
বিশেষ প্রতিবেদক:
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুর ও তাঁর কর্মীদের ওপর বারবার হামলা ও আক্রমণের ঘটনায় ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’ নামক একটি সংগঠন গত কয়েক মাস ধরে বারবার আলোচনায় আসছে। ডাকসু ভিপির ওপর হামলা ছাড়াও আরও একাধিক আক্রমণ ও হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে এই সংগঠন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে আইনি কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সংগঠনটি রেজিস্টারভুক্ত কোনো সংগঠন নয়। গত বছর কোটা বিরোধী আন্দোলনের বিপরীতে কোটার স্বপক্ষে শাহবাগে জড়ো হন মুক্তিযোদ্ধাদের স্বজন পরিচয়ধারী কিছু লোক। কোটা বাতিলের পরিপত্র জারির পর এই পরিপত্রের প্রতিবাদে আন্দোলনেও নামেন। এই আন্দোলনের মধ্যেই আন্দোলনকারীদের সমন্বয়ে ২০১৮-এর ৪ অক্টোবর গঠিত হয় মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিনকে সংগঠনটির আহ্বায়ক এবং সাবেক সড়ক ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খানের ছেলে আসিবুর রহমান খানকে সদস্যসচিব করা হয়। আর চলতি বছর মার্চে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির পদবঞ্চিত নেতা আমিনুল ইসলামকে সভাপতি ও আল মামুনকে সাধারণ সম্পাদক করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা গঠন করেন জামাল উদ্দিন।
কমিটির এই তালিকা থেকেই পরিস্কার হয়ে যায় সংগঠনটিতে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব রয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সোমবার বলেছেন, সংগঠনটি সরাসরি আওয়ামী লীগের অনুমোদিত নয়৷ এর সঙ্গে কারা জড়িত সরকার এখনও স্পষ্টভাবে জানে না। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নামে কারা অপকর্ম চালাচ্ছে, এর সঙ্গে কারা জড়িত, সেটা খতিয়ে দেখতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ইতিমধ্যেই নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
মুক্তিযুদ্ধের নাম বিকিয়ে প্রতিষ্ঠা করা সংগঠনটিতে ইতিমধ্যেই নেতৃত্বের কোন্দলে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। চলতি বছরের ১০ অক্টোবর গণমাধ্যমে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সংগঠনটির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আমিনুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক আল মামুনকে সংগঠন-বিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ এনে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেন মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র জামাল উদ্দিন।
এই ঘটনার পর জামাল উদ্দিন ও আসিফ ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চে’র কেউ নন বলে দাবি করে পাল্টা বিবৃতি দেন আমিনুল ও আল মামুন এবং নিজেদের প্রকৃত ‘সংগঠন’ বলে দাবি করতে থাকে তারা।
গতকাল রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চে’র ব্যানারে যে মিছিলটি হয় এবং মিছিল শেষে ভিপি নুরুলসহ অন্যদের ওপর হামলা চালায় সেই মিছিলের নেতৃত্বে ছিলেন আমিনুল ইসলাম ও আল মামুনের সমর্থক অংশটি। এই অংশটিকে দুর্নীতির অভিযোগে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ হারানো গোলাম রাব্বানী মদদ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অবশ্য ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী গণমাধ্যমকে বলেছেন, তিনি কোনো সংগঠনের সঙ্গে নেই। ডাকসুর নির্বাচিত জিএস তিনি। তাঁর বিরুদ্ধে একটি অংশ অনেক দিন ধরেই অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ. ক. ম জামাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, চলতি বছরের মার্চ এপ্রিলের দিকে তাঁরা কাজ শুরু করেন। ডাকসু নির্বাচনের পরে এই কার্যক্রম জোরালো হয়। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের স্বার্থ রক্ষা তাঁদের কাজের উদ্দেশ্য। জামাল উদ্দিন বলেন, আমিনুল ইসলাম ও আল মামুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃত্বে ছিলেন। কিন্তু তাঁদের নানা অপকর্ম, একে ওকে মারধরের কারণে গত অক্টোবরে তাঁদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। তাঁর দাবি, ছাত্রলীগের বিদ্রোহী যে অংশটি আছে, যারা বহিষ্কার হয়েছে তাদের মদদে এরা নানা অপকর্ম করে বেড়াচ্ছে।
এদিকে আমিনুল ইসলাম আজ গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, হামলা তাঁরা করেননি। নুরুল বহিরাগতদের নিয়ে নানা উসকানিমূলক আচরণ করেছে। হামলার সঙ্গে তাঁদের সংশ্লিষ্টতা নেই। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আ ক ম জামাল উদ্দিন মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের কেউ নন। তিনি মুক্তিযোদ্ধার সন্তানও নন। তাঁকে আহ্বায়ক করা হয়েছে সম্মানের জায়গা থেকে। তিনি আর কমিটিতে নেই। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ তাঁকে বাদ দিয়েছে। অবশ্য আমিনুল বলেন, এখন আর আহ্বায়ক বা অন্য কোনো কমিটি নেই।
