যেভাবে চলছে তাবলিগের কার্যক্রম

মুসান্না মেহবুব

মাওলানা সাদ কান্ধলভির বিভ্রান্তিমূলক বয়ান এবং তাবলিগে তাঁর একক নেতৃত্বের দাবির প্রেক্ষিতে সৃষ্ট বছর দুয়েক ধরে চলা তাবলিগ জামাতের সংকট না কাটলেও বর্তমানে বাংলাদেশের তাবলিগের কার্যক্রম পরিচালনায় বিবদমান দু’পক্ষের উত্তেজনা কমতে শুরু করেছে।

বিশ্ব ইজতেমার আয়োজনকে কেন্দ্র করে গত বছরের শেষ দিক থেকে এ বছরের শুরুর দুই মাস টান টান উত্তেজনা বিরাজ করেছিল তাবলিগে। তবে সর্বশেষ গত ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে দুই পক্ষের পৃথক নেতৃত্বে ইজতেমা অনুষ্ঠানের পর এ উত্তেজনা অনেকটাই কাটতে শুরু করে।

বিশ্ব ইজতেমায় আলেমপক্ষের তত্ত্বাবধানের তিনদিন মুসল্লিদের অভূতপূর্ব ও উপচে পড়া ভীড় থাকলেও সাদপন্থীদের তত্ত্বাবধানের তিনদিন মাঠের অনেকাংশই ফাঁকা পড়ে ছিল। লোকজনের তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি।

ইজতেমার পর মাঠ থেকে বের হওয়া সাদপন্থীদের চিল্লার জামাতগুলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে গেলেও অনেক জায়গায় তাদেরকে মসজিদে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসী এই কাজটি করলেও সাদপন্থীরা অভিযোগ, আলেমরাই নাকি তাদেরকে এসব মসজিদে ঢুকতে বাধা প্রদান করেছেন।

ইজতেমার পর তাবলিগের কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে জানতে চেয়ে আজ কথা বলেছিলাম আলেমপক্ষের তাবলিগিদের নিকটজন এবং সাথি মাওলানা আবু হাসসান রাইয়ানের সঙ্গে। তিনি জানান, ইজতেমার পর থেকে এখন পর্যন্ত সাদপন্থীরা নিজেদের মতো করেই তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে, আমরাও আমাদের মতো কাজ করে যাচ্ছি।

কাকরাইল মারকাজে সরকারের পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই কার্যক্রমের নেতৃত্ব চলছে। সিদ্ধান্ত ছিল আলেমপক্ষের তাবলিগিরা চার সপ্তাহ কার্যক্রম পরিচালনা করবেন, আর সাদপন্থীরা দুই সপ্তাহ। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইজতেমার পর থেকে চার সপ্তাহ ধরে আলেমরাই তত্ত্বাবধান করছেন কাকরাইলের যাবতীয় কার্যক্রম। আগামী সপ্তাহ থেকে সাদপন্থীদের পালা শুরু হবে। তারা দুই সপ্তাহ তত্ত্বাবধান করবেন।

কিন্তু তারা তো সরকারের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন, সকল কার্যক্রম যেন দুপক্ষের মধ্যে সমান হারে ভাগ করে দেওয়া হয়। তারা আগামী সপ্তাহে নেতৃত্ব নিলে দুসপ্তাহ পর কি নেতৃত্ব ছাড়বেন, নাকি চার সপ্তাহই পূরণ করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মাওলানা রাইয়ান জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পূর্বের নিয়ম বহাল আছে। আইনিভাবে সাদপন্থীরা একাধারে দুই সপ্তাহের বেশি সময় কাকরাইলের নেতৃত্বে দিতে পারবেন না।

জেলাওয়ারি মারকাজগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে মাওলানা রাইয়ান বলেন, উত্তরবঙ্গের ওদিকে কিছু জেলায় সাদপন্থীরা জোরজবরদস্তি করে মারকাজগুলো তাদের দখলে রেখেছে, উলামায়ে কেরামের কোনো কর্যক্রম সেখানে পরিচালিত হচ্ছে না। তবে অন্যান্য অঞ্চলের অনেক জেলায় আলেমরা এককভাবে মারকাজগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, সাদপন্থীরা সেখানে ঢোকার কোনো সুযোগ নেই। আর বাকি জেলার মারকাজগুলোতে সমঝোতার ভিত্তিতে, একসপ্তাহ এই পক্ষ, আরেক সপ্তাহ ওই পক্ষ—এভাবেই পরিচালিত হচ্ছে কার্যক্রম।

চলমান এই বিবাদ নিরসনের কোনো পথ তৈরি হচ্ছে কি না জানতে চাইলে মাওলানা রাইয়ান বলেন, সাদ সাহেব যদি নিজের ভুল থেকে ফিরে আসেন, এবং বিভ্রান্তিমূলক বক্তব্য থেকে নিঃশর্ত তওবা করেন, তবেই কেবল এই বিবাদের নিরসন সম্ভব। কিন্তু এই কাজটা তাঁর পক্ষ থেকে হবে বলে এখন পর্যন্ত কোনো আভাস দেখা যাচ্ছে না।

আগের সংবাদসিলেটের মেধাবী তরুণ আলেম অপহরণ, ৫ দিনেও মিলেনি কোনো হদিশ
পরবর্তি সংবাদডাকসু নির্বাচনের প্রচারণা শেষ, কাল ভোট