রাশেদ খান মেনন : অন্ধকারে যার বাস, আলোকছটা তার সহ্য হবে কীভাবে?

মুফতী ফয়জুল্লাহ

রাশেদ খান মেনন গত ৩ মার্চ জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের ইসলামি শিক্ষাধারা ও উলামায়ে কেরামকে নিয়ে কটূক্তি ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য রেখেছেন। ঠিক কী কারণে তিনি এমন ক্রোধান্বিত, মোটামুটি সকলেরই জানা। সরকারের গত টার্মে তিনি মন্ত্রিত্ব পেয়েছিলেন, এবার পাননি। আর ইতিমধ্যে ওলামায়ে কেরামের সঙ্গেও সরকারের একটা সুন্দর ও সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে, মেনন হয়তো মনে করেছেন সরকারের এই সৌহার্দপূর্ণতার কারণেই তিনি মন্ত্রিত্বটা খুইয়েছেন। অতএব যাদের কারণে তাঁর মন্ত্রিত্ব গেল, তাঁদেরকে একহাত নেওয়া দরকার। তিনি নিয়েছেন, এবং সেটা বাংলাদেশের সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গিয়ে।

কিন্তু মেনন যাঁদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন, এঁরা এ মাটির সুসন্তান। এ দেশের সিংহভাগ জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অভিভাবকত্ব হাজার বছর ধরে এঁরাই আঞ্জাম দিয়ে আসছেন। আল্লামা আহমদ শফীকে নিয়ে তিনি নীচভাষায় কটূক্তি করেছেন। অথচ আল্লামা আহমদ শফী তাঁর পুরোটা জীবন এ দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের জীবনকে আলোকিত করার কাজে ব্যয় করে এসেছেন। আলোকিত সমাজ গড়ার অসংখ্য সৈনিক তৈরি করেছেন। সমাজ থেকে অন্যায়, দুর্নীতি, মাদক, নারীনির্যাতন ইত্যাদি কদর্য কাজ প্রতিরোধ করে সাম্য, ন্যায় ও ইনসাফের দিকে মানুষকে আহ্বান করেছেন।

পক্ষান্তরে রাশেদ খান মেনন এই দিক থেকে অন্ধকারের ভেতরই কাটিয়ে দিয়েছেন নিজের পুরো জিন্দেগানি। অন্ধকার জগত থেকে তিনি আল্লামা আহমদ শফী ও ওলামায়ে কেরামের আলোকিত জীবনের ছটা হয়তো সহ্য করতে পারেননি, পারছেন না, তাই তাঁর এমন বিষোদগার।

এই বিষোদগার এ দেশের সিংভাগ জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস ও চেতনাকে আঘাত করেছে। মেনন আলেমদের বিষোদগার করেছেন কাদিয়ানিদের পক্ষাবলম্বন করে। ইতিপূর্বে আমরা তাঁকে দেখেছি কাদিয়ানিদের বিভিন্ন সভা-সমাবেশে অংশগ্রহণ করে তাদের পক্ষে কথা বলতে। এ থেকে পরিষ্কার হয়ে যায়, কাদিয়ানিদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে তিনি ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যারা সহজ সরল মুসলমানদের ঈমান ও বিশ্বাসকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলে দেওয়ার কাজে সদা নিয়োজিত।

রাশেদ খান মেনন আসলে কী চাইছেন জানি না, তবে একটা বিষয় পরিষ্কার, বাংলাদেশের চেতনা-বিরোধী গণবিচ্ছিন্ন এসব রাজনীতিবিদ উল্টাপাল্টা কথাবার্তা বলে আলোচনায় আসতে চান, সেটা অন্যকে অভদ্র ভাষায় তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে হলেও। এদের তো অন্যের সাহায্য ছাড়া এমপি হবারও মুরোদ নেই, তাই এভাবে আলোচনায় এসে গুরুত্বপূর্ণ হতে চায়। মন্ত্রিত্ব যে পায় তারা মাঝেমধ্যে, সেটাও অন্যের কাঁধে বন্ধুক রেখে।

সংসদের মতো স্থানে এ দেশের সিংহভাগ মানুষের বিশ্বাস ও চেতনার জায়গায় আঘাত দিয়ে বক্তব্যপ্রদানের দ্বারা প্রকারান্তরে সংসদ ও রাষ্ট্রীয় আইন লঙ্ঘন করেছেন মেনন। সরকারিভাবে তার বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থাগ্রহণ করে তাঁকে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি।

মুফতী ফয়জুল্লাহ : হেফাজতে ইসলামের অন্যতম শীর্ষ নেতা ও জামিয়া কুরআনিয়া লালবাগের মুহাদ্দিস

অনুলিখন : রাগিব রব্বানি

আগের সংবাদমেননের পর এবার রেলমন্ত্রীর ‘হিজাব’ নিয়ে কটূক্তি, ইসলাম-বিদ্বেষের শেষ কোথায়?
পরবর্তি সংবাদপাকিস্তান সীমান্তে ‘পাখির আঘাতে’ ভারতীয় যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত