
ফাতেহ ডেস্ক :
ছাত্রলীগের হামলায় আবরারের মৃত্যুর কাতর বর্ণনা দিলেন আবরারের রুমমেট আরাফাত ও মহিউদ্দিন। বুধবার আবরার হত্যার বিচার দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ চলাকালে মহিউদ্দিন জানান, আবরারকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা পিটিয়ে মুমূর্ষু অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়ার পর তিনি তাকে দেখেন কাতরানো অবস্থায়। আবরারকে কাতরানো অবস্থায় দেখার সময় এক ছাত্রলীগ নেতা বলছিলেন, ‘ও নাটক করতাছে।’
আরাফাত যখন আবরারকে দেখেন, তখন তার পুরো শরীর ঠাণ্ডা হয়ে গেছে। আরাফাত আফসোস করে বললেন, তিন-চার মিনিট আগে তিনি যদি সেখানে উপস্থিত হতে পারতেন, তা হলেও হয়তো আবরারকে বাঁচানো যেত।
আরাফাত বলেন, পড়া শেষে রাতে নিচে খাবার আনতে বেরিয়েছিলাম। তখনই দেখি তোশকের মধ্যে একজন পড়ে আছেন। তখনও আমার চিন্তায় আসেনি এ রকম হতে পারে। আমার ধারণা হয়েছিল, হয়তো কেউ মাথা ঘুরে পড়ে গেছে। খোদার কসম, এক সেকেন্ডের জন্যও মাথায় আসেনি এভাবে কাউকে মারা হতে পারে। যখন আবরারের হাত ধরি, তখন হাত পুরো ঠাণ্ডা, পা ঠাণ্ডা। শার্ট-প্যান্ট ভেজা। তোশক ভেজা। মুখ থেকে ফেনা বের হচ্ছে।
তখন ওকে বাঁচানোর জন্য বুকে চাপ দিই। হাতে চাপ দিই। আশপাশের সবাইকে বলি, কেউ একজন ডাক্তারকে ম্যানেজ কর। এর পর ডাক্তার এলো। ডাক্তার দেখে বললেন, ১৫ মিনিট আগেই সে (আবরার) মারা গেছে।’
নিষ্ঠুরতার বর্ণনা দিতে দিতে মহিউদ্দিন কান্নায় ভেঙে পড়েন। বলেন, ‘আমি ওরে বাঁচাইতে পারিনি। মাফ করে দিস, ভাই। আমারে সবাই মাফ কইরা দিস। আমি জীবিত দেইখাও ওরে বাঁচাইতে পারি নাই।
প্রতিহিংসামূলক হামলার শিকার হওয়ার শঙ্কায় নাম না প্রকাশ করে বুয়েটের এক শিক্ষার্থী বিবিসিকে বলেন, যে কক্ষে আবরারকে মারধর করা হয়, সেখানে রাত ২টা পর্যন্ত জীবিত ছিলেন আবরার। আমি আবরারকে ২০০৫ নম্বর কক্ষে দেখতে পাই, তখনো সে জীবিত। কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষার্থীকে সঙ্গে করে আমি তাকে সিঁড়ির কাছে নিয়ে যাই। তখনো সে জীবিত। সে বলছিল- ‘প্লিজ, আমাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে চলো’
ঘটনাস্থলে থাকা আরেক শিক্ষার্থী বলেছেন, আবরারকে বাঁচাতে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কয়েকজন শিক্ষার্থী হলের সহকারী প্রভোস্টের কক্ষে যান। তখন বাইরে থেকে ওই কক্ষের দরজায় ধাক্কাধাক্কি করছিল ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। তারা কক্ষে ঢোকার চেষ্টা করে।
