সাদপন্থীদের ইজতেমা : কেমন হয়েছে লোকসমাগম?

সাদপন্থীদের ইজতেমা : কেমন হয়েছে লোকসমাগম?

মুসান্না মেহবুব:

টঙ্গীর তুরাগ তীরে আজ রোববার আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়েছে তাবলিগের বিতর্কিত আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভির অনুসারীদের ইজতেমা। সাদপন্থীদের ইজতেমায় গত বছর লোকসমাগম খুব বেশি হয়নি, ময়দানের অনেকগুলো অংশই ফাঁকা পড়ে ছিল, সেই তুলনায় তাদের এ বছরের ইজতেমায় লোকসমাগম বেশি হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। তবে তাঁরা বলছেন, আলমি শুরা তাবলিগের ইজতেমায় যে জনস্রোত নেমেছিল তুরাগতীরে, সে রকম কোনো উপস্থিতি ছিল না তিনদিনের কোনো দিনই।

এদিকে সাদপন্থীদের মুখপত্র হিসেবে পরিচিত একটি অনলাইন পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন আইডি থেকে প্রথম দিন থেকেই দাবি করে আসা হয়েছে, ময়দানে তিল ধারণের ঠাঁই নেই। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন ভিন্ন কথা। ময়দানের উপস্থিতি পরিমাপের ব্যাপারে সাদপন্থীদের পক্ষ থেকে প্রচুর কড়াকড়ি ছিল বলে অভিযোগ করছেন তাঁরা।

তাঁদের ভাষ্যমতে আলমি শুরার ইজতেমায় ময়দান যেভাবে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল, সাদপন্থীদের ইজতেমায় উপস্থিতি সেভাবে ছিল না। সাদপন্থী কর্তৃপক্ষের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া ময়দানের ভেতরের ছবি প্রকাশ্যে ওঠাতে পারেননি কেউ।

টঙ্গীর স্থানীয় বাসিন্দা আবুল বাশার তিনদিনই বিভিন্ন সময় ময়দানে ঢুকেছেন। তিনি বলেন, ময়দানের ভেতরে সব জায়গায়ই মুসল্লিরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিলেন, তবে সেভাবে কোনো ভিড় ছিল না। ময়দানের ভেতরের রাস্তাগুলোতেও আলমি শুরার ইজতেমার মতো কোনো ধাক্কাধাক্কি ছিল না। তবে মোবাইল ক্যামেরায় প্রকাশ্যে ছবি বা ভিডিও করা যায়নি। ভলান্টিয়াররা তীব্রভাবে বাধা দিয়েছে।

মুহসেন আহমাদ নামে আরেকজন মাদরাসাছাত্র জানান, মাদরাসাছাত্রদের জন্য সাদপন্থীদের ইজতেমা মাঠে প্রবেশ একপ্রকার নিষিদ্ধই রাখা হয়েছে। ভলান্টিয়াররা যদি জানতে পারে কোনো মাদরাসাছাত্র এখানে প্রবেশ করেছে, তাহলে তাঁকে নানাভাবে হেনস্থা করা হয়। মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ময়দানের ভেতরের কোনো ছবি বা ভিডিও তোলা হয়েছে কি না তা চেক করা হয়।

মুহসেন জানান, এ তৎপরতাটা তাদের গত বছরও ছিল, এ বছরও ছিল। মুহসেনের মন্তব্য, লোকসমাগমের ব্যাপারে তারা (সাদপন্থীরা) বাইরে যেভাবে ‘প্রোপাগাণ্ডা’ ছড়ায়, বাস্তবে কিন্তু এতো লোকের সমাগম হয়নি। এখন কেউ যদি ভেতরের দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করে পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছেড়ে দেয়, তাহলে তাদের এ মিথ্যাচারিতা প্রকাশ পেয়ে যাবে, গত বছর যেভাবে প্রকাশ পেয়েছিল, তাই তারা এই কড়াকড়ি করে।

মুহসেনের এই মন্তব্যের বাস্তবতা পাওয়া যায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও থেকে। যেখানে দেখা যায়, একজন মাদরাসাছাত্র মাঠে প্রবেশ করার কারণে তাঁর ওপর হামলে পড়ছেন মাঠে অবস্থানরত সাদপন্থীদের উগ্র কয়েকজন সাথি। আজ রোববার মাদরাসাছাত্রকে নাজেহাল করার সেই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

আরও পড়ুন : সাদপন্থীদের ইজতেমায় ‘হেফাজতের জঙ্গি’ বলে মাদরাসাছাত্রকে নাজেহাল (ভিডিও)

দুই পক্ষের ইজতেমাতেই বইয়ের স্টল দিয়েছিলেন শাহরিয়ার হাসান। ফলে উভয় ইজতেমায় তাঁর শামিল হবার সুযোগ হয়েছে। সাদপন্থীদের ইজতেমায় লোকসমাগমের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, লোকসমাগম যে হয়নি তা বলা যাবে না, তবে আলমি শুরার ইজতেমার মতো নয়। আলমি শুরার ইজতেমার সময় ময়দান ভর্তি হয়ে আশপাশের এলাকাগুলোতে অবস্থান নিয়েছিলেন অসংখ্য মুসল্লি। চারপাশের রাস্তাগুলোও তিনদিনই ছিল লোকে লোকারণ্য। সাদপন্থীদের ইজতেমায় লোকসমাগম ঘটলেও আলমি শুরার ইজতেমার মতো জনস্রোত ছিল না। রাস্তা-ঘাট ফাঁকাই ছিল অনেকটা।

তিনি বলেন, তুলনামূলক পরিমাপ করতে বললে আমি বলব আলমি শুরার চার ভাগের একভাগ লোকসমাগম হয়েছে তাদের ইজতেমায়। আরও পরিস্কার করে যদি বলি তাহলে বলব, বিবাদের আগে ৩২ জেলার ইজতেমায় যে পরিমাণ লোক হতো, সে পরিমাণ বা তারচেয়ে কিছু কম ছিল সাদপন্থীদের ইজতেমার লোকসমাগম।

আগের সংবাদনিখোঁজ দুই মাদরাসাশিক্ষকের খোঁজ পাওয়া গেছে র‌্যাব-১১ এর কাছে
পরবর্তি সংবাদ‘ভারতের নাগরিকত্ব আইন সংশোধনের প্রয়োজন ছিল না’