মির্জা কাদিয়ানি : জীবনের নানাদিক

মির্জা কাদিয়ানি : জীবনের নানাদিক

যুবাইর আহমাদ বিন তাফাজ্জল হুসাইন:

মির্জা গোলাম আহমাদ কাদিয়ানি নিজেই নিজের পরিচিতি তুলে ধরেন এভাবে–‘আমার নাম গোলাম আহমদ। আমার পিতার নাম গোলাম মুরতজা। দাদার নাম আতা মুহাম্মদ। পরদাদার নাম গুল মুহাম্মদ। আর বলা হয়ে থাকে আমাদের গোত্র মোগলদের শাখা বরলাস জাতির লোক ছিলেন। আমার মুরব্বিদের পুরোনো দলিলপত্র থেকে জানা যায় যে, তারা এই দেশে এসেছেন সমরকন্দ থেকে।’ (কিতাবুল বারিয়্যাহর টীকা পৃ: ১৪৪, রূহানী খাযায়েন পৃ: ১৬২খ: ১৩)

কিন্তু কিছুদিন পর মির্জা সাহেব তার তথাকথিত ইলহাম মারফত জানতে পারলেন যে, তিনি ইরানি বংশের। প্রাগুক্ত কিতাবের টীকায় তিনি লিখেন–‘আমার ব্যাপারে ইলহাম এই–যদি ঈমান সুরাইয়্যা নক্ষত্রের সাথে ঝুলন্ত থাকতো, তাহলে এই লোক–যিনি আসলে পারস্যের লোক–গিয়ে সেটাকে নিয়ে নিত।’ (কিতাবুল বারিয়্যা, পৃ. ১৪৫, রুহানী খাযায়েন, ১৬৩/১৩)

তিনি বলেন, আমার ব্যাপারে আরেকটি ইলহাম হলো–যারা কুফরী করেছে (মির্যাকে অস্বীকার করে) পারস্যের সেই লোকটি তার ধর্মমতকে বাতিল করেছেন। আল্লাহ তার প্রচেষ্টার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলেন। এই সব ইলহাম বুঝায় যে,আমাদের পূর্ব পুরুষগণ পারস্যের ছিলেন। আর সত্য তাই, আল্লাহ যা প্রকাশ করেন।’ (প্রাগুক্ত)

জন্ম

মির্জা কাদিয়ানি তার জন্মের কথা লিখতে গিয়ে বলেন–‘আমার জন্ম ১৮৩৯ বা ১৮৪০ সালে শিখদের শেষ সময়ে হয়েছে। ১৮৫৭ সনে আমার বয়স ছিল ১৬ কিংবা ১৭। (প্রাগুক্ত, পৃ. ১৫৯, রুহানী খাযায়েন, ১৭৭/১৩

শিক্ষার্জন

মির্জা কাদিয়ানি কাদিয়ান এলাকা থেকেই বেশ কয়েকজন উস্তাদের কাছে শিক্ষার্জন করেন। মির্জা সাহেবের ভাষায়েই তা শোনা যাক–‘শৈশবে আমার বয়স যখন ছয় কিংবা সাত তখন একজন উস্তাদ ঠিক করা হয় আমাকে ফারসী পড়ানোর জন্য। তিনি কোরআন শরীফসহ বেশ কিছু ফারসী কিতাব আমাকে পড়ান। তাঁর নাম ছিলো ফযলে ইলাহী। আমার বয়স আনুমানিক দশ বছর হলে আমার তারবিয়তের জন্য একজন আরবী-পড়ুয়া শিক্ষক নির্ধারণ করা হয়। তার নাম ছিলো ফযলে আহমদ। আমার ধারণা–যেহেতু আমার শিক্ষা আল্লাহ তয়ালার ফযলের এক বীজ বপন,তাই এই উস্তাদের নামের প্রথম শব্দও ফযলই ছিল। আমার এই আরবী শিক্ষক একজন দীনদার বুযুর্গ মানুষ ছিলেন। তিনি মনোযোগ ও গুরুত্বসহ আমাকে পড়াতেন। আমি নাহব-ছরফের কিছু কিতাব তার কাছে পড়ি। এরপর আমার বয়স সতেরো বা আঠারো হলে আরেকজন মৌলভি সাহেবের কাছে আমার কয়েক বছর পড়ার সুযোগ হয়। তাঁর নাম ছিলো গুল আলী শাহ।

এই মৌলভি সাহেবকেও আব্বাজানই চাকুরী দিয়েছিলেন কাদিয়ানে আমাকে পড়াতে। তার কাছে আমি নাহব, মানতেক, হেকমত ও অন্যান্য প্রচলিত জ্ঞান যতদূর আল্লাহ চেয়েছেন আমি অর্জন করেছি। এ ছাড়া আমি ডাক্তারী বিদ্যার কিছু গ্রন্থ আমার পিতার কাছে পড়ি। কেননা আমার পিতা চিকিৎসা বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন। আর এই শিক্ষাজীবনে আমার কিতাব দেখার ও পড়ার এত আগ্রহ ছিলো যে, মনে হয় আমি যেন দুনিয়াতে ছিলাম না। আমার পিতা আমাকে বারবার এই কথাই বলতেন যে, কিতাব মুতালাআ কম করা উচিৎ। কেননা, তিনি অত্যন্ত সহনশীলতার কারণে আমার স্বাস্থ্যের অবনতির ভয় করতেন। (প্রাগুক্ত, ১৪৮-১৫০, রুহানী খাযায়েন, ১৭৯-১৮১/১৩ পাদটীকা)

কিন্তু বাস্তবতা হলো, মির্জা সাহেবের এই অবস্থা বেশিদিন পর্যন্ত বলবৎ থাকেনি। তার বাবার পীড়াপীড়ির কারণে পূর্বপুরুষদের জমিদারি হাসিল করার জন্য চেষ্টা-প্রচেষ্টা এবং আদালত সংক্রান্ত নানা কাজে জড়িয়ে পড়তে হয় তাকে। এই ব্যাপারে মির্জা কাদিয়ানি লিখেন–‘আমার বাবা তার বাপ-দাদার গ্রামের জমি-জমা উদ্ধারের জন্য ইংরেজদের আদালতে মামলা-মুকাদ্দামা করেছিলেন। তিনি সেই কাজে আমাকেও লাগিয়ে দেন। তাই আমি দীর্ঘ সময় এই কাজে রত ছিলাম। আমার প্রচন্ড আফসোস এ জন্য যে,অনেক মূল্যবান সময় এই বেহুদা ঝগড়া-বিবাদে নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আবার বাবাও আমকে এই জমা-জমির দেখভালের কাজে লাগিয়ে দেন। অথচ আমি এই স্বভাবের লোক ছিলাম না। (কিতাবুল বারিয়্যা,১৫০-১৫১, রুহানী খাযায়েন, ১৮২/১৩)

কর্মজীবন

মির্জা কাদিয়ানি কয়েকবার মোক্তারি পরীক্ষা দিয়ে পাশ করতে ব্যর্থ হন। অবশেষে তিনি শিয়ালকোট শহরে ডেপুটি কমিশনার অফিসে অল্প বেতনে কেরাণী হিসেবে চাকুরী করেন। তার এই চাকুরী ১৮৬৪ ইংরেজি থেকে ১৮৬৮ ইংরেজি পর্যন্ত ৪ বছর বলবৎ থাকে। এই সময় তিনি ইংরেজী এক-দু’টো কিতাবও পড়েন। (ইসলামী আকীদা ও ভ্রান্ত মতবাদ পৃ:৩১৯ ও সীরাতুল মাহদী ১ম খ.)

১৮৬৮ সনে তিনি এই চাকুরী থেকে ইস্তফা গ্রহণ করে কাদিয়ানে চলে আসেন এবং জমিদারির কাজে আবার জড়িয়ে পড়েন। তবে বেশিরভাগ সময় কোরআন নিয়ে চিন্তা-ফিকির করা, তাফসীর ও হাদীস দেখার কাজে ব্যয় হতে থাকে। (হাশিয়ায়ে কিতাবুল বারিয়্যাহ,পৃ:১৫৫, খাযায়েন, খ: ১৩পৃ: ১৮৭)

মির্জা কাদিয়ানির রোগ-ব্যাধি

মির্জা কাদিয়ানি সাহেব ছিলেন একজন চিরস্থায়ী রোগী। তার রোগ একটা-দু’টো নয়, তার একটি তালিকা দেওয়া যায়। যৌবনেই তিনি নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন। তিনি যেসব রোগে আক্রান্ত ছিলেন সে সব তারই হাওয়ালায় নিচে উল্লেখ করছি।

তিনি লিখেন–‘আমি চিরস্থায়ী রোগী : সব সময় মাথা ব্যথা, মাথা ঘুরানো, কম ঘুম, সংকোচ মনা প্রবৃতি রোগ একের পর এক লেগেই থাকে। আর ঐদিকে দ্বিতীয় চাদর যা আমার শরীরের নিম্নাংশে বিদ্যমান, সেই রোগও দীর্ঘদিন যাবৎ আমার সাথেই আছে। (অর্থাৎ পেশাবের আধিক্য) কখনো কখনো দিনে বা রাতে শত শতবার প্রশ্রাবের প্রয়োজন হয়। আর এরকম প্রশ্রাবের আধিক্যের কারণে শারীরিক দুর্বলতা তো সবসময় আমার থাকেই।’

মির্জা সাহেবের যেসব রোগ-ব্যাধি ছিলো তা হলো– ১.পাগলামী। ২.মাথা ঘুরানো। ৩.মাথা ব্যাথা। ৪.ঘন ঘন প্রশ্রাব। (আরবাঈন নাম্বার ৩-৪ খাযায়েন,পৃ: ৪৭১,খ: ১৭) ৫.পাতলা পায়খানা। ৬.সঙ্কোচমনা। (রুহানী খাযায়েন, পৃ: ৪৭১ খ: ১৭) ৭.ঘুম কম হওয়া। ৮.স্বরণ শক্তির দূর্বলতা। (নাসীমে দাওয়াত, পৃ: ৭১) ৯.বদহজম। ১০.মস্তিস্কের দুর্বলতা। ১১.হিষ্ট্রিরোগ। ১২.চিরস্থায়ী রোগী, ইত্যাদি। (জমীমায়ে আরবাঈন নাম্বার: ৩-৪ পৃ: ৪)

সাচ্ছ্যন্দময় জীবন

মির্জা সাহেবের জীবনের সূচনালগ্ন কঠিন এবং সংকীর্ণ অবস্থায় অতিক্রম হলেও পরে যখন তার দাওয়াত এবং আন্দোলন ব্যাপক হলো এবং সেই সাথে তার অনুসারী বেড়ে চললো, আর তিনি নিজেও একটি দলের অনুসরণীয় এবং প্রধান হয়ে গেলেন, তখন তিনি অত্যন্ত সাচ্ছ্যন্দময় জীবন কাটাতে থাকেন। জীবন কাটতে থাকে তার আমিরী শান-শওকতে। তিনি নিজেও বুঝতে পারছিলেন তার জীবনের শুরু এবং বর্তমানের ফারাক। ১৯০৭ সনে এ বিষয়টি বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেন–‘আমাদের আরামদায়ক সুখময় জীবনের মূল ভিত্তি হলো আমাদের পিতার শুধু একটি আমদানির উপর সীমাবদ্ধ। বাইরের লোকদের কেউ তা জানতো না। আমি একজন অপরিচিত মানুষ হিসাবে কাদিয়ান নামক এক অপরিচিত গ্রামে ছিলাম। এরপর আল্লাহ এক ভবিষ্যদ্বাণী অনুযায়ী দুনিয়াকে আমার দিকে ফিরিয়ে দিলেন। একের পর এক বিজয় দিয়ে আমাকে সাহায্য করলেন যার শোকর আদায়ের ভাষা আমার নেই। আমার নিজের অবস্থা লক্ষ করলে এই পরিমাণও আশা ছিলো না যে, প্রতি মাসে দশ টাকা হলেও আমার জুটবে। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা–যিনি গরীবদেরকে মাটি থেকে উচ্চাসন দান করেন, আর অহংকারীদের উচ্চাসন থেকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেন–তিনি আমাকে এমনভাবে সাহায্য করলেন যে, আমি নিশ্চিতরূপে বলতে পারবো–এ যাবৎ তিন লাখের কাছাকাছি টাকা আমার এসেছে। হয়তো-বা এর চেয়ে আরও বেশি।’ (হাকীকাতুল অহী,পৃ.২১১, রুহানী খাযায়েন, ২২০-২২১/২২)

খাজা কামালুদ্দীন সাহেব একবার মৌলভি মুহাম্মদ আলী এবং কাদিয়ানি ধর্মমতের প্রসিদ্ধ আলেম মৌলভি সরওয়ার শাহকে উদ্দেশ্য করে বললেন–‘আমার একটি প্রশ্ন আছে, যার উত্তর আমার জানা নেই। আমি এখন সেই প্রশ্ন করছি, আপনি আমাকে সেই প্রশ্নের উত্তর দিন। আগে আমরা আমাদের নারীদেরকে একথা বলে উৎসাহ দিতাম যে, নবী এবং সাহাবীদের জীবনের ন্যায় জীবন গ্রহণ করা উচিৎ। তারা স্বল্প এবং শুষ্ক খাবার খেতেন। মোটা কাপড় পরতেন। অবশিষ্ট টাকা-পয়সা আল্লাহর রাহে বিলিয়ে দিতেন। আমাদেরও এমনটিই করা উচিৎ। তাদেরকে এধরনের উপদেশ দিয়ে কিছু অর্থকড়ি পাওয়া যেতো। আমরা সেগুলো কাদিয়ানে পাঠিয়ে দিতাম। কিন্তু আমাদের স্ত্রীগণ যখন কাদিয়ান গেলেন এবং সেখানে থেকে সেখানকার অবস্থা সম্পর্কে অবগত হয়ে ফিরে এলেন তারা আমাদের উপর চড়াও হয়ে বললো যে, “তোমরা বড় মিথ্যুক। আমরা নিজেরাই এবার নবি ও সাহাবাদের জীবন-যাপন পদ্ধতি দেখে এসেছি। যেরকম আরাম-আয়েশের জীবন সেখানের নারীদের, তার একদ্বশমাংশও বাইরের অন্য নারীদের নেই। অথচ আমাদের অর্থ-সম্পদ উপার্জিত। আর তাদের কাছে যেসব অর্থকড়ি আসে সেসব জাতীয় ইস্যুর জন্য জাতীয় অর্থ-সম্পদ। তাই তোমরা মিথ্যুক, এতোদিন মিথ্যা বলেই আমাদেরকে ধোঁকা দিয়ে এসেছ। ভবিষ্যতে আমরা আর তোমাদের ধোঁকায় পড়ব না।” এখন আর তারা আমাদেরকে কাদিয়ানে পাঠানোর মতো কোনো টাকা দেয় না। (সবই তাদের ভোগ-বিলাসে খরচ করে ফেলে।) (কাশফুল ইখতিলাফ পৃ: ১৩,১৪)

বিবাহ ও সন্তানাদি

মির্জা কাদিয়নি ১৮৫২ বা ১৮৫৩ সনে প্রথম বিয়ে করেন নিজ বংশে (সীরাতুল মাহদী,খ: ২,পৃ: ১৫১ -রেওয়ায়েত নং ২৬৭)। এই স্ত্রীর নাম ছিল ফীজেদী মা। তার ঔরশে দুই সন্তান জন্ম গ্রহণ করে। একজনের নাম মির্জা সুলতান আহমদ, অপরজনের নাম মির্জা ফযল আহমদ।

উল্লেখ্য যে, মির্জার এই দুই সন্তানই মির্জার মতবাদের ব্যাপারে অসন্তুষ্ট ছিলেন। তাই ফযল আহমদের ইন্তেকালের পর মির্জা কাদিয়ানি তার জানাযায় শরীক হননি। অপর ছেলে মির্জা সুলতান আহমদকে তিনি ত্যাজ্য করে দেন। (সীরাতুল মাহদী ১খ.)

মির্জা সাহেবের দ্বিতীয় স্ত্রীর নাম নুসরত জাহান বেগম। মির্জা সাহেব তাকে উম্মুল মুমিনীন বলতেন। এই স্ত্রীর ঔরসে দশ সন্তানের জন্ম হয়।

১ম সন্তান: মির্জা বশীরুদ্দীন মাহমুদ আহমদ (২য় খলীফা)। ২য় সন্তান: মির্জা বশীর আহমদ (সীরাতুল মাহদী-এর লেখক)। ৩য় সন্তান: মির্জা শরীফ আহমদ। ৪র্থ সন্তান: মুবারক বেগম। ৫ম সন্তান: আমাতুল হাফীজ। এই তালিকার সন্তানরা মির্জার মৃত্যুর পরেও জীবিত ছিল।

তার অপর পাঁচ সন্তান তথা-৬.বশীর আহমদ আওউয়াল, ৭.শওকত বেগম, ৮.মুবারক আহমদ, ৯.আমাতুন নাসীর–এরা মির্জার মৃত্যুর পূর্বেই মারা যায়। (সীরাতুল মাহদী, খ: ১পৃ: ৫৩)

মির্জা সাহেবের দাবি অনুযায়ী তার তৃতীয় স্ত্রী হচ্ছে মুহাম্মদী বেগম। তাকে পাওয়ার জন্য মির্জা সাহেব হাজারও কষ্ট সহ্য করেছেন। কিন্তু যখন তার বাবা তার মেয়েকে বিয়ে দিতে রাজী হলেন না, তখন মির্জা কাদিয়ানি খোদায়ী ইলহাম বানালেন– زوجنكها অর্থাৎ আমি তোমার কাছে তাকে (মুহাম্মদী বেগমকে) দিয়ে দিলাম।

শিক্ষণীয় করুণ মৃত্যু

মির্জা কাদিয়ানি ২৬ শে মে রোজ মঙ্গলবার কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে চরম ভীতিকর ও দৃষ্টান্তমূলকভাবে মৃত্যু বরণ করেন। মির্জা সাহেবের সহচর মীর নাসির নবাব সাহেব মির্জার মৃত্যুর করুণ দশার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে লিখেন–‘হযরত মির্জা সাহেব যে রাতে অসুস্থ হন সে রাতে চিন্তাগ্রস্থতা নিয়েই আমি নিজ কামরায় গিয়ে শুয়ে পড়ি। মির্জা সাহেবের রোগযন্ত্রণা বেড়ে গেলে আমাকে জাগানো হয়। আমি উপস্থিত হলে মির্জা সাহেব আমাকে সম্বোধন করে বলেন, মীর সাহেব! কলেরার আযাব আমাকে পেয়ে বসেছে। এরপর আমার জানামতে মির্জা সাহেব স্পষ্ট কোনো কথা বলেননি। দ্বিতীয় দিন দশটার পর তিনি ইন্তেকাল করেন। (হায়াতে নাসের পৃ.১৪, শায়েখ ইয়াকুব আলী ইরফানী)

উল্লেখ্য যে, মির্জা কাদিয়ানির মৃত্যু বিষয়ে একটি কথা প্রচলিত আছে যে, তিনি নাকি টয়লেটে পায়খানায় পড়ে মারা গেছেন। আবার কেউ কেউ আরেকটু বাড়িয়ে বলে থাকেন, পায়খানায় হাবুডুবু খেয়ে টয়লেটের মল খেতে খেতে পেট ভরে যায়, আর সেখানেই তার মৃত্যু হয়, ইত্যাদি। কিন্তু আমরা আমাদের অনুসন্ধান অনুযায়ী এমন কোনো কথা কোথাও পাইনি। হ্যাঁ, মির্জা সাহেব তার মৃত্যুকালে কলেরায় আক্রান্ত ছিলেন। বারবার টয়লেটে যেতে হয়েছিলো। শেষ পর্যায়ে তার শারীরিক দুর্বলতা বেড়ে গেলে টয়লেটে যাওয়ারও শক্তি হারিয়ে ফেলেন, তাই বিছানাতেই কাজ সারতে থাকেন। আর তিনি কলেরা রোগেই মারা যান। সম্ভবত অতিরঞ্জনবসত কেউ বিষয়টিকে ঘুরিয়ে দিয়ে তা বলে দিয়েছেন, আর তা-ই প্রসিদ্ধি লাভ করে।

কালক্রমে মির্জা কাদিয়ানির দাবিসমূহ

মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানি ১৮৮০ইংরেজি পর্যন্ত শুধু নিজেকে মুলহাম মিনাল্লাহ (আল্লাহর পক্ষ থেকে ইলহামপ্রাপ্ত) হওয়ার দাবি করে আসছিলেন। কিন্তু ১৮৮২ সনে মুজাদ্দিদ হওয়ার দাবি করেন। এরপর ১৮৯১ সনে মাসীহে মাওউদ। ১৮৯৪ সনে মাহদী। ১৮৯৯সনে যিল্লি, বুরুজী নবী, আর পরিশেষে ১৯০১ সনে সরাসরি নবি হওয়ার দাবি করে বসেন। এ দাবিগুলো আসলে মস্তিস্ক বিকৃতির পরেই মির্জা সাহেব শুরু করেন। তার দাবিগুলোই এর প্রমাণ বহন করে। নিম্নে কিছু উল্লেখযোগ্য দাবি সনদসহ উল্লেখ করছি খোদ মির্জার ভাষায়–

১. ১৮৮২ ইংরেজি: মুজাদ্দিদ হওয়ার দাবি। মির্জা সাহেবের বক্তব্য–‘যখন তেরতম শতাব্দীর পরিসমাপ্তি ঘটলো এবং চতুর্থদশ শতাব্দীর সূচনা হতে লাগলো তখন আল্লাহ তায়ালা ইলহামের মাধ্যমে এই সংবাদ জানালেন যে, তুমি এই শতাব্দীর মুজাদ্দিদ।’ (কিতাবুল বারিয়্যা, পৃ.১৬৮ পাদটীকা, রুহানী খাযায়েন ২০১/১৩)

২. ১৮৮২ ইরেজি: আল্লাহর পক্ষ থেকে আদিষ্ট হওয়ার দাবি। কাদিয়ানির বক্তব্য–‘আমি আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে আদিষ্ট হয়ে এসেছি।’ (নুসরাতুল হক, রুহানী খাযায়েন ৬৬/২১, কিতাবুল বারিয়্যা, ২০২পাদটীকা/১৩)

৩. ১৮৮২ ইংরেজি: সতর্ককারী হওয়ার দাবি। মির্জার বক্তব্য–‘অর্থাৎ রহমান কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন, যাতে তুমি ঐ লোকদেরকে সতর্ক করো যাদের বাপ-দাদাদেরকে সতর্ক করা হয়নি।’ (নুসরাতুল হক পৃ. ৫২ বারাহীনে আহমদিয়্যা, খন্ড নং ৫ম, রুহানী খাযায়েন ৬৬/২১)

৪. ১৮৮৩ ইংরেজি: আদম, মারইয়াম ও আহমাদ হওয়ার দাবি। কাদিয়ানির বক্তব্য–‘হে আদম! হে মারয়াম! হে আহমাদ! তুমি এবং যে ব্যক্তি তোমার অনুসারী ও বন্ধু, জান্নাতে অর্থাৎ প্রকৃত নাজাতের দলভূক্ত হয়ে যাও। (বারাহীনে আহমাদিয়্যা, ৪র্থ খন্ড, রুহানী খাযায়েন ৫৯০/১)

মির্জার ব্যাখ্যা–‘এখানে মারয়াম দ্বারা উম্মে ঈসা উদ্দেশ্য নয়, আদম বলে মানব পিতা আদমও উদ্দেশ্য নয়, আর না আহমদ বলে হযরত খাতামুল আম্বিয়া আঃ উদ্দেশ্য। তদ্রুপ সেই সব ইলহামগুলোতেও যেখানে মুসা, ঈসা এবং দাউদ ইত্যাদি বলা হয়েছে, সেখানে উল্লিখিত নবী-রাসূল উদ্দেশ্য নন। বরং এই অধমই উদ্দেশ্য।’ (মাকতুবাতে আহমাদিয়্যা ৮২/১)

৫. ১৮৮৪ ইংরেজি: রাসুল হওয়ার দাবি। মির্জার ইলহাম–‘আমি তোমাকে সারা বিশ্বের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি। তুমি বলো, আমাকে তোমাদের সকলের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে।’ (আরবাঈন নম্বর ২ পৃ.৭ রুহানী খাযায়েন, ৩৫৩/১৭)

৬. ১৮৯১ইংরেজি: মাসীলে মাসীহ হওয়ার দাবি। কাদিয়ানির বক্তব্য–‘আল্লাহর অহী এবং ইলহাম দ্বারা আমি মাসীলে মাসীহ হওয়ার দাবি করেছি। আর এটাও আমার সামনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, আমার ব্যাপারে প্রথমে কোরআন শরীফে এবং হাদীসে নববীতে সংবাদ দেওয়া হয়েছে। ওয়াদাও দেওয়া হয়েছে।’ (তাযকিরা, পৃ. ১৭২)

৭. ১৮৯১ইংরেজি: মাসীহ ইবনে মারয়াম হওয়ার দাবি। মির্জার ইলহাম–‘আমি তোমাকে মাসীহ ইবনে মারয়াম বানিয়েছি।’ (ইযালায়ে আওহাম, পৃ. ৪৩৪ রুহানী খাযায়েন ৪৪২/৩)

৮. ১৮৯২ইংরেজি: কুন ফায়াকুন-এর অধিকারী হওয়ার দাবি। মির্জার ইলহাম–‘তার ব্যাপার তো এই যে, তিনি যখন কোনো কিছুর ইচ্ছা করেন, তখন কেবল বলেন, হয়ে যা, আর তা অমনি হয়ে যায়।’

৯. ১৮৯৪ইংরেজি: মাসীহ ও মাহদী হওয়ার দাবি। মির্জার বক্তব্য–‘আমাকে সুসংবাদ দিয়েছেন এবং বলেছেন–যে প্রতিশ্রুত মাসীহের জন্য তারা অপেক্ষমান সে তো তুমিই।’ (বারাহীনে আহমাদিয়্যা,৫ম খন্ড, পৃ.৯৫ রুহানী খাযায়েন ১২৪/২১)

১০. ১৯০০ থেকে ১৯০৮ইংরেজি পর্যন্ত যিল্লি নবি হওয়ার দাবি। মির্জার বক্তব্য–‘আমি যখন বুরুজী এবং ছায়া-স্বরূপ রাসুল সা. এবং বুরুজী রংয়ে পূর্ণাঙ্গতা মুহাম্মদি নবুওয়াত-সহ আমার মাঝে আয়নার ছায়ার মতো প্রতিচ্ছবি হয়ে আছে, তাহলে আমি আর ভিন্ন মানুষ থাকলাম কীভাবে যে, আমি আলাদাভাবে নবুওয়াতের দাবি করবো?’ (এক গালতি কা ইযালা, পৃ.৮ রুহানী খাযায়েন ২১২/১৮)

১১. নুবুওয়াত ও রিসালাতের দাবি। মির্জার বক্তব্য–(১) ‘সত্য খোদা ঐ খোদাই যিনি কাদিয়ানে তার নিজ রাসুলকে প্রেরণ করেছেন।’ (দাফিউল বালা, রুহানী খাযায়েন২৩১/১৮)। (২) ‘আমি রাসুলও, আবার নবিও। অর্থাৎ আমাকে প্রেরণও করা হয়েছে, আবার খোদার পক্ষ থেকে গায়েবি খবরাখবরের অধিকারী করা হয়েছে।’

১২. স্বতন্ত্র শরিয়ত-বিশিষ্ট নবী ও রাসুল হওয়ার দাবি। মির্জার বক্তব্য–(১) ‘আপনি বলুন, হে লোক সকল ! নিশ্চয় আমি তোমাদের সকলের উদ্দেশ্যে আল্লাহর প্রেরিত রাসুল।’ (মজমুআয়ে ইশতিহারাত খন্ড নং ২)। (২) ‘তিনি সেই সত্তা যিনি তার রাসুলকে হেদায়াত ও সত্য দীন দিয়ে প্রেরণ করেছেন, এই সত্য দীনকে অন্যান্য (বাতিল) ধর্মের উপর বিজয় লাভের জন্য।’ ( ইজাযে আহমাদি, রুহানী খাযায়েন১১৩/১৯)

এই হচ্ছে মির্জা কাদিয়ানির দাবি, যা সরাসরি মির্জার লিখিত গ্রন্থ রূহানী খাযায়েন থেকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। মির্জার এসব অবাস্তব দাবির পেছনে দুটি বিষয় কাজ করেছে। ১.মুসলিমদের মাঝে ফাটল সৃষ্টি করে ইংরেজদের পক্ষপাতি করা। ২.মির্যার পাগলামি এবং মস্তিস্কের বিকৃতি প্রকাশ পাওয়া। (রদ্দে কাদিয়ানিয়্যাতকে যরী উসূল পৃ:৪২ থেকে ৪৮-এর আলোকে)

মির্জা কাদিয়ানির রচিত গ্রন্থাবলী

মির্জা গোলাম আহমদ কাদিয়ানি তার ধর্মমত প্রচারের জন্য বেশ কিছু বই লিখেছেন। তার লেখালেখির সূচনা হয় ১৮৭৯ সনে বারাহীনে আহমদিয়া নামক গ্রন্থের মাধ্যমে। তিনি এতে মোটামোটিভাবে ইসলামের সত্যতার পক্ষে জোড়ালো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেন। এই লক্ষে তিনি সে সময়ের বহু ইসলামি পন্ডিতদের কাছে কোরআনের সত্যতার বিষয়ে লেখা পাঠাতে অনুরোধ করেন। তখনকার যুক্তি বিদ্যায় প্রাজ্ঞ আলেম মওলবী চেরাগ আলী সাহেব মির্যা সাহেবকে লেখাজোখা ও বিভিন্ন গবেষণার মাধ্যমে সহায়তা করেন। যদিও তার নামের উল্লেখ নেই মির্যা সাহেবের সেই গ্রন্থে। পরবর্তীতে চেরাগ আলী সাহেবের উদ্দেশ্যে মির্যা সাহেবের প্রেরিত চিঠিগুলো থেকে মাওলানা ইয়াহইয়া সাহেব সেগুলো সীরাতুল মুসান্নিফীন গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তবে তার বিভিন্ন দাবি-দাওয়া, ইলহাম ইত্যাদিও নজরে পরে এ গ্রন্থে। তিনি তার বিখ্যাত পুস্তিকা “এক গালতি কা ইযালা” “হাকীকাতুল অহী” “কিশতীয়ে নুহ” “ইযালায়ে আওহাম” প্রবৃতি গ্রন্থ রচনা করেন। এসব গ্রন্থে নবুওয়াত দাবি সহ ইসলামের নানা ধরণের বিকৃতি ও কুফরী আকীদা উপস্থাপিত হয়েছে। মির্যা সাহেবের লিখিত বইগুলোর ৮৪ টি বইকে তাঁরই একভক্ত জালালুদ্দীন শামস ২৩ ভলিয়মে একত্রিত করে “রুহানী খাযায়েন” নামে ছেপেছেন। অজানা কারণে দীর্ঘদিন বইগুলোর ছাপা বন্ধ ছিলো। সম্প্রতি তা আবার ছাপা শুরু হয়েছে। এ ছাড়াও মির্যা কাদিয়ানির বিজ্ঞপিÍ ও ঘোষণাপত্র ৩ খন্ডে ছাপা হয়েছিলে, যা মাজমূয়ায়ে ইশতিহারাত নামে পরিচিত। বর্তমানে তা নতুন দুই ভলিউমে ছাপা হচ্ছে। মির্যা সাহেবের বিভিন্ন জলসা ও মজলিসে প্রদত্ত বয়ানগুলো মালফূযাত নামে ১০খন্ডে ছাপা হয়েছিলো। এখন নতুন এডিসনে তা পাঁচ খন্ডে ছাপা হচ্ছে। মর্যা সাহেবের কতিথ অহী, কাশফ ও ইলহামগুলো তাযকিরা নামে এক খন্ডে ছাপা হয়েছে। তার একটি কবিতার বই আছে যা দুররে সামীন নামে পরিচিত।

মির্যা কাদিয়ানির ব্যাপারে উলামায়ে কেরামের প্রতিক্রিয়া

শুরুতে তাদের প্রতারণা সহজে বোধগম্য না হলেও অনেক বিজ্ঞ আলেমের কাছে নানা সংশয় কাজ করতে থাকে। এরপর তার অবাস্তব দাবি-দাওয়া, মিথ্যা ভবিষ্যদ্বাণী ইত্যাদি প্রকাশ পেলে তাদের কুফরের ব্যাপারটি সকলের কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়। তখন তাদের ভ্রান্তি নিরসনে উলামায়ে কেরাম নানাভাবে খন্ডন করেন। আল্লামা আনোওয়ার শাহ কাশ্মিরী রহ.-এর মতো ইলমি ব্যক্তিত্বের মুখ থেকে তখন বেরিয়ে আসে–আমি যতটুকু পড়েছি, সে অনুযায়ী এই উম্মতের মধ্যে কাদিয়ানি ফেতনার চেয়ে ভয়াবহ কোনো ফেতনা সৃষ্টি হয়নি। এর মোকাবেলায় সর্বশক্তি নিয়োগ করে মুসলমানদের ঈমান রক্ষার সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ুন। এটি এমন এক জিহাদ যার বদলা নিশ্চিত জান্নাত। আমি সেই জান্নাতের জিম্মাদারি নিচ্ছি। (কাদিয়্যানিয়্যাত হামারী নজর মে পৃ.৯৫)

মুফাক্কিরে ইসলাম আল্লামা আলী মিয়াঁ নদবী রহ. তাঁর এক ভাষণে বলেন–

কোরআন-হাদীস বিশেষজ্ঞ চিন্তাবিদ ও গবেষকদের সিদ্ধান্ত হলো কাদিয়ানি মতবাদ শুধু একটি দল নয়, বরং এটি ইসলামের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ ফেতনা। কেননা, এটি একটি স্বতন্ত্র ধর্ম এবং ভিন্ন একটি ধর্মের প্রতি আহ্বান। এখানে একটি ধর্মের পুরো অবকাঠামো দাঁড় করানো হয়েছে। শেআরে ইসলামের (ইসলামের প্রতীক) মোকাবেলায় শেআর, পবিত্র স্থানের মোকাবেলায় পবিত্র স্থান, কেন্দ্রের মোকাবেলায় কেন্দ্র, কেবলার মেকাবেলায় ভিন্ন কেবলা, ভক্তি-শ্রদ্ধার স্থানে ভিন্ন ভক্তিশ্রদ্ধা, একচিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির স্থানে অন্য চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি, কিতাবের বিপরীতে কিতাব। মোটকথা, ইসলামের প্রতিটি জিনিসের বিকল্প দাঁড় করানো হয়েছে। এমনকি ইসলামি বর্ষপঞ্জি ও হিজরি মাসের বিপরীতে নতুন মাসের নাম আবিষ্কার করা হয়েছে। যার স্পষ্ট অর্থ এই দাঁড়ায় যে, কাদিয়ানি মতবাদ ইসলামের বিরুদ্ধে একটি গভীর ষড়যন্ত্র।

ড. আল্লামা ইকবালের বিশ্লেষণ মতে–

আমাদের এ ব্যাপারে পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রয়েছে যে, ইসলাম আল্লাহ প্রদত্ত দীন ও ধর্ম। আর ইসলামের সমাজব্যবস্থার রূপায়ন এবং জীবনধারার বাস্তবচিত্রায়ন নবী মুহাম্মদ সা.-এর অনুগ্রহ ও অবদান। আমার দৃষ্টিতে কাদিয়ানিদের জন্য দুটি পথ খোলা আছে। এক. হয়তো তারা বাহায়িদের অনুসরণ করবে। দুই. অথবা সকল অপব্যাখ্যা ছেড়ে দিয়ে খতমে নবুওয়াতের পূর্ণ মর্মসহ তা গ্রহণ করে নেবে। বস্তুত, কাদিয়ানিদের সকল বিকৃতি ও অপব্যাখ্যার টার্গেট হলো ইসলামের পরিচয় বহন করে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জন। (হরফে ইকবাল, পৃ. ১৩৬)

আগের সংবাদপ্রচারে প্রতারণা : যে কারণে কাদিয়ানিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ বাড়ছে
পরবর্তি সংবাদকাদিয়ানি সম্প্রদায় : সূচনা ও বিকাশ