শীর্ষস্থানীয় আলেমদের হজ বিষয়ক সেই ভাইরাল বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

শীর্ষস্থানীয় আলেমদের হজ বিষয়ক সেই ভাইরাল বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী

রাগিব রব্বানি :

সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ওলামা-মাশায়েখের একটি সম্মেলনে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আলহাজ শেখ মো. আবদুল্লাহ প্রদত্ত একটি বক্তব্যের অংশবিশেষ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। বক্তব্যে বিগত হজে শীর্ষস্থানীয় ৫৮ আলেমকে সরকারিভাবে হজে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ার কথা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন তিনি। কিন্তু তাঁর এ বক্তব্যের পর ব্যাপকভাবে অভিযোগ ওঠে যে, এ বক্তব্যের মাধ্যমে ওলামায়ে কেরামকে হেয় করা হয়েছে।

গত শুক্রবার থেকে বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেলে ধর্মীয় অঙ্গনে নানা রকম প্রতিক্রিয়ার জন্ম নেয়। আজ রোববার অবশেষে এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রী নিজেই।

ফাতেহ টুয়েন্টি ফোরের কাছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার আনোয়ার হোসাইন কর্তৃক প্রেরিত এক বিবৃতিতে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি দেশের ওলামা-মাশায়েখদের এক আলোচনা সভায় দেশের হক্কানি ওলামায়ে কেরামের হজে প্রেরণের ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে আমি স্বাধীনতা-বিরোধী জামাত-শিবির চক্রের প্রতি ইঙ্গিত করে একটি বক্তব্য প্রদান করি। আলিয়া মাদরাসা কিংবা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের কোনো আলেমকে হেয় করে বক্তব্য প্রদান আমার উদ্দেশ্য ছিল না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল ধারার হক্কানি ওলামায়ে কেরামের প্রতি আমার সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা ও সম্মান রয়েছে। তারপরও আমার বক্তব্যে কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’

বিবৃতিতে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এ বছর আমরা ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম দেশের সকল ধারার শীর্ষস্থানীয় ৫৮ জন হক্কানি ওলামায়ে কেরামের সমন্বয়ে হজ ওলামা-মাশায়েখ টিম গঠন করে পবিত্র হজে প্রেরণ করি। আমরা অত্যন্ত আন্তরিকতা এবং সম্মানের সাথে তাঁদের জন্য পবিত্র মক্কা, মিনা, আরাফা এবং মদিনা শরিফে আবাসন, পরিবহন, খাবারসহ হজের বিধি-বিধান পালনে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি।’

তিনি বলেন, ‘ওলামায়ে কেরামগণ পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরুর পূর্বে পবিত্র মক্কা শরিফে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে বাংলাদেশি হাজি সাহেবদের আবাসস্থলে গিয়ে সঠিকভাবে হজপালনে হজের বিধি-বিধানের উপর আলোচনা করেন। একইভাবে মিনা এবং আরাফাতে অবস্থানকালে বিভিন্ন তাঁবুতে গিয়ে তাঁরা বাংলাদেশি হাজি সাহেবদের পবিত্র হজের ইবাদতের বিষয়ে বয়ান করেন। বাংলাদশের সম্মানিত হাজি সাহেবগণ, ওলামায়ে কেরাম ও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বাংলাদেশি নাগরিকগণ সরকারের এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।’

আগের সংবাদসিরিয়া থেকে অন্য দেশ সেনা প্রত্যাহার না করলে আমরাও করব না : এরদোগান
পরবর্তি সংবাদবাবরি মসজিদ মামলার রায় যেভাবে দেখছে আন্তর্জাতিক সংবাদপত্র