শিক্ষকদের চোখে মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াসেল

রাগিব রব্বানি :

মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াসেল রহমতুল্লাহ আলায়হি ইসলামি আন্দোলন-সংগ্রামের মিডিয়া সমন্বয়ক এবং মুফতী আমিনী রহমতুল্লাহ আলায়হি’র প্রেস সচিব হিসেবে পরিচিত ছিলেন সর্বমহলে। কিন্তু এর বাইরে তাঁর আরও বড় পরিচয়, তিনি অমায়িক মনের একজন মানুষ, সদালাপী, ভদ্র এবং মেধাবী একজন আলেম ছিলেন। ছাত্রাবস্থায় ছিলেন আদর্শ ছাত্র। তাঁর দুই জমানার সম্মানিত দুই উসতাদ তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে বসে এমনটাই বলেছেন ফাতেহ টুয়েন্টি ফোরকে।

জামিয়া কুরআনিয়া আরাবিয়া লালবাগের প্রবীণ মুহাদ্দিস মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ বলেন, ওয়াসেল মেশকাত-দাওরা পড়েছে লালবাগে। দাওরার পর তাফসিরও পড়েছে। সেই সুবাদে আমি তাকে পড়িয়েছি। ছাত্রজীবনে অত্যন্ত মনযোগী, মেধাবী এবং উসতাদদের স্নেহের নজরে ছিল সে। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সেই সময় থেকেই তার সম্পৃক্তি ছিল, কিন্তু এ সম্পৃক্তি তার পড়াশোনার জন্য বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। বরং ক্লাসে অনেক মনযোগী একজন ছাত্র ছিল। পরবর্তীতে লালবাগের শিক্ষক হয়েছে, দীনি আরও নানা খেদমতের সাথে জড়িত হয়েছে, কিন্তু ইলমের সঙ্গে তার যোগাযোগ অবিচ্ছিন্ন ছিল সর্বদাই।

তিনি বলেন, এর বাইরে মুআদ্দাব, শিক্ষকদের সঙ্গে শ্রদ্ধাপূর্ণ সম্পর্ক, আচার-আচরণে অমায়িকতা ইত্যাদি গুণ দ্বারা মুরব্বিদের কাছে সে সুপরিচিত ছিল। সে আজ দুনিয়াতে নেই, হায়াত শেষ হয়ে যাবার কারণে চলে যেতে হয়েছে। অনেকে অকাল মৃত্যু বলে, এটা ঠিক না, অকাল মৃত্যু বলতে কিছু নেই। বরং আল্লাহ তাআলা তার জন্য যতদিন হায়াত লিখে রেখেছিলেন, সে আমাদের মাঝে ছিল, এখন চলে গেছে। এটা আল্লাহ পাকেরই ইচ্ছা। আল্লাহ পাকের ইচ্ছার উপর আমাদের সন্তুষ্ট থাকা জরুরি সর্বদা সববিষয়ে। আল্লাহ পাক তার পরকালীন জিন্দেগি উজালা করে দিন, এই দোআ করি।

লালবাগে আসার আগে জামিয়া নুরিয়া কামরাঙ্গীরচরে পড়েছেন মাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াসেল। একদম ছোটবেলা ভর্তি হয়েছিলেন সেখানে। মাওলানা আজিমুদ্দীন বাঁশবাড়িয়ার হুজুরের কাছে নাহবেমির পড়েছেন।

মরহুম শাগরেদের সেই ছোট্টকালের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে মাওলানা আজিমুদ্দীন বাঁশবাড়িয়ার হুজুর ফাতেহ টুয়েন্টি ফোরকে বলেন, একদম ছোটবেলা সে এসেছিল নুরিয়ায়। তার খালাতো ভাই শরীফ (মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ, লেখক ও সম্পাদক) এবং সে এসেছিল একসাথে। ছোটমানুষ। বাড়ির জন্য বোধহয় মনখারাপ লাগত প্রথম প্রথম। একদিন বিকালে দেখি ছাত্ররা সবাই মাঠে খেলতে গেছে আর সে মনখারাপ করে বসে আছে কামরায়। আমি তখন তাকে তার সহপাঠী যারা খেলছিল, তাদের সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছিলাম মনখারাপ দূর করতে। এই ঘটনাটা বড় হয়েও সে ভোলেনি। বিভিন্ন জায়গায় বক্তৃতায়, গল্পে বলত।

মাওলানা আজিমুদ্দীন বলেন, একজন উসতাদের চোখে তার শাগরেদ যেমন হওয়া উচিত, ওয়াসেল ছিল এরচেয়েও বেশি কিছু। আমি তাকে কেবল নাহবেমির পড়ালেও তার ছাত্রজমানা ও কর্মজীবনের বাকিটা সময় ধরে আমাদের সাথে সে নিয়মিত যোগাযোগ ও সম্পর্ক রেখেছে। তাই তার বিস্তারিত জীবনাচার সম্পর্কে মোটামুটি ওয়াকেবহাল ছিলাম আমরা। এই জায়গা থেকে বলতে পারি, ওয়াসেল ছাত্র হিসেবে যেমন একজন আদর্শ ছাত্র ছিল, উসতাদ হিসেবেও তেমন একজন আদর্শ উসতাদের নমুনা ছিল।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগত আচার-আচরণেও ছিল নিতান্ত বিনয়ী এবং সদালাপী। যে কাউকে আপন করে নেবার যোগ্যতা ছিল তার অসাধারণ। আমাদের রেখে সে হঠাৎ করেই চলে গেল, কিন্তু আল্লাহ তাআলার ফয়সালাই ছিল এমন। এখানে নিশ্চয় কোনো কল্যাণ নিহিত রয়েছে। আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রিয় এই ছাত্রকে জান্নাতের উঁচু মাকাম দান করুন, এই দোআ করি।

আগের সংবাদমাওলানা আহলুল্লাহ ওয়াসেল : মিডিয়ার সাথে তাঁর সস্পর্ক
পরবর্তি সংবাদওয়াসেল! তোমাকে ভুলতে পারছি না