মুসলিম বিদ্বেষ ইস্যুতে দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় কনজারভেটিভ পার্টির উদ্যোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

বৈষম্য, পক্ষপাতমূলক আচরণ ও মুসলিম বিদ্বেষ ইস্যুতে দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে উদ্যোগ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের দল। গোটা বিষয়ে নিরপেক্ষ পর্যালোচনা করতে ভারতীয় বংশোদ্ভূত শিখ ধর্মাবলম্বী অধ্যাপক স্মরণ সিংকে নিয়োগ করেছে কনজারভেটিভ পার্টি।

কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান জেমস ক্লেভারলি তার নিয়োগের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে দল দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পক্ষপাত ও বৈষম্যের বিষয়গুলোকে দল কখনই হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। তাই নিরপেক্ষ পর্যালোচনার সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের জন্য সমস্যা তৈরি করে, এমন বিষয়গুলিকে বাদ দিতে পারব।

নতুন দায়িত্ব পেয়ে অধ্যাপক স্মরণ সিং বলেন, এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত হওয়ায় আমি নিজেকে সম্মানিত বোধ করছি। কনজারভেটিভ পার্টিতে পক্ষপাত ও বৈষম্যের অভিযোগের ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নিরপেক্ষ পর্যালোচনা করতে আমাকে নিয়োগ করা হয়েছে।

অধ্যাপক স্মরণ সিং শল্য চিকিত্সক হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি, একাধিক মানবাধিকার সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত। একটি সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কারণে অসুস্থ হয়ে পড়া শিশুদের সংস্পর্শে এসে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও তিনি আগ্রহী হয়ে পড়েন। চণ্ডীগড়ের পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইন্সটিটিউট অব মেডিক্যাল এডুকেশন এন্ড রিসার্ট থেকে মনোবিদ হিসেবে প্রশিক্ষণ নেন তিনি। ১৯৯১ সালে সিং ব্রিটেনে চলে আসেন। নটিংহ্যামে লেকচারার এবং কনসালটেন্ট হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন তিনি। ২০০১ সালে লন্ডনের সেন্ট জর্জ ইউনিভার্সিটিতে সিনিয়র লেকচারারের দায়িত্ব পান অধ্যাপক স্মরণ সিং। সেখানে খুব কম খরচে যুব সম্প্রদায়ের নানা মানসিক ব্যাধির সমাধান করে আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। ২০০৬ সালের মার্চে ইউনিভার্সিটি অব ওয়ারিকে সোশ্যাল এন্ড কমিউনিটি সাইকেট্রি বিভাগে অধ্যাপক পদে যোগ দেন সিং। ২০১৯-এর আগে পর্যন্ত তিনি সমানাধিকার ও মানবাধিকার কমিশনের কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেছেন।

প্রসঙ্গত, বিগত বেশ কিছু সময় ধরেই কনজারভেটিভ দলের সদস্যদের বিরুদ্ধে মুসলিম বিদ্বেষের অভিযোগ উঠছে। তালিকায় রয়েছে বরিস জনসন, মাইকেল গভ, জ্যাক গোল্ডস্মিথের মতো নামও। ২০১৮-তে দলের মধ্যেই এই নিয়ে সরব হয়েছিলেন দলের কো-চেয়ার সাইদ ওয়ারসি। তিনি বলেছিলেন, মুসলিম বিরোধিতা দলকে বিষাক্ত করে তুলেছে।

আগের সংবাদএবারও রোহিঙ্গাদের আশ্বস্ত করতে ব্যর্থ মিয়ানমার
পরবর্তি সংবাদকে হচ্ছেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের নতুন ডিজি?