
বিশেষ প্রতিবেদক
চট্রগ্রামের লালখান মাদরাসার পরিচালক মুফতি ইজহারুল ইসলাম চৌধুরী দারুল উলুম দেওবন্দ এবং ওলামায়ে কেরামের বিপরীত অবস্থানে গিয়ে তাবলিগের বিতর্কিত মুরব্বি সাদ কান্ধলভির পক্ষাবলম্বন করায় সম্মিলিত কওমি শিক্ষাবোর্ড আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ মাদরাসাটির দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষা নেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। তবে লালখানের শিক্ষার্থীরা মুফতি ইজহারের মতাদর্শ লালন না করলে এবং পরীক্ষা দিতে চাইলে বিশেষ ব্যবস্থাপনায় তাদের পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরকে নিশ্চিত করেছেন বেফাকের একাধিক সিনিয়র কর্মকর্তা।
আজ (১৭ মার্চ রোববার) সকাল ১০টায় হাইআতের চেয়ারম্যান আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে রাজধানীর ফরিদাবাদ মাদরাসায় বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক থেকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
বৈঠকে অংশগ্রহণকারী হাইআতের সদস্য ও বেফাকের যুগ্মমহাসচিব মুফতি নুরুল আমীন ফাতেহ টোয়েন্টি ফোরকে জানান, মুফতি ইজহার তাবলিগের বিতর্কিত মুরব্বি সাদ কান্ধলভির পক্ষে অবস্থান নিয়ে দারুল উলুম দেওবন্দ এবং বাংলাদেশের হকপন্থী ওলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধাচারণ করেছেন। তাই তাঁর পরিচালিত মাদরাসা চট্টগ্রামের লালখান মাদরাসা থেকে হাইআতের দাওরায়ে হাদিসের পরীক্ষায় কেউ অংশগ্রহণ করতে পারবে না বলে আজকের মিটিংয়ে সবার সম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
তবে মাদরাসা পরিচালক ও কর্তৃপক্ষ যদি উলামায়ে কেরামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নিজেদের ভ্রান্ত অবস্থান ত্যাগ করতে সম্মত হন তবে পরবর্তীতে সেই আলোকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
হাইয়াতুল উলয়ার শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা এই সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, যেহেতু হাইয়াতুল উলয়ার আইনে বলা হয়েছে এই প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দের নিয়ম নীতির উপর অটুট থাকবে এবং দেশের উলামায়ে কেরাম তা পরিচালনা করবেন, তাই কোনো প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ ও উলামায়ে কেরামের অবস্থানের বিরুদ্ধাচারণ করলে তাদের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অবকাশ হাইয়াতুল উলয়ার আইনে রয়েছে।
বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন, আল্লামা আশরাফ আলী, আল্লামা আজহার আলী আনোয়ার শাহ, মুফতি রুহুল আমিন, মাওলানা মুহিব্বুল হক, মুফতী মোহাম্মদ ওয়াক্কাস, মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, অধ্যাপক মাওলানা যোবায়ের আহমদ চৌধুরী, মাওলানা মাহফুজুল হক, হাফিজ মাওলানা মুসলেহুদ্দীন রাজু, মুফতি মোহাম্মদ আলী, মাওলানা আনাস মাদানী প্রমুখ।
