
ফাতেহ ডেস্ক
উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়ায় সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (এলএনএ) দেশের পূর্বাঞ্চল থেকে রাজধানী ত্রিপোলির কাছে চলে এসেছে। যে কারণে দেশটির সাবেক সেনা কর্মকর্তা জেনারেল খলিফা হাফতার নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী এই সংগঠনটি সরকারি বাহিনীর প্রতিরোধের মুখে পড়েছে।
এতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কমপক্ষে ১২০ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক আহত হয়েছে। এমনটাই দাবি করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও)। তবে এতে নিহতরা সকলে সৈনিক না সাধারণ নাগরিক তা এখন স্পষ্ট করে জানায়নি সংস্থাটি।
সোমবার (১৫ এপ্রিল) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘আল-জাজিরা’ এক প্রতিবেদনে জানায়, চলমান সংকটে দেশটিতে ইতোমধ্যে মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ হাজারের বেশি বেসামরিক বাস্তুচ্যূত হয়েছেন।
জাতিসংঘের সমর্থিত ন্যাশনাল অ্যাকর্ডের (জিএনএ) সামরিক সূত্র জানায়, বিদ্রোহী লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মির (এলএনএ) সদস্যরা রাজধানীর ত্রিপোলির দক্ষিণ সীমান্তের নিয়ন্ত্রণে নিতে রবিবার সেখানে পৌঁছায়। আর সেখানে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে তাদের সেনাদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এলএনএ সূত্রের বরাতে ‘আল-জাজিরার’ প্রতিবেদক মাহমুদ আবদেলহেদ ত্রিপোলি থেকে বলেছেন, ‘জিএনএ সদস্যরা আকাশে টহলরত এলএনএ’র একটি যুদ্ধ বিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করেছে। যদিও বিমানটি ভূপাতিত হওয়ার সময় এর পাইলট প্যারাসুট ব্যবহার করে তাৎক্ষণিক পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।’
এদিকে সরকারি বাহিনীর দাবি, তারা আহত পাইলটের অনুসন্ধানে মাঠে নেমেছে। তবে এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ৪ এপ্রিল রাজধানীর নিয়ন্ত্রণ নিতে ত্রিপোলির দিকে যাত্রা শুরু করে বিরোধী হাফতার বাহিনীর সদস্যরা। তখন জাতিসংঘ সমর্থিত সেনারা বিরোধীদের দমনে বিমান হামলা শুরু করে। এতে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১২১ জন নিহত এবং ৫৬১ জন আহত হন।
ডব্লিউএইচও এও জানায়, চলমান সংঘর্ষে উভয় পক্ষই স্থানীয় বেসামরিকদের লক্ষ্য হামলা চালিয়েছে। এবারের সংঘর্ষের কারণে প্রায় ১৫ হাজারের বেশি লোক নিজেদের বাসস্থান ছেড়ে অন্যত্র পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
যদিও জাতিসংঘের কার্যনির্বাহী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনওএচএচএ) দাবি, এতে উল্লেখ যোগ্য সংখ্যা বেসামরিক এখনও সংঘাত প্রবল অঞ্চলে আটকা পড়ে আছেন।
