আন্তর্জাতিক ডেস্ক :
রোহিঙ্গাদের গণবাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশ আসা এবং তাদের ওপর নিপীড়ন তদন্তের অনুমতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত (আইসিসি)। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নেদারল্যান্ডসের হেগে আইসিসির প্রাক-বিচারিক আদালত-৩ এক ঐতিহাসিক রায়ে ওই অনুমতি দেন। এর ফলে আইসিসির কৌঁসুলি তদন্ত শুরু করার সবুজ সংকেত পেলেন। আইসিসির বিচারিক প্রক্রিয়া বেশ দীর্ঘ হলেও রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় আশা দেখা দিয়েছে।
গতকালের রায়ে আইসিসি বলেছেন, ‘মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তজুড়ে জোরপূর্বক বহিষ্কারের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং ধারাবাহিক ও বড় পরিসরে সহিংসতা হয়েছে বলে বিশ্বাস করার মতো জোরালো ভিত্তি আছে।’
ওই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই আইসিসি রোহিঙ্গাদের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধসহ রোম সংবিধিতে বর্ণিত অন্যান্য অপরাধের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করার অনুমতি দিয়েছেন। মিয়ানমার আইসিসির সদস্য না হওয়ায় তার ওপর আইসিসির বিচারিক এখতিয়ার নেই। তবে বাংলাদেশ আইসিসির সদস্য। রোহিঙ্গারা গণবাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসার মধ্য দিয়ে জোরপূর্বক বহিষ্কার, দেশান্তরীকরণসহ বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। সেগুলোর বিচারিক এখতিয়ার আইসিসির আছে।
গত আগস্ট মাসে আইসিসির কৌঁসুলির দপ্তরের প্রতিনিধিরা সম্ভাব্য তদন্ত সামনে রেখে বাংলাদেশ সফর করেছেন। সে সময়ই বাংলাদেশে তাঁদের অফিস খোলার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এখন আইসিসি তদন্ত শুরু করার অনুমতি দেওয়ায় দ্রুত তদন্ত এবং তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আইসিসির কৌঁসুলি ফাতু বেনসুদা গত রাতে এক বিবৃতিতে তদন্ত শুরুর অনুমতিকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এটি মিয়ানমারসহ বিশ্বের অন্যত্র নৃশংস অপরাধের শিকার ও নিপীড়িতদের জন্য ইতিবাচক বার্তা। তিনি সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটনের অঙ্গীকার করেন।
আইসিসির কৌঁসুলি বলেন, আইসিসির এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে প্রমাণ হয়েছে যে ধর্মীয় বা নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ের কারণে রোহিঙ্গারা মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হয়েছে—এটি মনে করার মতো বিশ্বাসযোগ্য কারণ আছে।
