ফাতেহ ডেস্ক :
রোহিঙ্গা ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আদালতের বিচার মানতে মিয়ানমার বাধ্য বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম। এমনকি বিচারে অং সান সু চিসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে রায় হলে যেকোনো দেশ তাদের গ্রেফতার করতেও বাধ্য হবে বলেও জানান তিনি।
সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রয়োজনীয়তা’ বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি একথা বলেন। গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জমির।
শাহরিয়ার আলম বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) আদেশের পর মিয়ানমার ছাড়াও অনেক দেশের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে। রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিশ্বের অনেক দেশের দ্বান্দিক অবস্থান রয়েছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হতেই হবে। তবে রাতারাতি এ সংকটের সমাধান হবে না। সবচেয়ে বড় কথা হলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী অং সান সু চিকে বলেছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হলে এ অঞ্চল অস্থিতিশীল হবে।
গোলটেবিল বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহ্ কামাল বলেন, রোহিঙ্গাদের শুধু মিয়ানমার নয়, অন্য দেশে নেয়ার আহ্বান জানাতে হবে। প্রতিটি দেশ ৯ হাজার করে রোহিঙ্গা নিলে সমস্যা শেষ হয়ে যায়।
সাবেক নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, রোহিঙ্গা সংকট প্রচারে রোহিঙ্গাদের ভয়েস সৃষ্টি করতে হবে। এ জন্য রোহিঙ্গাদের সরাসরি যুক্ত করতে হবে। আমরা তো তাদের আইনজীবী নয়। রোহিঙ্গারা বললে বিশ্বে যতটা সাড়া দেবে ততটা বাংলাদেশ বললে দেবেনা।
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারকে জবাবদিহিতায় আনার বিষয়ে গাম্বিয়া আইসিসিতে মামলা করেছে। আর্জেন্টিনার কিছু মানবাধিকারকর্মী অং সান সু চির বিরুদ্ধে মামলা করেছে। অন্যদিকে যতক্ষণ পর্যন্ত চীনকে আমরা আমাদের পক্ষে আনতে না পারব ততক্ষণ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কঠিন হবে।
সাবেক পররাষ্ট্র সচিব শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, আইসিসি তদন্ত করার অনুমতি দিয়েছে। মিয়ানমার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। রাশিয়া ও চীন মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন একটি বিশাল ভূমিকা রাখতে পারে। চীন তার স্বার্থ যতদিন দেখবে ততদিন পর্যন্ত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য অপেক্ষাই করতে হবে। ভারতের কিছু রাজনীতিক আমাকে বলেছেন-ভারতের সঙ্গে মিয়ানমারের সামরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তারা সার্বভৌমত্বকেও ছাড় দেয়, যা বাংলাদেশের সঙ্গে হয়ে ওঠেনি। তাই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ায় রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে স্থানান্তরিত করা দরকার।
