খতিব, যশোর মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডের আঞ্চলিক প্রধান পরীক্ষক জনাব মাওলানা কাজী নূরুন্নবী।
সবশেষে এবছরের দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় ‘আরবি ভাষা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’-এর উপর বিশদ আলোচনা পেশ করেন মারকাযুল লুগাহর প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক শায়েখ মুহিউদ্দীন ফারুকী। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা কখনো আল্লাহ প্রদত্ত মানবীয় বুদ্ধিমত্তার বিকল্প হতে পারে না। তাই মানবীক মেধাকেই আরবি ভাষা চর্চায় প্রধান মাধ্যম হিসেবে গ্রহন করতে হবে পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে আরবি ভাষার উন্নয়নে কাজ করে যেতে হবে। আরবি ভাষার শ্রেষ্ঠত্ব জাতিসংঘ কর্তৃক আন্তর্জাতিক আরবি ভাষা দিবস ঘোষনার কারণে নয় বরং আল্লাহ কর্তৃক এ ভাষায় কোরআন অবতরণ ও কিয়ামত পর্যন্ত সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে চৌদ্দোশ বছর আগেই তার শ্রেষ্ঠত্ব সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে আছে।
এ সময় সাধারণ শিক্ষিতদের মাঝে আরবি ভাষা শিক্ষা ও প্রচার-প্রসারে যারা কাজ করছে তাদের কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে শায়েখ ফারুকী উলামায়ে কেরামের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ ও সম্মান বজায় রাখার আহ্বান জানান।
তিনি আরো বলেন, আরবি ভাষা দিবস উপলক্ষে শুধু ফেসটুন, ব্যানার, রেলী ও সেমিনার ইত্যাদি আনুষ্ঠানিক কর্মসূচী পালনে সীমিত না থেকে ব্যাপক পরিসরে আরবি ভাষার প্রাত্যাহিক চর্চা করতে হবে। দেশের গন্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আরবি ভাষার খেদমত করার জন্য আমরা বদ্ধপরিকর।
তালিবে ইলমদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আরবি ভাষা ও সাহিত্য শিক্ষার সাথে আমাদেরকে ইসলামী শিষ্টাচারের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে দুনিয়াবী কোন স্বার্থ বা অর্থ উপার্জনের জন্য আমরা আরবি চর্চা ও শিক্ষা দিচ্ছি না বরং কোরআন ও হাদীসের ভাষার খেদমত হিসেবে তাকে নাজাতের উসিলা মনে করি।
ঘন্টা ব্যাপী সারগর্ভ আলোচনা শেষে সবাইকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সংক্ষিপ্ত দোয়ার মধ্য দিয়ে তিনি অনুষ্ঠান সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
